জাতীয়

দেশে করোনার চতুর্থ ঢেউ নিয়ন্ত্রণে

তবিবুর রহমান

ঢাকা, ২৭ আগস্ট – দেশে করোনার চতুর্থ ঢেউ নিয়ন্ত্রণে এসেছে। দুই সপ্তাহ ধরে নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় রোগী শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনও মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধি, পরতে হবে মাস্ক। স্বাস্থ্যবিধিতে অবহেলা হলে আসতে পারে নতুন ঢেউ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী, নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার টানা দুই সপ্তাহ ৫ শতাংশের নিচে হলে কোনো দেশে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে ধরা হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসার পর আবারও বিপর্যয়কর অবস্থা তৈরি হতে দেখা গেছে। তাই সংক্রমণের নিম্নমুখী প্রবণতা ধরে রাখতে যত দ্রুত সম্ভব ৮০ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় আনতে হবে। সংক্রমণ শূন্যের কোঠায় না আসা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ বলছেন, পঞ্চম ঢেউ আঘাত হানার আশঙ্কা কিছুটা কম।
দেশে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে ২০২০ সালের ৮ মার্চ। ধীরে ধীরে সংক্রমণ বাড়তে থাকে। করোনার প্রথম ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে। মার্চে আবার দেখা দেয় করোনার ঢেউ। এই দ্বিতীয় ঢেউয়ে ভারতীয় ডেলটা ভ্যারিয়েন্ট ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এ ভ্যারিয়েন্ট দেশজুড়ে নতুন করে শঙ্কা ও চিকিৎসা সংকট তৈরি করে। দ্বিতীয় ঢেউয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয় গত বছর জুলাইয়ে। তখন পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৩৩ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়।

করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে কোনো কোনো দিন আড়াইশর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। গত বছর ৪ অক্টোবর তা নিয়ন্ত্রণে আসে। তিন মাসের বেশি সময় করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকার পর চলতি বছর ১৯ জানুয়ারি তৃতীয় ঢেউ শুরু হয়। এই ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসে গত ১১ মার্চ। এই ঢেউ প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউয়ের তুলনায় দ্রুত নিয়ন্ত্রণে এসেছে। পাশাপাশি এই ঢেউয়ে রোগী কম পাওয়া গেছে, মৃত্যুও কম হয়েছে। তিন মাস পর ২৯ জুন চতুর্থ ঢেউ দেখা দেয়। প্রায় দুই মাসে চতুর্থ ঢেউ নিয়ন্ত্রণে এলো।

গত দেড় মাস ধরে করোনা পরিস্থিতি ক্রমেই উন্নতির দিকে। কমছে মৃত্যু ও শনাক্তের সংখ্যা। সেই সঙ্গে কমছে শনাক্তের হার। ধারাবাহিকভাবে জনজীবনও স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। করোনার চতুর্থ ঢেউ নিয়ে জনগণের মধ্যে তেমন উদ্বেগ ছিল না। সরকারও আগের তিন ঢেউয়ের মতো বিধিনিষেধ দেয়নি। ‘নো মাস্ক, নো সার্ভিস’ নীতি আবার ঘোষণা করা হলেও এর বাস্তবায়ন নেই বললেই চলে।
জ্যেষ্ঠ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ আবু জামিল ফয়সাল বলেন, পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার কম পাওয়া যাচ্ছে। তাতে চতুর্থ ঢেউ নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে ধরা যায়। সারা পৃথিবীতে সংক্রমণ নিম্নমুখী। তবে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। এখন যেসব জেলায় বেশি রোগী শনাক্ত হবে, সেখানে অবশ্যই আইসোলেশন ও সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে সংক্রমণ আর বাড়বে না।
রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ডা. মোশতাক হোসেন বলেন, করোনার চতুর্থ ঢেউ নিয়ন্ত্রণে এসেছে। নতুন ঢেউ আসতে পারে। তবে নতুন ঢেউয়ের তীব্রতা কম হবে। এখনও পূর্ব এশিয়ার অঞ্চলগুলোয় উদ্বেগজনক পরিস্থিতি রয়েছে। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশে করোনা ছড়াচ্ছে। তাই মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, টিকাদান কর্মসূচি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করায় করোনার চতুর্থ ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। করোনা নিয়ন্ত্রণে বিশ্বে পঞ্চম স্থানে বাংলাদেশ। টিকা কর্মসূচিতে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম অবস্থানে আমরা। ইতোমধ্যে ৭৬ শতাংশ মানুষ দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছে এবং বুস্টার ডোজ পেয়েছে ৩৫ শতাংশ মানুষ।

সূত্র: সমকাল
আইএ/ ২৭ আগস্ট ২০২২

Back to top button