জাতীয়

টিপ কাণ্ডের সেই পুলিশ সদস্য স্ত্রী সন্তান নিয়ে রাস্তায়

ঢাকা, ৩১ আগস্ট – রাজধানীর ফার্মগেটে টিপ পরা নিয়ে নারীকে হেনস্তার ঘটনায় চাকরিচ্যুত পুলিশ সদস্য নাজমুল তারেক। চাকরি ফিরে পাওয়ার দাবিতে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন তিনি। ওই ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে তার সম্পূর্ণ সিসিটিভি ফুটেজ প্রচারের দাবি জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনার অপরাধে লতা সমাদ্দারের বিচার চান। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ব্যানার হাতে এসব দাবি জানান তিনি। এ সময় তিনি সেদিনের পুরো ঘটনারও বর্ণনা দেন। নাজমুল তারেক বলেন, আমি সেদিন বাসা থেকে সকাল ৮টার দিকে বের হয়েছিলাম। সেজান পয়েন্ট হয়ে আনন্দ সিনেমা হলের রাস্তার দিকে যাচ্ছি। ওইদিন সরকারি নিয়োগ পরীক্ষা ছিল বলে রাস্তায় অনেক জ্যাম থাকায় আমি উল্টো রাস্তা দিয়ে আসছিলাম। উল্টো রাস্তায় আসার জন্য আমি দেশের মানুষের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।

আমি যখন আসছিলাম তখন অপরদিক থেকে এক নারীও আসছিলেন। আমি তাকে চিনি না। তিনি মোবাইলে কথা বলতে বলতে আসছিলেন। তখন সময় ছিল সাড়ে ৮টা থেকে ৮টা ৪০ মিনিট। তিনি যখন যাচ্ছিলেন, তখন আমার মোটরসাইকেলের সঙ্গে তার ধাক্কা লাগে। তখন আমি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও প্রোটেকশন বিভাগে কর্মরত এবং পুলিশের পোশাক পরা ছিলাম। তখন প্রথম ধাক্কাতেই ওই নারী প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আমাকে বলেন, ‘এই বাস্টার্ড, তুই কি উল্টা যেতে পারিস’। তিনি আরও বলেন, আসলে একজন মানুষ যখন দেখেন পুলিশ উল্টো রাস্তায় যায়, তখন প্রতিক্রিয়া জানানোই স্বাভাবিক। তিনি যখন উত্তেজিত হলেন, তখন আমি তাকে বলি ‘ম্যাডাম সরি’। আসলে আমি আপনার সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলতে চাচ্ছি না।

একথা বলে যখন আমি আমার বাইক নিয়ে সামনের দিকে যাই, তখনও উনি আমার সঙ্গে চিল্লাপাল্লা করেন। তিনি তখন আমাকে বলেন, তুই কি বাইক নিয়ে উল্টো যেতে পারিস। তোকে দেখতে জামায়াতির মতো লাগে। তোকে দেখলে জঙ্গির মতো মনে হয়। এ রকম বিভিন্ন অযৌক্তিক কথা বলেন তিনি। একপর্যায়ে আমি সামনে এগিয়ে যাই। যদিও উনি মিডিয়ায় বলেছিলেন আমি নাকি দাঁড়িয়ে ছিলাম। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। রাস্তায় উল্টো গেলে তো দাঁড়িয়ে থাকার সুযোগ নেই। সোজা চলতে হয়। আমি যখন চলে যাচ্ছিলাম তিনি তখন আমার ইউনিফর্ম ধরে টান দিয়ে আমাকে ফেলে দেন। আমি প্রমাণ ছাড়া কথা বলছি না। আমার ঘটনাস্থলে সাক্ষী আছে। যখন তিনি আমাকে ফেলে দেন তখন আমার ‘ইমোশনালে’ লেগেছে। একজন পুলিশ সদস্য কতটা অসহায় যে একজন পাবলিক তাকে ফেলে দিলো। যখন লতা সমাদ্দারের সঙ্গে আমার কিছুটা কথা হয় তখন বাকবিতণ্ডার পর্যায়ে যাওয়ার আগেই আমি ঘটনাস্থল ত্যাগ করি। পরে আমার অন্যান্য সহকর্মী পুলিশের যখন ডিউটি শেষ হয় তখন আমি ডিউটিতে যোগ দেই।

