ইসলাম

বিশ্বব্যাপী যেভাবে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের সূচনা

মাইমুনা আক্তার

পৃথিবীতে ক্রমবর্ধমান ব্যাংকিং ব্যবস্থা হলো ইসলামী ব্যাংকিং। বিশ্বব্যাপী দিন দিন এর জনপ্রিয়তা বাড়ছে। মুসলিম দেশের পাশাপাশি অমুসলিম দেশগুলোও এই ব্যাংকিং ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছে। সামপ্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুসলিম ও অমুসলিম উভয় দেশেরই শরিয়াহ-সম্মত পুঁজির প্রতি ক্রমবর্ধমান আগ্রহের কারণে বিশ্বব্যাপী ইসলামী অর্থ বাজার ২০২৪ সালের মধ্যে ৩.৬৯ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা আছে।

(অ্যারাবিয়ান বিজনেস ডটকম)
আশা করা যায়, সঠিক পদ্ধতিতে পরিচালনা সম্ভব হলে ইসলামী ব্যাংক বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক বিপ্লব ঘটাতে সক্ষম হবে। বিশ্বে ব্যাংকিং সেবায় ইসলামী অর্থনীতির চর্চার ইতিহাস খুব বেশি পুরনো নয়। বিংশ শতকের মাঝামাঝি সময় বিশ্বে ইসলামের নবজাগরণের সূচনা হলে মুসলানদের মাঝে সুদমুক্ত অর্থব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভূত হয়। কেননা সুদ ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম। মহানবী (সা.) সুদে জড়িতদের অভিসম্পাত করেছেন। তাই বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের মাঝে সুদি ব্যাংকের বিকল্প ইসলামী ব্যাংকিং সেবা চালুর চিন্তা শুরু হয়। সে চিন্তার বহিঃপ্রকাশস্বরূপ মিসরের অধিবাসী আল্লামা আহমেদ আল-নাগগারের প্রদত্ত রূপরেখার ওপর ভিত্তি করে ১৯৬০ সালে মিসরের মিটগামারে সেভিংস ব্যাংক নামে বিশ্বের সর্বপ্রথম ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়। অবশ্য এর আগে ১৯৫০ সালের শেষ দিকে পল্লী এলাকায় একটি স্থানীয় ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পাকিস্তানে প্রথম একটি ইসলামিক অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রচেষ্টা শুরু হয়। কিন্তু নানা প্রতিকূলতার দরুন তা আলোর মুখ দেখেনি।

১৯৬৩-১৯৬৭ সাল পর্যন্ত মোট ৯টি প্রতিষ্ঠান ইসলামী পদ্ধতির আলোকে মিসরে ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করে। এসব ব্যাংক বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে ও ব্যাংকিং কার্যক্রমের ক্ষেত্রে যথেষ্ট সফলতা লাভ করলেও রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তনের কারণে প্রকল্পটি ব্যর্থতার সম্মুখীন হয়। ১৯৭২ সালে পুনরায় নাসের সোশ্যাল ব্যাংক নামে অন্য একটি প্রতিষ্ঠান মিসরে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের কার্যক্রম শুরু করে। এ সময় অনেক রাষ্ট্রপ্রধানই মুসলিম বিশ্বের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য পৃথক ব্যাংকব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করতে থাকেন। ফলে ১৯৭৪ সালে ইসলামী সম্মেলন সংস্থা ওআইসির জিদ্দায় অনুষ্ঠিত পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে এতদসংক্রান্ত রিপোর্টের ওপর পর্যালোচনার পর ইসলামী নীতিমালার আলোকে একটি পৃথক ব্যাংক প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ফলে ১৯৭৫ সালে ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক ‘আইডিবি’ প্রতিষ্ঠা লাভ করে। আইডিবির প্রধান লক্ষ্য ছিল মুসলিম দেশগুলোর মাঝে জোরালো অর্থনৈতিক বন্ধন সৃষ্টি করা, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে ইসলামী নীতািমালার বাস্তবায়ন করা, মুসলিম দেশগুলোর অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে কাজ করা। আইডিবির প্রচেষ্টায় মুসলিম দেশগুলোতে সুদমুক্ত ব্যাংক প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ব্যাপক সাড়া জাগে এবং দেশে দেশে ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠার ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়। এর ফলে ১৯৭৫ সালে দুবাইয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় দুবাই ইসলামী ব্যাংক, ১৯৭৭ সালে কুয়েতে প্রতিষ্ঠিত হয় কুয়েত ফাইন্যান্স হাউস সুদানে প্রতিষ্ঠিত হয় ফয়সাল ইসলামী ব্যাংক এবং মিসরেও প্রতিষ্ঠিত হয় ফয়সাল ইসলামী ব্যাংক। ১৯৭৮ সালে জর্দানে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘জর্দান ইসলামী ব্যাংক ফর ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট। ১৯৭৮ সালে পাকিস্তান সরকার পাকিস্তানের সব ব্যাংককে সুদমুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করে। বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ২৪৩টি ইসলামী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সুদমুক্ত অর্থ লেনদেনের কার্যক্রম আঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছে।

আইএ

Back to top button