অপরাধ

রাজধানীতে ৪ পোষা কুকুর খাচ্ছিল যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ডায়নার মরদেহ

ঢাকা, ৩১ আগস্ট – হত্যাকাণ্ডের শিকার যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী মাকসুদুর রহমান খান ওরফে ডায়না তৃতীয় লিঙ্গের। তিনি আমেরিকা-বাংলাদেশের দ্বৈত নাগরিক। ঢাকার যাত্রাবাড়ীর গোলাপবাগে নিজ বাসায় একাই থাকতেন। তার বাসায় ফুট-ফরমায়েশের কাজ করতেন শোয়েব আক্তার লাদেন। কাজের সুবাদে লাদেনের সঙ্গে ডায়নার শারীরিক সম্পর্ক গড়ে উঠে। তারা প্রায়ই শারীরিক সম্পর্ক করতেন। এভাবে কেটে যায় প্রায় দুই বছর। এরইমধ্যে আসামি লাদেন বিয়ে করেন। এই কথা শুনে ক্ষিপ্ত হন ডায়না। পরে নিজের কুকর্ম চরিতার্থ করতে গিয়ে ও প্রতিশোধ নিতে লাদেনকে শারীরিক সম্পর্কের কথা বলে বাসায় ডেকে নিয়ে আসেন।

একপর্যায়ে ডায়না লাদেনের গোপনাঙ্গে কামড়ে ধরেন। নিজেকে বাঁচাতে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে ডায়নাকে হত্যা করেন লাদেন। পরে মরদেহ ডায়নার লাশ ঘরে রেখে পালিয়ে যান। হত্যার ১১ দিন পর্যন্ত ঘরে পড়ে থাকায় মরদেহ গলে পচা দুর্গন্ধ বের হয়। পরে খবর পেয়ে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশ বাসায় এসে দেখে- ডায়নার ৪টি ক্ষুধার্ত পোষা কুকুর তারই মরদেহের মাংস খাচ্ছিল।

বুধবার সকালে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা মহানগর ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার জিয়াউল আহসান তালুকদার। এসময় ওয়ারী বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) এসএম জাহাঙ্গীর হাসান, এডিসি মিডিয়া হাফিজ আল আসাদ ও সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) রবিউল উপস্থিত ছিলেন।

জিয়াউল আহসান বলেন, ওই হত্যাকাণ্ডের কিছুদিন আগে লাদেন বিয়ে করেন। বিয়ের পরও লাদেন ও ভুক্তভোগী ডায়নার মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক চলতে থাকে। কিন্তু লাদেনের এই বিয়ে ও নতুন জীবনকে ডায়না কিছুতেই মেনে নিতে পারছিল না। এতেই এই হত্যাকাণ্ড।

ডিসি বলেন, গত ২৭শে আগস্ট বিকালে স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে জানা যায় যাত্রাবাড়ী থানাধীন গোলাপবাগের একটি বাসায় একজন ব্যক্তির গলিত লাশ পড়ে আছে। ওই সংবাদের ভিত্তিতে যাত্রাবাড়ী থানার মোবাইল টিম ও ওয়ারী বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা গিয়ে লাশ উদ্ধার করেন। পরে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। ওই ঘটনায় গত ২৯শে আগস্ট রাতে শেরপুর নালিতাবাড়ির সীমান্তবর্তী একটি গ্রামে বিশেষ অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি শোয়েব আক্তার ওরফে লাদেনকে গ্রেপ্তার করে ওয়ারী বিভাগ। এসময় তার কাছে থেকে ডায়নার দুটি মোবাইল ফোন, হত্যার কাজে ব্যবহৃত হাতুড়ি ও যৌন উত্তেজক ওষুধ উদ্ধার করা হয়।

তদন্তে জানা যায়, ভুক্তভোগী ডায়না একজন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ ও সমকামী ছিলেন। তিনি তার নিজ বাসায় একাই থাকতেন। তার বাসায় ৪টি পোষা কুকুর ছিল। তিনি সমাজের কারো সঙ্গে মিশতেন না। তবে কিছু তরুণ বয়সী ছেলে তার ওই বাসায় মাঝে-মধ্যে আসা যাওয়া করতো। লাদেন ভুক্তভোগীর বাসায় মাঝে মাঝে ফুট-ফরমায়েশের কাজ করতেন এবং এর বিনিময়ে টাকা পেতেন। হত্যাকাণ্ডের কিছু দিন আগে লাদেন বিয়ে করেন। ভুক্তভোগী লাদেনের বিবাহিত জীবনকে ধ্বংস করতে সুযোগ খুঁজছিল ডায়না। অন্যদিকে লাদেনও চাইত ডায়নার সঙ্গে সম্পর্ক শেষ করে মুক্ত জীবনে ফিরতে।

গত ১৬ই আগস্ট ভুক্তভোগী মাকসুদুর রহমান ডায়না গ্রেপ্তারকৃত লাদেনকে তার গোলাপবাগের বাসায় ডেকে নিয়ে যায় এবং অবৈধ শারীরিক সম্পর্ক করে। শারীরিক সম্পর্কের একপর্যায়ে গোপনাঙ্গ কামড়ে ধরলে লাদেন বাসার টেবিলে থাকা হাতুড়ি দিয়ে ডায়নার মাথায় আঘাত করে। এতে ডায়না রক্তাক্ত অবস্থায় অচেতন হয়ে বিছানায় পড়ে থাকে। কিছুক্ষণ পরেই মৃত্যু হয় তার। এসময় লাদেন দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে বের হয়ে বন্ধ মূল ফটক টপকে পালিয়ে যায়। ওই ঘটনার ১০ দিন পর পুলিশ তার গলিত মরদেহ উদ্ধার করে। এসময় দেখা যায় ভুক্তভোগী ডায়নার মরদেহ তার পোষা কুকুরে খাচ্ছে। ওই ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামি বর্তমানে জেলহাজতে আছে।

সূত্র: নতুন সময়
এম ইউ/৩১ আগস্ট ২০২২

Back to top button