জাতীয়

মাহবুব তালুকদারের শেষ ইচ্ছাপূরণ নিয়ে অনিশ্চয়তা

ঢাকা, ২৫ আগস্ট – সাবেক নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মাহবুব তালুকদারের শেষ ইচ্ছা পূরণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আলোচিত এ সাবেক ইসির শেষ ইচ্ছা ছিল মৃত্যুর পর তাকে যেন শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হয়। কিন্তু সেখানে দাফন করা সম্ভব হবে কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

নির্বাচন ও নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম এবং স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আলোচনায় আসা সাবেক ইসি মাহবুব তালুকদারের শেষ ইচ্ছা পূরণে হবে কি না বৃহস্পতিবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যা পর্যন্ত তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

মাহবুব তালুকদারের শেষ ইচ্ছা প্রসঙ্গে মেয়ে আইরিন মাহবুব বলেন— বাবার শেষ ইচ্ছা ছিল মৃত্যুর পর তাকে যেন শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হয়। তার শেষ ইচ্ছা পূরণের উদ্দেশ্য নিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করেছিলাম। তবে, এ বিষয়ে মেয়র কোনো সিদ্ধান্ত দেননি। মেয়র বলেছেন— এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি লাগবে।
আইরিন মাহবুব বলেন, আজ রাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোন আফরিন মাহবুবু ও কানাডা থেকে ভাই শোভন মাহবুব দেশে ফিরবেন। শুক্রবার (২৬ আগস্ট) বাদ জুমা বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে বাবার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি আরও বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফনের অনুমতি না পেলে মিরপুর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য কবর উন্মুক্ত সেখানে বাবাকে দাফন করা হবে।

বুধবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে হঠাৎ অসুস্থ বোধ করলে তাকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।

বর্তমানে সাবেক ইসি মাহবুব তালুকদারের মরদেহ রাজধানীর বারডেম জেনারেল হাসপাতালে রয়েছে। বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মরদেহটি সেখানে রাখা হয়।

১৯৪২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় জন্ম মাহবুব তালুকদারের। নবাবপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক, ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন।

দৈনিক ইত্তেফাকে সাংবাদিকতার মধ্য দিয়ে কর্মজীবন শুরু করা মাহবুব তালুকদার দীর্ঘসময় শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত ছিলেন। তিনি তৎকালীন জগন্নাথ কলেজ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপত্য বিভাগ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে শিক্ষকতা করেন।

১৯৭১ সালে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন এবং মুজিবনগর সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ে চাকরিতে যোগ দেন। পরে তিনি সরকারি চাকরির ধারাবাহিকতায় বঙ্গভবনে পাঁচ বছর অবস্থানকালে বিভিন্ন পদে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন।

১৯৭২ সালের ২৪ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর বিশেষ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পান। এরপর রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদউল্লাহর জনসংযোগ কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সময়কালে তিনি তার সহকারী প্রেস সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

মাহবুব তালুকদার শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯৯ সালে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার আগ পর্যন্ত বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থায় অধিষ্ঠিত ছিলেন।

২০১৭ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন গঠিত পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশনের সদস্য হিসেবে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের কাছে শপথ নেন মাহবুব তালুকদার।

২০১২ সালে শিশুসাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান। মাহবুব তালুকদার ও তার স্ত্রী নীলুফার বেগম দম্পতির দুই কন্যা ও এক পুত্রসন্তান রয়েছে।

সূত্র: জাগোনিউজ
আইএ/ ২৫ আগস্ট ২০২২

Back to top button