জাতীয়

রেললাইন নির্মাণে ভারতীয় কোম্পানির সঙ্গে ২ চুক্তি সই

ঢাকা, ২৫ আগস্ট – বাংলাদেশ রেলওয়ের পার্বতীপুর থেকে কাউনিয়া পর্যন্ত মিটার গেজ রেললাইনকে ডুয়েলগেজে রূপান্তর এবং খুলনা-দর্শনা সেকশনে নতুন ব্রডগেজ লাইন নির্মাণ প্রকল্পের কনসালটেন্সি সার্ভিসের চুক্তি সই হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ আগস্ট) রেলভবনে এ চুক্তি সই হয়।

এসময় রেলপথ মন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশের রেল ব্যবস্থা ব্রডগেজ এবং মিটারগেজ দিয়ে দুই অঞ্চলে বিভক্ত। আমরা পর্যায়ক্রমে সব রেল ব্যবস্থাকে ব্রডগেজে রূপান্তর করছি। ভারতের সব রেললাইন ব্রডগেজে। আমরাও দেশের গেজ ব্যবস্থাকে একরকম ব্রড গেজে রূপান্তর করছি। এছাড়া রেললাইন সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে যে প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে সবগুলোকেই আমরা ব্রডগেজ আকারে করছি।

মন্ত্রী বলেন, যমুনা নদীর ওপর বঙ্গবন্ধু রেলওয়ে সেতু নির্মিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ সহজ হবে। এছাড়া ঈশ্বরদী থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত ডাবল লাইনের প্রকল্প আমরা হাতে নিয়েছি।

মন্ত্রী আরও বলেন, ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে যে আটটি ইন্টার সেকশন বন্ধ হয়েছিল এরই মধ্যে পাঁচটি চালু হয়েছে। বাকিগুলো পর্যায়ক্রমে চালু হবে।

ভারতীয় অর্থায়নে এ প্রকল্প দুটি নির্মাণ করা হচ্ছে জানিয়ে রেলমন্ত্রী বলেন, ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক ঐতিহাসিক। এ সম্পর্ক আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। পার্বতীপুর কাউনিয়া ডুয়েল গেজ নির্মিত হলে ভবিষ্যতে ভারত ছাড়াও নেপাল, ভুটানের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো যাবে। এর ফলে আমাদের যাত্রীসহ মালামাল পরিবহনের সুযোগ বাড়বে।

খুলনা-দর্শনা সেকশনে চুক্তিতে সই করেন প্রকল্প পরিচালক মনিরুল ইসলাম ফিরোজী এবং কনসালটেন্ট সার্ভিস ভারতীয় স্টুপ কনসালটেন্ট ও আরভি এসোসিয়েটস জয়েন্ট ভেঞ্চারের পক্ষে মো. আসাদ। এ প্রকল্পের আওতায় খুলনা দর্শনের মধ্যে পুরনো লাইনের পাশাপাশি নতুন ১২৬ কিলোমিটার ব্রডগেজ রেললাইন নির্মিত হবে। কনসালটেন্সি সার্ভিসের চুক্তিমূল্য ৮৭ কোটি ৩৭ লাখ ৩ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা।

পার্বতীপুর থেকে কাউনিয়া পর্যন্ত মিটারগেজ লাইনকে ডুয়েল গেজে রূপান্তর প্রকল্পের চুক্তিতে সই করেন প্রকল্প পরিচালক লিয়াকত শরীফ খান এবং ভারতীয় কনসালটেন্সি সার্ভিস আরভি এসোসিয়েট এবং স্টুপ কনসালট্যান্টস লিমিটেড জয়েন্ট ভেঞ্চারের পক্ষে অভিক ভট্টাচার্য। কনসালটেন্সি সার্ভিসের চুক্তিমূল্য ৭৫ কোটি ৮৪ লাখ ৬৬ হাজার ২৯০ টাকা। এ প্রকল্পে ৫৭ কিলোমিটার মিটারগেজ লাইনকে ডুয়েলগেজে রূপান্তর করা হবে। উভয় প্রকল্পই ভারতীয় এলওসির অর্থায়নে হবে।

চুক্তি সই অনুষ্ঠানে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব হুমায়ুন কবীর, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক ধীরেন্দ্রনাথ মজুমদার, ভারতীয় হাই কমিশনের প্রথম সচিব সালোনি সাহাইসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: জাগোনিউজ
আইএ/ ২৫ আগস্ট ২০২২

Back to top button