সাহিত্য সংবাদ

হাসপাতালে হেলাল হাফিজকে দেখার কেউ নেই

‘আমাকে চিনতেই হবে, তাকালেই চিনবে আমাকে। আমাকে না চেনা মানে, মাটি আর মানুষের প্রেমের উপমা সেই, অনুপম যুদ্ধকে না চেনা। আমাকে না চেনা মানে, সকালের শিশির না চেনা, ঘাসফুল, রাজহাঁস, উদ্ভিদ না চেনা’—নির্দ্বিধায় একথা লিখতে পারেন যে কবি তিনি এখন একা। গুরুতর অসুস্থ হয়ে বারডেম হাসপাতালে ভর্তি কবি হেলাল হাফিজ। বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে চিকিৎসার জন্য তাকে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা হচ্ছে কিন্তু তাকে দেখাশোনা করার কেউ নেই।

চলচ্চিত্র নির্মাতা শবনম ফেরদৌসী কবিকে দেখে ফেরার সময় ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন, ‘নিউট্রন বোমা বোঝ, মানুষ বোঝ না’—এ কবিতার কবি হেলাল হাফিজ অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে। তিনি ‘মেজর ডিপ্রেসিভ ডিসঅর্ডার’ এ ভুগছেন। আনুষঙ্গিক অসুস্থতা তো আছেই। তার সঙ্গ প্রয়োজন। হাসপাতালে সঙ্গে থাকবার লোক প্রয়োজন। আশা করি তার ভক্ত ও সুহৃদরা সেই নিঃসঙ্গতা কিছুটা হলেও লাঘব করবেন।

যোগাযোগ করা হলে শবনম বলেন, শুক্রবার রাতে বারডেমের বারান্দায় থাকা একজনকে ভাড়া করে রাখা হয়েছিল কবির দেখভালের জন্য। এর চেয়ে দুর্ভাগ্য আর কী হতে পারে। উনার কথা বলার মানুষ দরকার। একাকীত্ব কাটানোর লোকের অভাব তো তার হওয়ার কথা না। যারা বন্ধু-স্বজন আছেন তাদের কেউ যদি পালা করে কেবিনে থাকতে পারেন তাহলে যেন এগিয়ে আসেন। একেবারে অপরিচিত কাউকে কেবিনে রেখে স্বস্তি হচ্ছে না।

সংস্কৃতিকর্মী নাসিরুদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু ঢাকার বাইরে। যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, হেলাল হাফিজ অনেকদিন ধরেই অসুস্থ। তার সঙ্গে হাসপাতালে থাকার মতো কেউ নেই সেটা জানলাম। আমি ঢাকায় যোগাযোগ করে দেখছি।

সংস্কৃতিকর্মী লায়লা আফরোজ বলেন, একজন জাতীয় কবির পাশে হাসপাতালে থাকবার লোকের অভাব হবে কেন? কবিদের একটি ফেডারেশন আছে তারা কী করছে?

জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি ড. মোহাম্মদ সামাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে জানান, তিনি নিজে করোনায় আক্রান্ত। কারও সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া সম্ভব কিনা প্রশ্নে তিনি বলেন, উনার বোন, আত্মীয়-স্বজন যুক্ত হলে ভালো। উনি তো আলাদা আলাদা থাকতেন। আমাদের সঙ্গে তেমন ধারাবাহিক যোগাযোগ নেই। আপনারা একটু পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। আমিও দেখি।

এম ইউ/০৩ সেপ্টেম্বর ২০২২

Back to top button