অন্যান্য

২৭ বছর পর টেনিসকে বিদায়’ই বলে দিলেন সেরেনা

ওয়াশিংটন, ০৩ সেপ্টেম্বর – সেরেনা উইলিয়ামস- টেনিসের কিংবদন্তি। জন্ম থেকেই যার কথা শুনে বড় হয়েছে গত দুই থেকে তিনটি প্রজন্ম। কিন্তু সেরেনাকে টেনিস র‌্যাকেট ছাড়তে দেখেনি কেউ। অবশেষে বিদায়ের সেই ক্ষণটা উপস্থিত হয়ে গেলো মার্কিন কৃষ্ণকলি, টেনিস খেলোয়াড় সেরেনা উইলিয়ামসের জীবনে। ২৭ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের পর অবশেষে টেনিসের র‌্যাকেট তুলে রাখার কথা ঘোষণা করলেন সেরেনা।

টেনিস খেলার জন্যই যেন তার জন্ম হয়েছিল। ১৯৯৯ সালে যে ইউএস ওপেন জিতে শুরু হয়েছিল সেরেনার গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়যাত্রা, সেই গ্র্যান্ড স্ল্যামেই শেষ ম্যাচটা খেললেন তিনি। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ঝুলিতে পুরলেন ২৩টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম (শুধু সিঙ্গলসে)।

রয়েছে অলিম্পিক সোনা। কৃষ্ণাঙ্গ বলে একসময় যার বাবাকে মার খেতে হয়েছিল, তার মেয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা উঁচু করেছেন বিশ্বের সামনে। সেই সেরেনা বিদায় জানালেন টেনিসকে।

শুক্রবার রাতে ইউএস ওপেনের দ্বিতীয় রাউন্ডে ফ্লাশিং মেডোয় ৪০ বছর বয়সী সেরেনা মুখোমুখি হয়েছিলেন ক্রোয়েশিয়ান টেনিস তারকা আজলা টমজালনোভিকের। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর ম্যাচে ৭-৫, ৬(৪)-৭(৭), ৬-১ সেটে হেরে যান সেরেনা। প্রথম দুই সেটে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বীতা গড়ে তুললেও শেষ সেটে দাঁড়াতেই পারেননি সেরেনা।

ম্যাচের পরই র‌্যাকেট তুলে রাখার ঘোষণা দেন সেরেনা এবং বিদায় বেলায় কথা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন ২৩টি গ্র্যান্ড স্লামজয়ী এই টেনিস তারকা।

ইউএস ওপেন শুরুর আগেই জানিয়েছিলেন, এটাই শেষ। চুলে সাদা বিডস পরা যে মেয়েটা ১৯৯৯ সালে জয় করে নিয়েছিলেন ইউএস ওপেন, ভাবা হয়েছিল এবার প্রথম ম্যাচেই বিদায় নেবেন তিনি। মঞ্চ তৈরি ছিল। মৃত্যুর আগেই কান্নার আয়োজন করে ফেলা হয়েছিল।
সেরেনার হার না মানা জেদ সেই আয়োজনে পানি ঢেলে দেয়।

ইউএস ওপেনের প্রথম রাউন্ড জিতে নেন তিনি। কিন্তু বিদায় ঘণ্টা বাজছিলই। বিশ্বের সাবেক এক নম্বর বিলি জিন কিং বলেন, ‘বিশ্বসেরা খেলোয়াড় হিসাবে বিদায় নেবে সেরেনা। তার ক্যারিয়ার একাধিক তরুণ খেলোয়াড়ের অনুপ্রেরণা। সে চ্যাম্পিয়ন। বিশ্বের দরবারে টেনিস খেলাকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।’

জন ম্যাকেনরো বলেন, ‘সেরেনা যা ইচ্ছা করে সেটাই করা উচিত। সে একজন বিগ্রহ। আমার মনে হয় তার আর খেলার প্রয়োজন নেই। এখনই সেরেনা মাইকেল জর্ডন, লেব্রোন জেমস এবং টম ব্র্যাডির জায়গায় পৌঁছে গেছে। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে খেলার ইতিহাসে সর্বকালের সেরার জায়গায় পৌঁছে গেছে সে। জীবনের সেরা জায়গায় রয়েছে সেরেনা। কেউ যদি ‘কিং রিচার্ড’ ছবিটি দেখে থাকে তা হলে বোঝা যাবে কোন জায়গা থেকে উঠে এসেছে সে। সেরেনা এখন যে জায়গায় আছে ও আরাম করে বাকি জীবনটা কাটাতে পারে। খারাপ নয়, কী বলেন?’

ব্রিটেনের সাবেক এক নম্বর তারকা গ্রেগ রুসেডস্কি মনে করেন মেয়েদের টেনিসকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন সেরেনা। তিনি বলেন, ‘সে বক্স অফিস। গত দুই দশকে নারীদের টেনিসকে এগিয়ে নিয়েছে সেরেনা। সঙ্গে ছিল তার বোন ভেনাস। আরও অনেক ভাল খেলোয়াড় অবশ্যই আছে। কিন্তু সেরেনা টেনিসপ্রেমী নন এমন দর্শকদেরও আকর্ষণের কারণ হয়ে উঠেছিল। টেনিস সম্পর্কে কেউ কিছু না জানলেও সেরেনা উইলিয়ামসের নাম জানে। সেরেনার অভাবটা বোঝা যাবে।’

২০২১ সালে ইউএস ওপেন জেতেন এমা রাডুকানু। তিনি বলেন, ‘সেরেনা খেলাটাই পাল্টে দিয়েছে। নারীদের টেনিসকে তার মতো কেউ প্রভাবিত করেনি।’

ফরাসি ওপেনের ফাইনালে উঠে হেরে যাওয়া কোকো গফ বলেন, ‘সেরেনা যে কীর্তি রেখে গেল, তা আমার মনে হয় না কেউ কোনও দিন ছুঁতে পারবে। তার কীর্তি অনেককে অনুপ্রেরণা দেবে।’

সেরেনা এবং ভেনাসের বাবাকে নিয়ে তৈরি ছবি ‘কিং রিচার্ড’। সেই ছবির শেষ দিকে সেরেনার বাবা রিচার্ড ছোট সেরেনাকে বলেন, ‘ভেনাস বিশ্বের এক নম্বর হবে; কিন্তু তুমি সর্বকালের সেরা হবে। আমার সব কিছু পরিকল্পনা করা আছে।’ রিচার্ডের সেই কথা যে সত্যি হয়েছে তা বলাই যায়।

সূত্র: জাগো নিউজ
এম ইউ/০৩ সেপ্টেম্বর ২০২২

Back to top button