পশ্চিমা ‘নিষেধাজ্ঞার জ্বর’ সারা বিশ্বকে আঘাত করছে

মস্কো, ০৭ সেপ্টেম্বর – রাশিয়াকে একঘরে করার নিরর্থক ও আগ্রাসী প্রচেষ্টায় দেয়া নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে বিশ্ব অর্থনীতির ক্ষতি করছে পশ্চিমারা। একই সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলো বিশ্বব্যাপী আধিপত্য রক্ষার প্রয়াসে তাদের নিজেদের জনগণসহ সবাইকে আঘাত করছে বলে দাবি করেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
রুশ বার্তা সংস্থা আরটি’র প্রতিবেনে এ তথ্য পাওয়া যায়।
বুধবার রাশিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় শহর ভ্লাদিভোস্টকে আয়োজিত ইস্টার্ন ইকোনমিক ফোরামের সম্মেলনে এসব মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
সম্মেলনে এক বক্তৃতার সময় পুতিন বলেন, বিশ্বব্যাপী পরিবর্তনের বিষয়ে ‘পশ্চিমা অভিজাতরা যারা বস্তুনিষ্ঠ তথ্য স্বীকার করবে না বা করতে পারবে না’ তাদের দ্বারাই বিশ্ব অর্থনৈতিক সংকটের সূত্রপাত হয়েছিল।
পুতিন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নেতারা এবং তাদের মিত্ররা এমন বিশ্বব্যবস্থা রক্ষা করতে চাইছে যা শুধুমাত্র তাদের উপকার করে। বিপরিতে যে দেশগুলি তাদের ইচ্ছার কাছে নত হতে চায় না তাদের আঘাত করে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্ররা। এক্ষেত্রে কেবল ভিন্নমতাবলম্বীদেরই নয়, তাদের নিজস্ব জাতিগুলিকেও আঘাত করে তারা।
ইউরোপীয় ইউনিয়নে ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতিকে সবচেয়ে বড় উদাহরণ হিসাবে উল্লেখ করেছেন রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট। তিনি উল্লেখ করেছেন, রাশিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে “ইইউ কর্তৃপক্ষ ইউরোপীয় ব্যবসায়গুলিকে প্রবেশযোগ্য কাঁচামাল, শক্তি এবং বাজার বন্ধ করে দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আমেরিকান স্বার্থের জন্য নিজেদের জীবনযাত্রার মান বলি দেয়া হচ্ছে।
পুতিন আরও বলেন, এটা কোন আশ্চর্যের কিছু হবে না যখন ইউরোপীয় ব্যবসার বাজারের শেয়ার, মহাদেশ এবং বিশ্বব্যাপী উভয়ই তাদের মার্কিন পৃষ্ঠপোষকদের দ্বারা পরিচালিত হবে।
এদিকে, রাশিয়া পশ্চিমা “নিষেধাজ্ঞার জ্বর” এবং অন্যান্য ধরণের অন্যায্য প্রতিযোগিতার লক্ষ্যবস্তু তুলনামূলকভাবে ভাল করছে বলে দাবি করেন পুতিন। দেশটিতে তুলনামূলকভাবে নিম্ন স্তরের মুদ্রাস্ফীতি বিরাজ করছে যা নিম্নগামী। রেকর্ড-নিম্ন বেকারত্ব এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার অন্যান্য কারণ হিসেবে মন্তব্য করেছেন তিনি।
তবে পুতিন স্বীকার করেছেন, রাশিয়ান ব্যবসা যেগুলি ইউরোপীয় ইউনিয়নের উপর নির্ভরশীল ছিল তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু তিনি দাবি করেন, সামগ্রিকভাবে পশ্চিমা ‘আগ্রাসন’ মোকাবেলা করতে পেরেছে রাশিয়া।
সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল
এম ইউ/০৭ সেপ্টেম্বর ২০২২









