জাতীয়

বিএনপি নেতাদের পাগলাগারদে পাঠালে মানুষ নিরাপদে থাকবে

ঢাকা, ০৭ সেপ্টেম্বর – সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেছেন, গত ১৩ বছরে বিএনপি আন্দোলন করেছে, সরকার বাধা দেয়নি। যখন-তখন তারা যা খুশি তাই বলেছেন, সেগুলো আমরা পাগলের প্রলাপ মনে করে কিছু বলিনি। কিন্তু পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে, এই পাগলদের বাধতে হবে। এদের পাবনা না পাঠানো পর্যন্ত মানুষ নিরাপদ না।
বুধবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা আকরম খাঁ হলে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, বিএনপি জানে নির্বাচনে এলে তাদের পরিণতি কী হবে। তাই তারা নির্বাচনে না গিয়ে জোরজবরদস্তি করে ক্ষমতায় যেতে চায়। এটা কী সম্ভব? ক্ষমতায় যাওয়ার একমাত্র উপায় হলো নির্বাচন। আপনারা যদি নির্বাচনে জয়লাভ করেন, তাহলে আমরা আপনাদের সালাম দিয়ে ক্ষমতা ছেড়ে দেব। আর যদি জোর করে ক্ষমতায় আসতে চাইলে আপনাদের ঘাড় ধরে বের করে দেব। এটা জোরের জায়গা না, সন্ত্রাসের জায়গা না। আপনারা পুলিশের ওপর আক্রমণ করবেন, তাদের খোচাবেন, ঢিল ছুড়বেন, বোমা মারবেন, তাহলে পুলিশ কি আঙুল চুষবে? পুলিশ তাদের কর্তব্য পালন করতে গিয়ে যা খুশি তাই করবে। মানুষের জানমাল রক্ষা করা তাদের পবিত্র দায়িত্ব।

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে বিএনপির বক্তব্যের বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভারতে গিয়েছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী এদেশে আসবেন, এটা তো রীতি। বিএনপি তো গত তিন দিন ধরে কত কথাই বললো। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তার কাজ ঠিকই আদায় করেছেন। শেখ হাসিনা দেন না, বরং আনেন। দেশের জনগণের জন্য যা দরকার, সেটিই তিনি করেন। এজন্য তিনি কারো সঙ্গে চুল পরিমাণ আপোষ করেন না।

বঙ্গবন্ধু একাডেমির সভাপতি শেখ ইকবাল খোকনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম মুরাদ, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামাল চৌধুরী, সাবেক সদস্য লিয়াকত আলী খান, জাসদের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, স্বদেশ বিচিত্রার সম্পাদক অশোক ধর, বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতির মহিলা সম্পাদক সাদিয়া শারমিন, বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার সারওয়ার হোসেন, বঙ্গবন্ধু একাডেমির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।

কামরুল ইসলাম বলেন, বিএনপি সবসময় পাকিস্তানি ধারায় রাজনীতি করেছে। স্বাধীনতা সংগ্রাম চলাকালে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী শেখ মুজিবুর রহমানসহ জাতীয় নেতাদের ভারতের এজেন্ট বলে আখ্যা দিয়েছে। একইভাবে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর পার্বত্য শান্তি চুক্তি করার সময় বিএনপি বলেছিল, ‘ফেনী পর্যন্ত ভারতের অধীনে চলে যাবে।’ এভাবে তারা সবসময় এদেশের মানুষকে ভারত জুজুর ভয় দেখিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এখনো তারা প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে মিথ্যাচার করে যাচ্ছেন। অথচ খেয়াল করলে দেখা যাবে, ভারতের কাছ থেকে যা কিছু আদায় করা গেছে, তা আওয়ামী লীগের আমলেই হয়েছে। এই সফরে প্রধানমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সাতটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন। তার এই সফর সর্বাত্মকভাবে সফল বলে আমরা মনে করি। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ এবং গণমাধ্যম এই সফরকে সফল হিসেবে আখ্যায়িত করলেও, বিএনপি নামের দলটি এই বিষয়ে অনবরত মিথ্যাচার করে যাচ্ছে।

সূত্র: সমকাল
এম ইউ/০৭ সেপ্টেম্বর ২০২২

Back to top button