আইন-আদালত

অগ্রণী ব্যাংকের ৩ কর্মকর্তার দুর্নীতি অনুসন্ধানের নথি তলব

ঢাকা, ০১ সেপ্টেম্বর – দুদকের সার্কুলার যথাযথ অনুসরণ না করে এবং সঠিকভাবে তদন্ত না করেই অগ্রণী ব্যাংকের ক্রেডিট ডিভিশনের প্রধান আব্দুস সালাম মোল্লাসহ তিন জনের দুর্নীতি অভিযোগ অনুসন্ধান কার্যক্রম সম্পন্ন ঘোষণার সিদ্ধান্তকে কেন অবৈধ ও বেআইনী ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট।

মো. আব্দুস সালাম মোল্লা ছাড়া বিবাদীরা হলেন-মো. আবুল কাশেম এবং মো. রাকিবুল ইসলাম।

একই সঙ্গে ২০১৯ সালের ১ আগস্ট পত্রিকায় প্রকাশিত অভিযোগের বিষয়ে মো. আব্দুস সালাম মোল্লা, মো. আবুল কাশেম এবং মো. রাকিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে পুনরায় তদন্ত করার কেন নির্দেশ দেয়া হবে না তা জানাতে চেয়েছেন অপর রুলে।

আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব, দুদকের চেয়ারম্যান ও দুদকের সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিনান্সিয়াল এন্টিলিজিন্স-এর প্রধান, অগ্রণী ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর, মো. আব্দুস সালাম মোল্লা, মো. আবুল কাশেম এবং মো. রাকিবুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টদের এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

একই সঙ্গে অনুসন্ধান ও অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া সংক্রন্ত দুদকের নথি তলব করেছেন আদালত। আদেশে দুদকের চেয়ারম্যান ও সচিবকে আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যে আদালতে মামলা সংক্রান্ত নথি দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন এবং ৬ নভেম্বর এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানি ও আদেশের দিন নির্ধারণ করেছেন। রিট আবেদনকারী জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন।

এ সংক্রান্ত বিষয়ে করা রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার এবং বিচারপতি খিজির হায়াত এর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

রীট পিটিশনারের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। তাকে সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট রিপন বাড়ৈ ও অ্যাডভোকেট সঞ্জয় মন্ডল। দুদকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট শাহীন আহমদ।

অগ্রণী ব্যাংকের ক্রিডিট ডিভিশনের প্রধান আব্দুস সালাম মোল্লার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানকে ৬/৭শ কোটি টাকা ঋণ বরাদ্দ করে তার মাধ্যমে অবৈধ ভাবে কমিশন আদায় করে বসুন্ধরা, গুলশান ও ধানমন্ডিসহ বিভিন্ন জায়গায় অনেক অবৈধ সম্পত্তি অর্জন করার বিষয়ে ব্যাংকের কর্মচারীরা দুদকে আবেদন করে। ওই আবেদনের উপর ভিত্তি করে দুদক অনুসন্ধান করে।

অনুসন্ধানকালে সংশ্লিষ্ট আব্দুস সালাম মোল্লা ও তার সহযোগী আবুল কাশেম ও রাকিবুল ইসলামের সম্পদ দুদকের ম্যানুয়াল অনুসারে অনুসন্ধান না করে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান জাবের ও জুবায়ের গ্রুপ, ডলি কনট্রাকশন, জজ মিয়া গ্রুপ এবং সোনালী টেক্সটাইল এর সম্পদের হিসাব অনুসন্ধান না করে তাদেরকে দায় মুক্তি দিয়ে কমিশন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

কমিশনের ওই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে জনস্বার্থে গত ২৯ আগস্ট রীট পিটিশন করা হয়। চট্টগ্রামের আনোয়ার হোসেনের পক্ষে একটি রীট পিটিশন দায়ের করার পর আদালতে এ বিষয়ে শুনানী অনুষ্ঠিত হয়।

শুনানি বাদী পক্ষের সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন বিভিন্ন ব্যাংকে জনগণের রক্ষিত অর্থ কিছু অসাধু কর্মচারী আইন কানুন না মেনে শত শত কোটি টাকা বিভিন্ন ভাবে প্রভাবিত হয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেয় এবং এ থেকে কমিশন নিয়ে দুর্নীতির মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার মালিক হয়।

ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকা স্বত্বেও শুধুমাত্র নামমাত্র অনুসন্ধান পরিচালনা করা হয়েছে, যা দুদুক ম্যানুয়াল-২০১৮ অনুযায়ী হয়নি। দুদক আইনে নির্দেশনা আছে সম্পত্তি অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, ব্যাংক, বীমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তা না করেই অনুসন্ধান কর্মকর্তার সুপারিশ অনুসারে দুদক সংশ্লিষ্টদের দায়মুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

রিটে বিবাদীরা হলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব, দুদকের চেয়ারম্যান ও দুদকের সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিনান্সিয়াল এন্টিলিজিন্স এর প্রধান, অগ্রণী ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. আব্দুস সালাম মোল্লা, মো. আবুল কাশেম এবং মো. রাকিবুল ইসলাম।

সূত্র: জাগোনিউজ
আইএ/ ০১ সেপ্টেম্বর ২০২২

Back to top button