ইউরোপ

রাশিয়া থেকে তেল আমদানি আরও বৃদ্ধি করেছে ভারত

মস্কো, ০৫ সেপ্টেম্বর – রাশিয়া থেকে জ্বালানী তেল আমদানি বৃদ্ধি করেছে ভারত। ব্লুমবার্গের প্রকাশিত এক রিপোর্টে এমনটাই জানানো হয়েছে। এতে শিপিং ডাটা তুলে ধরে জানানো হয়, গত আগস্ট মাসে ভারত রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বৃদ্ধি করেছে। মোট ৬টি ট্যাংকার রাশিয়ান এস্পো তেল নিয়ে ভারতে পৌঁছেছে এই সময়ে। এস্পোর মোট রপ্তানির পাঁচ ভাগের একভাগই যাচ্ছে ভারতে।

ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, রাশিয়া থেকে কম দামে তেল পাওয়ার কারণেই ভারত দেশটি থেকে তেল আমদানি বাড়িয়ে চলেছে। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে পশ্চিমা দেশগুলো রুশ তেলের ওপরে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রাখলেও ভারতকে বিশেষ ছাড় দেয়া হচ্ছে। এতদিন চীনই ছিল এস্পোর প্রধান আমদানিকারক দেশ। তবে এখন ভারতও সমানে তেল কিনছে সেখান থেকে।

ভারত মূলত মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল আমদানি করে। কিন্তু রাশিয়ার তেলের দাম এখন তুলনামূলক কম হওয়ায় আভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে রাশিয়ার দিকে ঝুঁকছে দেশটি। এতে দীর্ঘদিন ভারতকে ছাড় দিলেও এখন দেশটির ওপরে চাপ বাড়ছে।

কারণ রাশিয়ার জ্বালানির দাম কমানোর লক্ষ্যে এক হচ্ছে পশ্চিমা গোষ্ঠী। তাতে যোগ দিতে ভারতের ওপরও চাপ বাড়াচ্ছে ওয়াশিংটন। ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো বলছে, গত কয়েক মাস ধরে ধারাবাহিক ভাবে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ মোকাবিলা করেই মস্কো থেকে অশোধিত তেল কিনে চলেছে ভারত। কিন্তু এতে ভারত রুশ তেল আমদানিকারকের তালিকার প্রথম দিকে উঠে এসেছে। আর এতেই নড়েচড়ে বসেছে পশ্চিমারা। তবে ভারত বলছে, জ্বালানীর প্রশ্নে জাতীয় চাহিদার কথা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্য কোনও বিবেচনা কাজ করছে না।

তবে আন্তর্জাতিক কূটনীতির হিসাব অনুযায়ী ভারত কত দিন এই যুক্তি ধরে রাখতে পারবে, তা নিয়ে কিছুটা সংশয় রয়েছে। ভারত সফররত যুক্তরাষ্ট্রের রাজস্ব বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তা ওয়ালি অ্যাডিয়েমো ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সঙ্গে বৈঠক করে এই বিষয়টি নিয়ে চাপ দিয়েছেন। বৈঠকের পর তিনি বলেন, ভারতীয় নীতি নির্ধারকদের সঙ্গে কথা হয়েছে। রাশিয়া থেকে আমদানিকৃত তেলের উপর দামের ঊর্ধ্বসীমা বেঁধে দেয়া নিয়ে কথা বলেছি। তারা এই বিষয়ে আমাদের কাছে আরও জানতে চেয়েছেন। বিষয়টিতে তাদেরও আগ্রহ রয়েছে, কারণ ভারতও চায় কম দামে জ্বালানি। ভারতের লক্ষ্য তাদের বাণিজ্য এবং বিপুল চাহিদার মেটানো। আশা করি আমাদের লক্ষ্যের সঙ্গে ভারতের লক্ষ্য মিলে যাবে। আমরা চাই রাশিয়ার আয় কমাতে।

সূত্র: মানবজমিন
এম ইউ/০৫ সেপ্টেম্বর ২০২২

Back to top button