আইন-আদালত

ডেসটিনির মামলায় হারুনের জামিন বহাল

ঢাকা, ০১ সেপ্টেম্বর – গ্রাহকের অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের মামলায় দণ্ডিত ডেসটিনি গ্রুপের প্রেসিডেন্ট সাবেক সেনা প্রধান হারুন-অর-রশিদের জামিনে হস্তক্ষেপ করেননি আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।

তিন দিন আগে হারুনকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকের আবেদনে আজ বৃহস্পতিবার কোনো আদেশ দেননি বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম। ফলে জামিন বহাল আছে বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী রবিউল আলম বুদু। আদালতে দুদকের আবেদনে শুনানি করেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান।

এ আইনজীবী বলেন, ‘হাইকোর্টের আদেশের অনুলিপি পেলে জামিন বিরুদ্ধে লিভটু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করা হবে। ‘

গ্রাহকের অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের দায়ে ডেসটিনি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল আমীনকে ১২ বছর সাজা দেওয়া হলেও কম্পানির প্রেসিডেন্ট সাবেক সেনাপ্রধান হারুন-অর-রশিদসহ ৪৫ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ঢাকার চতুর্থ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শেখ নাজমুল আলম গত ১২ মে এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে দণ্ডিতদের ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা জরিমানাও করা হয়।

আইন অনুযায়ী অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের সর্বোচ্চ শাস্তি ১২ বছরের কারাদণ্ড। ডেসটিনির এমডি রফিকুল আমীনকে সেই দণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি ২০০ কোটি টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ৩ বছরের সাজা দেওয়া হলেও হারুন-অর-রশীদকে ৪ বছরের কারাদণ্ড এবং সাড়ে ৩ কোটি টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরো ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ৪ বছরের দণ্ড এ আইনে সর্বনিম্ন সাজা। এ রায়ের বিরুদ্ধে গত ৯ জুন হারুন-অর-রশিদের আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করলেও তাকে জামিন দেননি হাইকোর্ট।

পরে ৯ জুন সে জামিন আবেদনটি শুনানির জন্য ওঠে। সেদিন আদালত তাকে জামিন না দিয়ে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদন চান হাইকোর্ট। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) কর্তৃপক্ষকে ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। সে প্রতিবেদন দেখে গত ২৯ আগস্ট তাকে ৬ মাসের জামিন দেন হাইকোর্ট।

২০০০ সালে ডেসটিনি-২০০০ লিমিটেড নামে মাল্টিলেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) কম্পানি দিয়ে এই গ্রুপের যাত্রা শুরু। পরের বছরে বিমান পরিবহন, আবাসন, মিডিয়া, পাটকল, কোল্ড স্টোরেজ, বনায়নসহ বিভিন্ন খাতে ৩৪টি কম্পানিতে ডেসটিনির নামে হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়।

পরে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ৪ হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে এ কম্পানির বিরুদ্ধে।

এর মধ্যে মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভের নামে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ১ হাজার ৯০১ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছিল ডেসটিনি। সেখান থেকে ১ হাজার ৮৬১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়। তাতে সাড়ে ৮ লাখ বিনিয়োগকারী ক্ষতির মুখে পড়েন। এ অভিযোগে ২০১২ সালের ৩১ জুলাই কলাবাগান থানায় এ মামলা করে দুদক। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে গত ১২ মে এ মামলার রায় হয়।

সূত্র: কালের কণ্ঠ
এম ইউ/০১ সেপ্টেম্বর ২০২২

Back to top button