জাতীয়

চা বাগান মালিকদের সঙ্গে শনিবার বসবেন প্রধানমন্ত্রী

সিলেট, ২৬ আগস্ট – প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শ্রমিকদের চলমান আন্দোলন নিয়ে চা বাগান মালিকদের সঙ্গে সভা করবেন। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব এম এম ইমরুল কায়েস গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান। আগামীকাল শনিবার বিকাল ৪টা থেকে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।

গত কয়েক দিন ধরে চা শ্রমিকদের সঙ্গে শ্রমিক নেতারা কথা বলে, আশ্বাস দিয়েও কোনো কাজ হয়নি। প্রশাসনের কর্মকর্তারাও নানা আশ্বাস দিলেও কাজে ফেরেনি তারা। শ্রমিকরা বলে আসছিলেন- প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ঘোষণা পেলেই বাগানে কাজে ফিরবেন তারা।

সিলেট ব্যুরো জানায়, আন্দোলনের ১৭তম দিনে এসে হতাশ সিলেটের বেশিরভাগ চা বাগানের শ্রমিকরা। টানা কর্মবিরতির কারণে তারা পাচ্ছেন না মজুরি বা রেশন। ঘরে খাবারের অভাব। তবে তাদের আন্দোলন থেমে নেই। গতকাল বৃহস্পতিবারও তারা বাগানে বাগানে বিক্ষোভ করেছেন। বলছেন, নেতারা মিথ্যাবাদী। তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে চা শ্রমিকদের কষ্ট বা ন্যায্য দাবির বিষয়টি পৌঁছাতেই পারছেন না।

শ্রমিকরা বলেন, আমাদের নেতা লাগবে না। আমরা নিজেরাই নেতা। ৩০০ টাকা মজুরি আদায় না করে ঘরে ফিরব না। বৃহস্পতিবার সিলেটের মালনিছড়া ও লাক্কাতুরা চা বাগানে বিক্ষোভরত শ্রমিকদের অনেককে ঘরে খাবার সংকট ও সন্তানদের কথা বলতে গিয়ে কান্না করতে দেখা গেছে।

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি জানান, গতকাল বৃহস্পতিবারও মৌলভীবাজারের ৯২টি চা বাগান বন্ধ রেখে আন্দোলন চালিয়ে যান শ্রমিকরা।

এদিকে দাবি আদায়ে ‘চা শ্রমিক অধিকার পরিষদ’ নামে আরও একটি সংগঠন গঠিত হয়েছে। শ্রীমঙ্গলের কালীঘাট চা বাগানে বৈঠক শেষে নিজেকে পরিষদের আহ্বায়ক হিসেবে ঘোষণা দেন মোহন রবিদাস নামে এক আন্দোলনকারী। গতকাল বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে প্রেস ব্রিফিংয়ে মোহন রবিদাস বলেন, বন ও পরিবেশমন্ত্রী যেহেতু বলেছেন, শনিবারের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে একটা সিদ্ধান্ত আসবে, তাই আমরা শনিবার পর্যন্ত দেখে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করব। তবে আমাদের কর্মবিরতি ও আন্দোলন চলবে।

এ সময় কালিঘাট চা বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি অবান তাঁতী, শ্রমিক নেতা গোপাল রাজভর ও মিন্টু তাঁতী বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার অপেক্ষায় আছি। ঘোষণা পেলে কাজে যাব বলে মিটিংয়ে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার মৌলভীবাজারে সব কয়েকটি বাগানেই কাজ বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করছেন চা শ্রমিকরা। অধিকার আদায়ে বিভিন্ন জায়গায় পালন করা হয় বিভিন্ন কর্মসূচি।

বৃহস্পতিবার সকালে শ্রীমঙ্গল খেজুরীছড়া চা বাগানের নাট মন্দিরের সামনে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি ও অনান্য সুযোগ-সুবিধার দাবিতে মানববন্ধন করে চা বাগানের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এতে শ্রীমঙ্গল রাজঘাট ইউনিয়নের রানার উচ্চ বিদ্যালয় এবং কলেজের সহস্রাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়। খেজুরীছড়া চা বাগানের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থীও এতে যোগ দেয়।

আন্দোলনে অংশ নেয়া চা শ্রমিক সন্তান কলেজছাত্র সঞ্জিত তাঁতী জানান, তাদের লেখাপড়া করাতে ও খাদ্য, বস্ত্র দিতে তাদের অভিভাবকরা অক্লান্ত পরিশ্রম করেন। নিজে না খেয়ে অনেক সময় কাজে যান এবং তাদের খেতে দেন। তাদের চোখের সামনে তাদের মা-বাবা অবর্ণনীয় কষ্ট করেন। কিন্তু তারা ন্যায্য মজুরি পান না। তারা অনেক কষ্টে আছেন।

আন্দোলনে অংশ নেয়া অপর শিক্ষার্থী প্রীতি রানী জানান, বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে বাস্তবতা নিরিখে যেন তাদের অভিভাবকদের মজুরি বৃদ্ধি করা হয়। প্রধানমন্ত্রী এ দেশকে অনেক কিছু দিয়েছেন। এ বিষয়েও যেন একটু সুদৃষ্টি দেন।

সূত্র: আমাদের সময়
আইএ/ ২৬ আগস্ট ২০২২

Back to top button