জাতীয়

রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরাতে কানাডা সরকারের প্রতি সহযোগিতার আহ্বান

ঢাকা, ০১ সেপ্টেম্বর – মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে কানাডা সরকারকে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা।

বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে কানাডার উইমেন, পিস ও সিকিউরিটি অ্যাম্বাসেডর মিজ জ্যাকুলিন ও’নিলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ আহ্বান জানান তিনি।

এসময় মহামারি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জলবায়ু পরিবর্তন, সংঘাত ও যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নারী এবং শিশুর প্রতি নির্যাতন ও সহিংসতা প্রতিরোধে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন তারা।

প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা বলেন, যুদ্ধ ও সংঘাতময় সময়ে নারীর নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় ২০০০ সালের রেজুলেশন ১৩২৫ প্রণয়নে বাংলাদেশ সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে। যার উদ্দেশ্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সব নীতিমালা তৈরি, বিশ্লেষণ ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় নারীদের সম্পৃক্তকরণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীদের সম-অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। এরই আলোকে বাংলাদেশ নারীর শান্তি ও নিরাপত্তাবিষয়ক জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ২০১৯-২০২২ প্রনয়ণ করেছে। যা ১১ টি মন্ত্রণালয় বাস্তবায়ন করছে।

তিনি বলেন, মিয়ানমারের নির্যাতনের স্বীকার হয়ে সেদেশের প্রায় ১২ লাখ নাগরিক বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এদের উল্লেখযোগ্য অংশ নারী ও শিশু। এসময় প্রতিমন্ত্রী ইন্দিরা বাংলাদেশে অবস্থিত মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিকদের নিজ দেশ মিয়ানমারে নিরাপদে ফেরাতে সহযোগিতার জন্য কানাডা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে এদেশের নারীদের অসামান্য অবদান তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বীর নারী মুক্তিযোদ্ধারা সম্মুখযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং তারা স্বামী ও সন্তানদের যুদ্ধে পাঠিয়েছেন। তারা মুক্তিযোদ্ধাদের খাবার, আশ্রয় ও তথ্য পাঠিয়ে সাহায্য করেছেন এবং ২ লাখ নারী আত্মত্যাগ করেছেন। পাকিস্তানি বাহিনী দ্বারা ধর্ষিত ও নির্যাতনের স্বীকার হয়েছেন অনেক নারী। জাতির জনক যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত এসব নারীকে বীরাঙ্গনা নাম দেন এবং তাদের নিজের কন্যা ঘোষণা করে সামাজে মর্যাদাপূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধে নির্যাতিত নারীদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে আইন প্রণয়ন করেছেন।

মিজ জ্যাকুলিন ও’নিল বলেন, বাংলাদেশ নারী উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। বিশ্বব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এসময় তিনি আগামীতে উন্নয়ন, ক্ষমতায়ন এবং সুরক্ষায় বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

এসময় বাংলাদেশে ঢাকায় নিযুক্ত কানাডিয়ান হাইকমিশনার লিলি নিকোলস, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. হাসানুজ্জামান কল্লোল, অতিরিক্ত সচিব মো. মুহিবুজ্জামান, অ্যাম্বাসেডরের অ্যাডভাইজর কেট ফিয়ানডার ও কানাডা হাইকমিশনের কাউন্সেলর ব্রাডলি কোটস উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: জাগোনিউজ
আইএ/ ০১ সেপ্টেম্বর ২০২২

Back to top button