জাতীয়

স্বাস্থ্যের মহা দুর্নীতিবাজ আবজালের মামলার হাল হকিকত কী? দুদক কী বলছে?

ঢাকা, ১ সেপ্টেম্বর – স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহা দুর্নীতিবাজ আবজাল হোসেনের কথা মনে আছে? অস্থায়ী ভিত্তিতে অফিস সহকারী পদে দুই যুগ আগে কর্মজীবন শুরু করা আবজাল দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় কারাগারে বন্দি। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ- জ্ঞাত আয়-বহির্ভূতভাবে হাজার কোটির টাকার মালিক হয়েছেন।

ঠিকাদারি, টেন্ডার-বাণিজ্য, নিয়োগ-বাণিজ্য, বদলি, পদায়নসহ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রায় সব কাজই করতেন তিনি। অফিস সহকারী থেকে মেডিকেল এডুকেশন শাখার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা বনে যাওয়া আবজাল হোসেন চড়তেন কোটি টাকার হ্যারিযারে। অথচ তার সর্বসাকুল্যে বেতন ছিল ৩০ হাজার টাকা

আবজালের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বেশির ভাগের সত্যতা পেয়েছে দুদক। স্বাস্থ্যের আলোচিত ড্রাইভার মালেকের দুর্নীতিকেও হার মানিয়েছে সেটি। প্রভাব খাটিয়ে ১৯৯৮ সালে স্ত্রী রুবিনা খানমকেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শিক্ষা ও জনশক্তি উন্নয়ন শাখায় স্টেনোগ্রাফার হিসেবে চাকরির ব্যবস্থা করেন আবজাল।

স্ত্রীকে চাকরি দেওয়ার মাধ্যমে গল্পের এক নতুন প্লট তৈরি করেন আবজাল হোসেন। রাতারাতি স্বাস্থ্যখাতের টিকাদার বনে যান। তার স্ত্রী চাকরি পাওয়ার তিন বছরের মাথায় পুরোদমে স্বাস্থ্যখাতের ঠিকাদারি শুরু করেন। স্ত্রী রুবিনার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান রহমান ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গেই ব্যবসা শুরু হয়। ছোট-বড় সব ধরনের ঠিকাদারি করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

২০১৮ সালে আবজালের অনিয়মের অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। ২০১৯ সালে তলবি নোটিশের মাধ্যমে ওই বছরের ১০ জানুয়ারি সংস্থাটির জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হন স্বাস্থ্যের এই বরখাস্ত হওয়া হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয় স্ত্রীকে। এর তিন দিন পর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে এক চিঠির মাধ্যমে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়।

দুদক সূত্রে জানা যায়, আবজাল ও তার স্ত্রীর নামে ঢাকার উত্তরার বিভিন্ন সেক্টরে পাঁচটি বাড়ির সন্ধান পেয়েছে সংস্থাটি। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তার ২৪টি প্লট-ফ্ল্যাট রয়েছে বলেও দুদকের কাছে তথ্য রয়েছে। এ ছাড়া অস্ট্র্রেলিয়ার সিডনিতেও রয়েছে তার একটি বাড়ি।

আবজালের বিরুদ্ধে দুদকে আসা অভিযোগের সত্যতা থাকায় ২০১৯ সালে আদালতের নির্দেশে তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও জব্দ করা হয়। একই বছরের ২৬ এপ্রিল আবজাল ও তার স্ত্রীসহ দশজনের বিরুদ্ধে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের যন্ত্রপাতি কেনাকাটা বাবদ ৩৭ কোটি আত্মাসাতের অভিযোগে মামলা করে সংস্থাটি।

২০২০ সালে ২৬ আগস্ট আবজাল হোসেন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। গত দুই বছর ধরে কারাগারেই আছেন আবজাল হোসেন।

আবজাল হোসেনের বিরুদ্ধে হওয়া মামলার বাদী দুদকের উপপরিচালকের কাছে মামলার হাল হকিকত জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দুদকের মামলায় তিনি এখনো কারাগারে আছেন। তদন্ত শেষ হলে আমরা শিগগিরই মামলার চার্জশিট দেব।’

কতজনকে আসামি করা হচ্ছে জানতে চাইলে এসব বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি এই কর্মকর্তা। মামলাটি তদন্ত পর‌্যায়ে আছে বলে ঢাকাটাইমসকে জানান তিনি।

সূত্র: ঢাকাটাইমস
আইএ/ ১ সেপ্টেম্বর ২০২২

Back to top button