জাতীয়

উদ্বেগের কথা ঢাকায় বলে গেছেন মিশেল

ঢাকা, ৩১ আগস্ট – মানবাধিকার নিয়ে জাতিসংঘের উদ্বেগের জায়গায় নেই বাংলাদেশ—বিভিন্ন গণমাধ্যমে এমন খবরকে ‘ভুল তথ্য’ বলে উল্লেখ করেছে জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তর। ওই দপ্তরের মুখপাত্র রাভিনা সামদাসানী গতকাল মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তিনি বাংলাদেশের মানবাধিতার পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের অবস্থান জানতে গত ১৭ আগস্ট ঢাকায় জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল বাশেলেতের বক্তব্য ও ভিডিও দেখার আহ্বান জানান।

রাভিনা সামদাসানী বলেন, হাইকমিশনার তার সফর শেষে বিবৃতিতে বাংলাদেশের সরকার, নাগরিক সমাজ ও অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে বৈঠকগুলোতে মানবাধিকার নিয়ে উদ্বেগের বিষয়ে বিশদ আলোচনার কথা জানিয়েছেন। হাইকমিশনার হিসেবে তিনি বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে যা বলার ঢাকাতেই বলে গেছেন।

তিনি গত ২৫ আগস্ট জেনেভায় তার বিদায়ী বক্তব্যে জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্য, জ্বালানি, অর্থ সংকট, নাগরিকদের জন্য সুযোগ, রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বিষয় বেছে নেন। এগুলো বাংলাদেশসহ সব দেশের জন্য প্রযোজ্য। এটি কোনো ‘বৈশ্বিক প্রতিবেদন’ নয়।
রাভিনা সামদাসানী আরো বলেন, ‘‘হাইকমিশনার ঢাকায় তার বক্তব্যে বলেছেন, ‘চ্যালেঞ্জকে স্বীকার করা’ সবসময় তা মোকাবিলার প্রথম ধাপ। হাইকমিশনারের সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের পাশাপাশি বাংলাদেশে মানবাধিকার সুরক্ষা ও সংরক্ষণকে এগিয়ে নিতে আরো কাজ করার বিষয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তর সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। ’’

এর আগে গত সোমবার রাতে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্রের ব্রিফিংয়েও বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের উদ্বেগ না থাকা সম্পর্কিত খবর নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছিল। এর জবাবে জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিখ বাংলাদেশ নিয়ে হাইকমিশনার মিশেল বাশেলেতের সাম্প্রতিক বক্তব্য দেখার আহ্বান জানান। স্টিফেন বলেন, এ বিষয়ে মিশেল বাশেলেতের বক্তব্যই জাতিসংঘ মহাসচিব ও জাতিসংঘ ব্যবস্থার বক্তব্য।

জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস গতকাল আন্তজাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসে এক টুইট বার্তায় বলেন, কোনো প্রেক্ষাপটেই গুম যৌক্তিক নয়। পরিবার ও স্বজনদের জানার অধিকার আছে, তাদের প্রিয়জনদের কী হয়েছে। নৃশংস এই অপরাধ বন্ধে তিনি বিশ্বের দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।

জাতিসংঘ মহাসচিবের ওই টুইট বার্তার জবাবে ঢাকায় জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক জিন লুইস বলেন, ‘‘বাংলাদেশ সফর শেষে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল বাশেলেত বলেছেন, ‘স্বল্পমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদি গুমের অভিযোগের পাশাপাশি এসব বিষয়ে যথাযথ প্রক্রিয়া ও বিচারিক সুরক্ষার ব্যাপারে আশঙ্কাজনক অভিযোগ ও উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। ’ তিনি এসব অভিযোগ তদন্ত করতে একটি স্বাধীন কাঠামো সৃষ্টির আহ্বান জানিয়েছেন। ’’

মিশেলের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করলো যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস: এদিকে গুম প্রতিরোধ দিবসে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল বাশেলেতের সাম্প্রতিক আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছে। যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস গতকাল এক ফেসবুক বার্তায় ঢাকায় মিশেল বাশেলেতের বক্তব্য তুলে গুমের অভিযোগ বড় পরিসরে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।

মিশেল বাশেলেত ঢাকায় বলেছিলেন, ‘আমি সরকারের মন্ত্রীদের কাছে এসব গুরুতর অভিযোগের ব্যাপারে গভীর উদ্বেগ ব্যক্ত করেছি এবং নিরাপত্তা খাতের সংস্কারের পাশাপাশি এ সব অভিযোগের ব্যাপারে একটি নিরপেক্ষ, স্বাধীন ও স্বচ্ছ তদন্তের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছি। ’

জাতিসংঘকে তদন্তের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান এইচআরডাব্লিউর: অন্যদিকে নিউ ইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠণ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডাব্লিউ) জাতিসংঘকে গুমের অভিযোগ তদন্তের সুযোগ দিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাইট আরো বলেছে, বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের জন্য আন্তর্জাতিক চাপ জোরালো হচ্ছে।

এইচআরডাব্লিউর দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, ‘অগণিত গুমের ঘটনায় বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের জড়িত থাকার জোরালো প্রমাণ আছে। বাংলাদেশের উচিত, এসব বিষয় না জানার ভান দেখানো বন্ধ করে কার্যকর জবাবদিহিতার জন্য জাতিসংঘের সঙ্গে কাজ করা। ’

সূত্র: কালের কন্ঠ
আইএ/ ৩১ আগস্ট ২০২২

Back to top button