ইউরোপ

বিদ্যুতের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি রুখতে যে পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে ইউরোপ

লন্ডন, ১ সেপ্টেম্বর – ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রভাবে ইউরোপজুড়ে দেখা দিয়েছে তীব্র জ্বালানি সংকট। এই যুদ্ধের জের ধরে রাশিয়া থেকে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়ছে ইউরোপের অনেক দেশ। বিশেষ করে আসন্ন শীতের মাসগুলোতে ঘর গরম রাখতে বাড়তি চাহিদা মেটাতে প্রাণপণে বিকল্পের সন্ধান করছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নেতারা। শুধু বিদেশ থেকে আমদানির উপর নির্ভর না করে ইউরোপের নিজস্ব প্রাকৃতিক সম্পদ কাজে লাগানোর পক্ষেও মত দিয়েছেন অনেকে। গ্যাস, তেল ও বিদ্যুতের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে রাশ টানতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন পর্যায়েও জ্বালানি বাজারে হস্তক্ষেপের পরিকল্পনার খসড়া প্রস্তুত করা হচ্ছে।

মোটকথা আপাতত জ্বালানির মূল্যের ঊর্ধ্বসীমা স্থির করার জন্য চাপ দিচ্ছে ইউরোপের বেশ কিছু দেশ। বিশেষ করে গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যের মধ্যে প্রচলিত যোগসূত্র বিচ্ছিন্ন করার সময় এসে গেছে বলে শীর্ষ নেতারা মনে করছেন। কারণ প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করতে প্রয়োজনীয় শেষ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির স্থির করা মূল্যই সার্বিক মূল্য হিসেবে গণনা করা হয়। গ্যাসের চলমান ঘাটতির কারণে গ্যাসচালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো অস্বাভাবিক মূল্য স্থির করছে। এমন অবস্থায় সার্বিকভাবে ইউরোপীয় জ্বালানি বাজার সংস্কারের দীর্ঘ প্রক্রিয়ার জন্য অপেক্ষা না করে অবিলম্বে এমন পদক্ষেপের জন্য ডাক দিচ্ছে ফ্রান্স। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর ইইউ জ্বালানি মন্ত্রীদের সম্মেলনে এ বিষয়ে ঐকমত্যের আশা করা হচ্ছে।

২০২১ সালের শুরুর তুলনায় গ্যাসের মূল্য প্রায় ১২ গুণ বেড়ে যাওয়ায় জ্বালানি বাজারে হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে মতপার্থক্য ধীরে ধীরে দূর হচ্ছে। বিচ্ছিন্ন প্রচেষ্টার বদলে ইউরোপীয় স্তরে সমন্বিত উদ্যোগের পক্ষেও সমর্থন বাড়ছে।
মঙ্গলবার জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস স্পেন, বেলজিয়াম ও গ্রিসের সরকার প্রধানের সঙ্গে বৈঠকের পর ব্রাসেলসের উদ্দেশ্যে দ্রুত গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য বিচ্ছিন্ন করার ডাক দেন।

উল্লেখ্য, জার্মানিসহ কয়েকটি দেশ গত বছর অক্টোবর মাসে জ্বালানি বাজারে হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করেছিল। ইইউ কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেনও মঙ্গলবার ডেনমার্ক, পোল্যান্ড, ফিনল্যান্ড ও লাটভিয়ার সরকার প্রধানদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন।

ইউরোপের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ আরও তরান্বিত করতে স্পেন ও মধ্য ইউরোপের মধ্যে পাইপলাইন নির্মাণের প্রস্তাবও বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে। মঙ্গলবার স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেসের সঙ্গে বৈঠকের পর জার্মান চ্যান্সেলর শলৎস বলেন, পর্তুগাল, স্পেন ও ফ্রান্সের মধ্যে এমন পাইপলাইন গড়ে তুললে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী ভিত্তিতে সুবিধা হবে। ‘মিডক্যাট’ নামের প্রস্তাবিত প্রকল্পের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান শলৎস। তার মতে, বর্তমান সংকটের আলোকে ইউরোপীয় স্তরে জ্বালানির ক্ষেত্রে সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত স্পষ্ট করে দিয়েছে। সানচেস শলৎসকে সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ফ্রান্স এই প্রকল্প সম্পর্কে তেমন উৎসাহ না দেখালে প্রয়োজনে ইতালির মধ্য দিয়েও পাইপলাইন বসানো যেতে পারে।

উল্লেখ্য, স্পেনে বর্তমানে ছয়টি এলএনজি টার্মিনাল থাকায় দেশটি উদ্বৃত্ত গ্যাস রফতানি করতে পারে।

সূত্র: বিডি প্রতিদিন
আইএ/ ১ সেপ্টেম্বর ২০২২

Back to top button