পশ্চিমবঙ্গ

গঙ্গার উপর নতুন সেতু হতে যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে

কলকাতা, ৪ সেপ্টেম্বর – সব ঠিক থাকলে হাওড়া ব্রিজ, দ্বিতীয় হুগলি সেতু, দ্বিতীয় বিবেকানন্দ সেতুর পর গঙ্গা-ভাগীরথীর উপরে আরেকটি সেতু পেতে চলেছে কলকাতা তথা ভারতের পশ্চিমবঙ্গ।

কেন্দ্রীয় বারাণসী-কলকাতা এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের আওতায় নতুন সেতুটি তৈরির ব্যাপারে প্রাথমিকভাবে সম্মতি দিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। আরো দু’টি বড় মাপের এক্সপ্রেসওয়ের (রক্সৌল-হলদিয়া, খড়্গপুর-মোড়গ্রাম) পরিকল্পনাও চূড়ান্ত করেছে ভারতের জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ।

সব মিলিয়ে সড়ক পরিকাঠামো খাতে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে অন্তত ৫০ হাজার কোটি টাকার সুবিধা পাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ এবং নতুন সেতু পাওয়া যাবে সেই সুবাদেই।

প্রতিটি প্রকল্পই আর্থিক করিডরের মর্যাদা পাচ্ছে এবং সেগুলোতে চার লেনের (৭০-৯০ মিটার চওড়া) সড়ক তৈরি করা হবে। ফলে জমির ব্যবস্থা করা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। এরই মধ্যে খড়্গপুর-মোড়গ্রামের জন্য জমি জোগাড়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

সড়ক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সব কেন্দ্রীয় প্রকল্প রাজ্য সরকারের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, তিনটি বড় পরিকাঠামো প্রকল্পের প্রায় পুরো টাকাই দেবে কেন্দ্রীয় সরকার। ফলে, জমির ব্যবস্থা করতে আগের মতো আর গড়িমসি হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।

বারাণসী-কলকাতা এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের পরিকল্পনা অনেক দিন আগেই করেছিল কেন্দ্র। আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বাগনানে ছয় নম্বর জাতীয় সড়ককের সঙ্গে মেশার কথা ছিল সেই এক্সপ্রেসওয়ের।

পশ্চিমবঙ্গের যুক্তি ছিল, বোম্বে রোডে মিশলে সেখান থেকে কলকাতামুখী যান চলাচল সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। সেই যুক্তিতেই হুগলি নদীর উপরে আরেকটি সেতুর প্রস্তাব দিয়েছিল রাজ্য।

চাহিদার বাস্তবতা বুঝে সেই প্রস্তাবে আপত্তি করেনি কেন্দ্রীয় সরকার। অনেক প্রশাসনিক পর্যবেক্ষকই মনে করছেন, কেন্দ্রের সঙ্গে ‘লড়াই’ বজায় রেখে আখেরে লাভ নেই পশ্চিমবঙ্গের। কারণ, রাজ্যের কোষাগারের হাল বেশ খারাপ। প্রবল আর্থিক বোঝা নিয়ে রাজ্যের পক্ষে এককভাবে পরিকাঠামো ক্ষেত্রে বিপুল বরাদ্দ করা কার্যত অসম্ভব।

এখনকার পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ৬২০ কিলোমিটার দীর্ঘ বারাণসী-কলকাতা এক্সপ্রেসওয়ে পুরুলিয়া দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ঢুকবে। পুরুলিয়া-বাঁকুড়া-পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল, গড়বেতা দিয়ে বোম্বে রোডে উলুবেড়িয়া-বাগনান হয়ে আসবে কলকাতার দিকে।

কলকাতার সঙ্গে এক্সপ্রেসওয়েটিকে যুক্ত করতে দ্বিতীয় হুগলি সেতুর দক্ষিণে বাটানগর-বজবজ-পুজালি বা বন্দরের কাছাকাছি সুবিধাজনক কোনো এলাকায় নতুন সেতু তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে রাজ্য সরকার।

প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, প্রাথমিকভাবে সেই প্রস্তাবে কেন্দ্রের আপত্তি নেই। সেক্ষেত্রে হুগলি নদী পেরিয়ে এক্সপ্রেসওয়েটি যুক্ত হবে ১১৭ নম্বর জাতীয় সড়ক (ডায়মন্ড হারবার রোড)-এর সঙ্গে।

প্রশাসনের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, কেন্দ্র প্রাথমিক সম্মতি দেওয়ায় এবার সবিস্তার প্রকল্প রিপোর্ট তৈরি হবে। তার ভিত্তিতেই চূড়ান্ত ছাড়পত্র দেবে কেন্দ্র। রাজ্যে নতুন সড়কের দৈর্ঘ্য হবে ২৭৫-২৯০ কিলোমিটার। এই প্রকল্পে রাজ্যে খরচ হবে প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা।

সড়ক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন বোম্বে রোড এবং দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ের গাড়ি একমাত্র কোনা একপ্রেসওয়ে দিয়ে কলকাতায় যাতায়াত করে। সেখানে গাড়ির সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে প্রবল যানজটে মানুষকে নাজেহাল হতে হচ্ছে। কয়েক বছরের মধ্যে বিকল্প সড়ক পরিকাঠামো তৈরি না-হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠবে। নতুন প্রকল্প রূপায়িত হলে কলকাতা থেকে বম্বে রোডে যাতায়াত করা গাড়িকে আর কোনা এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করতে হবে না।

এতে সময় আর খরচ দু’টিই কমবে। কমবে যানজটও। এক কর্মকর্তার কথায়, এরই মধ্যে কোনা এক্সপ্রেসওয়েতে এলিভেটেড বা উড়ালপথ পরিকাঠামো তৈরির প্রক্রিয়া চলছে। তাতে প্রায় ১৫০০ কোটি টাকা খরচ হবে। সেটির সঙ্গে নতুন প্রকল্প মানুষকে অনেক বেশি স্বস্তি দেবে।

সূত্র: কালের কন্ঠ
আইএ/ ৪ সেপ্টেম্বর ২০২২

Back to top button