জাতীয়

১৫০ আসনে ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক

ঢাকা, ২৬ আগস্ট – অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের তীব্র আপত্তি ও ইভিএমে অনাস্থা সত্ত্বেও ১৫০ আসনে ইভিএমে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ রেজাউল করীম।

তিনি বলেন, প্রায় সব রাজনৈতিক দল ইভিএমের বিপক্ষে মতামত দিলেও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের মতামতকে আমলে নেওয়া হয়নি। রাজনৈতিক দলগুলোকে ডেকে মতামত নেওয়ার পর তাদেরকে আশ্বস্ত করে এখন ধোঁকা দিচ্ছেন সিইসি। সিইসির এমন সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র আওয়ামী লীগকে আবার ক্ষমতায় বসানোর অপকৌশল।

শুক্রবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে শাহবাগে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি নূরুল করীম আকরাম। সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক শেখ মুহাম্মাদ আল-আমিন।

নতুন শিক্ষাক্রম বিষয়ে চরমোনাই পির বলেন, শিক্ষা যেকোনো জাতির অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি। নৈতিকতা ও মূল্যবোধ চর্চার কথা নতুন শিক্ষাক্রমে বারবার উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ ইসলাম শিক্ষাকে সামষ্টিক মূল্যায়নে ও একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণিতে বিজ্ঞান ও বাণিজ্য বিভাগ থেকে ইসলাম শিক্ষাকে বাদ দিয়ে মানবিক বিভাগে ঐচ্ছিক রেখে কৌশলে সংকুচিত করা হয়েছে। যার ফলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নীতি-নৈতিকতাহীন দুর্নীতিগ্রস্ত প্রজন্ম হিসেবে গড়ে ওঠার দ্বার উন্মোচিত হবে।

তিনি বলেন, ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন ১৯৯১ সালের ২৩ আগস্ট প্রতিষ্ঠার পর থেকেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সমূহে সুষ্ঠু ধারার রাজনীতি চর্চা করছে। ছাত্র রাজনীতির নামে চলমান মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও ধর্ষণের প্রচলিত সংস্কৃতির বাইরে নৈতিকতা সমৃদ্ধ মেধাবী প্রজন্ম তৈরিতে কাজ করছে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন।

সভাপতির বক্তব্যে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল করীম আকরাম বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করলেও এখনো আমরা শিক্ষার সংকট থেকে বের হতে পারিনি। বিজ্ঞানভিত্তিক, কর্মমুখী ও সর্বজনীন ইসলামি শিক্ষা কাঠামো প্রণয়নের জন্য আমাদেরকে রাজপথে নামতে হচ্ছে। দেশের উন্নতির জন্য ডেমোগ্রাফিক ডেভিডেন্ড সুবিধা ব্যবহারে সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। যেখানে দেশের শিক্ষিত কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগাতে সরকার বারবার ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে, সেখানে কারিগরি শিক্ষার সংকোচন নীতি গ্রহণ করা হচ্ছে। এ সময় তিনি পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের ন্যায়সঙ্গত দাবি ও আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন।

এরপর সমাবেশ থেকে সর্বস্তরের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে নতুন শিক্ষাক্রম সংস্কার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে দুদিন ছুটির বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়।

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন- ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব অধ্যক্ষ ইউনুস আহমাদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জাতীয় শিক্ষক ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, যুগ্ম-মহাসচিব ও ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মাদ আমিনুল ইসলাম, যুগ্ম-মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, সহকারী মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি অধ্যক্ষ শেখ ফজলে বারী মাসউদ, ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি আহমদ আব্দুল কাইউম, ইসলামী যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা নেছার উদ্দিন প্রমুখ।

এতে উপস্থিত ছিলেন- সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি শরিফুল ইসলাম রিয়াদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ আহমাদ মানসুর, সাংগঠনিক সম্পাদক ইবরাহীম হুসাইন মৃধা, প্রশিক্ষণ সম্পাদক নুরুল বশর আজিজী, দাওয়াহ সম্পাদক শেখ ইহতেশাম বিল্লাহ আজিজী, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সুলাইমান দেওয়ান সাকিব, দপ্তর সম্পাদক মুহাম্মাদ সিরাজুল ইসলাম, প্রচার ও আন্তর্জাতিক সম্পাদক মুনতাছির আহমাদ প্রমুখ।

সূত্র: জাগো নিউজ
এম ইউ/২৬ আগস্ট ২০২২

Back to top button