পরে বিভিন্ন মিডিয়ায় জানতে পারি ‘রাজধানীতে টিপ পরা নিয়ে শিক্ষিকা লতা সমাদ্দার পুলিশের হেনস্তার শিকার।’ আসলে তিনি যে আমাকে ফেলে দিয়েছেন তাতে একটা অপরাধ করেছেন। সেই অপরাধ থেকে বাঁচার জন্য আমার বিরুদ্ধে টিপকাণ্ড ছড়িয়েছেন। আপনারা জানেন যে, তিনি মিডিয়া অ্যান্ড থিয়েটারের শিক্ষিকা। তিনি জানেন যে, কোথায় কোন নাটকটা করতে হয়। আমি অবশ্যই তার বিচার চাই। ওই ঘটনার প্রমাণ প্রসঙ্গে নাজমুল বলেন, তদন্ত কমিটি প্রথম রিপোর্ট দেয় যে, টিপ বিষয়ে কটূক্তির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পরে যখন বিভাগীয় মামলা রুজু হয়েছে তখন এডিশনাল এসপি রহিমা আক্তার লাকী স্যার লিখেছেন, মোটরসাইকেল যাওয়ার সময় পথে লতা সমাদ্দারের সঙ্গে অরুচি শব্দ ব্যবহার করলে বাকবিতণ্ডার ঘটনার ভিডিওটি মিডিয়ায় প্রচার হলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ হয়। অথচ ঘটনাস্থলে আমি যে বাইকে যাচ্ছি, সেটি দেখা গেছে। তাতে প্রমাণ হয় না যে, আমি অপরাধী। কারণ, আইনে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে কাউকে অপরাধী বলতে হবে। আমার সিসি ক্যামেরায় কথা না আসুক। কিন্তু ওই সময়ে আমাদের কথা বলার বডি ল্যাংগুয়েজেও বোঝা যায় যে আমি বাকবিতণ্ডা করছি কি না।

এমন কোনো ফুটেজ আমিও দেখিনি। গণমাধ্যমকে আমার অনুরোধ আপনারা যদি পেয়ে থাকেন এমন ভিডিও, তাহলে প্রকাশ করেন। সেটা মিডিয়ার মাধ্যমে সত্যতা প্রচার হোক। অপরাধী হয়ে আমার চাকরি গেলেও আমার দঃখ নেই। এ সময় নাজমুল তারেকের স্ত্রী বলেন, মিথ্যা অপবাদে আমার স্বামীর চাকরি খেয়ে দিলো। এটা কি প্রধানমন্ত্রী দেখছেন না? আমি দেড় মাসের সন্তান নিয়ে রাস্তায় নেমেছি। পুরো পরিবারটা আমাকে চালাতে হয়। এখন আমার স্বামী কী করে খাবেন। সংসার কীভাবে চালাবেন। আমার একটাই দাবি, সত্য প্রকাশ হোক। যদি আমার স্বামী অপরাধী হয় তবে সঠিক তদন্ত করে তার বিচার হোক। উল্লেখ্য, ২রা এপ্রিল রাজধানীর গ্রীন রোডের বাসা থেকে কলেজে যাওয়ার পথে হেনস্তার শিকার হন তেজগাঁও কলেজের থিয়েটার অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক ড. লতা সমাদ্দার। এ ঘটনায় ওইদিনই তিনি শেরেবাংলা নগর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। এর ভিত্তিতে ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে কনস্টেবল নাজমুল তারেককে শনাক্ত করে পুলিশের তেজগাঁও বিভাগ। তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও প্রোটেকশন বিভাগে কর্মরত ছিলেন।

সূত্র: নতুন সময়
এম ইউ/৩১ আগস্ট ২০২২

Back to top button