জাতীয়

মিয়ানমারে সামরিক সরকার আসার পর ইয়াবা পাচার আড়াই গুণ বেড়েছে

ঢাকা, ২৬ আগস্ট – মিয়ানমারের সামরিক সরকার ক্ষমতায় আসার পর আগের তুলনায় বাংলাদেশে বেশি ইয়াবা প্রবেশ করছে। সাম্প্রতিক সময়ে স্রোতের মতো ইয়াবা আসছে, যা আগের তুলনায় প্রায় আড়াই গুণ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এ তথ্য জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান।

গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আগের বৈঠকের কার্যবিবরণীর অনুমোদন দেওয়া হয়। ওই কার্যবিবরণী থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। গতকালের বৈঠকে কমিটির সভাপতি শামসুল হক টুকুর সভাপতিত্বে আরও অংশ নেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, হাবিবর রহমান, সামছুল আলম দুদু, কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, নূর মোহাম্মদ, সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ ও রুমানা আলী।
কার্যবিবরণীতে দেখা গেছে, এ বিষয়ে বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, মিয়ানমারের সামরিক সরকার ক্ষমতায় আসার পর আগের চেয়ে আড়াই গুণ ইয়াবা বাংলাদেশে ঢুকছে। মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা হলেও কোনো ফল পাওয়া যায়নি। সেখানকার সামরিক সরকার বরং ইয়াবা কারবারিদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে। নাফ নদ ছাড়াও দুর্গম সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ইয়াবা ঢুকছে। বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির অনেক দুর্গম পথ রয়েছে, যেখানে সার্বক্ষণিক নজরদারি সম্ভব হয় না। সেখানকার একটি বিওপি থেকে অন্য বিওপিতে যেতে দুই থেকে তিন দিন সময় লেগে যায়। ওই সব এলাকায় বিওপির সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও বৈঠকে জানান তিনি।

কমিটির সভাপতি শামসুল হক টুকু বলেন, মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের হাত ধরেই বাংলাদেশে ইয়াবা আসা শুরু হয়। এরপর সারাদেশে তা ক্রমে ছড়িয়ে পড়ে। তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেও মাদক-বাণিজ্য ও সেবন রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না।

কার্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, বৈঠকে মসজিদ, মন্দির ও কবরস্থানের কমিটি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। এ প্রসঙ্গে কমিটি সভাপতি বলেন, মসজিদ, মন্দির এবং কবরস্থান কমিটি থেকে প্রকৃত ধর্মপ্রাণ ভালোমানুষ ক্রমে দূরে সরে যাচ্ছেন। মাদক কিংবা সমাজবিরোধী কাজের সঙ্গে জড়িত সংশ্নিষ্টরা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এসব পদে আসছেন। ফলে প্রকৃত সৎমানুষরা সমাজ ও দেশের জন্য অবদান রাখতে পারছেন না।
এ সময় তিনি বলেন, দেশের সব মসজিদ, মন্দির, কবরস্থানসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের কমিটি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অধীনে গঠন হলে ইতিবাচক ফল আসবে। পরে কমিটির সুপারিশে অন্য একটি বৈঠকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালককে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত হয়।

ইন্টারনেটের ৮০ শতাংশ ব্যয় হয় টিকটকে :ওই বৈঠকে টিকটক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকের সভাপতি বলেন, টিকটক নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। এই অ্যাপস অতিমাত্রায় নেতিবাচকভাবে ব্যবহার হচ্ছে। বিভিন্ন হিংসাত্মক কর্মকাণ্ড, গুজব ও অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে। পরে তিনি এই অ্যাপস বন্ধের সুপারিশ করেন।

এদিকে টিকটক বন্ধের বিষয়ে ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) মহাপরিচালক জানান, বাংলাদেশের তরুণ সমাজের মধ্যে ব্যবহূত ইন্টারনেটের ৮০ শতাংশ ব্যয় হয় টিকটক অ্যাপসের পেছনে। এই প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করে প্রতিহিংসামূলক, ভুল তথ্য ও ঘৃণাত্মক বক্তব্য প্রচার করা হয়। সব ধরনের তথ্য-উপাত্তসহ টিকটক অ্যাপস বন্ধে এরই মধ্যে বিটিআরসিকে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
এদিকে সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে এবং সংসদ সদস্য ভবনের পাশে গাড়ি চলাচলের সময় হর্ন না বাজানোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। এ ছাড়া স্বামী-স্ত্রী সরকারি চাকরিতে কর্মরত থাকলে তাঁদের পাশাপাশি কর্মস্থলে পদায়নে বিশেষ লক্ষ্য রাখার সুপারিশ করা হয়।

সূত্র: সমকাল
এম ইউ/২৬ আগস্ট ২০২২

Back to top button