জাতীয়

ফ্লাইওভারের নিচে খানাখন্দ, চালক-যাত্রীদের ভোগান্তি

ঢাকা, ২৫ আগস্ট – রাজধানীবাসীর যাতায়াতের দুর্ভোগ অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার। যারা চিটাগাং রোড হয়ে অথবা বঙ্গবন্ধু এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে পোস্তাগোলা ব্রিজ হয়ে প্রবেশ করছেন, তারা যাত্রাবাড়ী-সায়েদাবাদের যানজটে না পড়েই ফ্লাইওভার দিয়ে রাজধানীর অভ্যন্তরে ঢুকতে পারছেন। তবে যাত্রাবাড়ীতে ফ্লাইওভারের চেয়ে নিচের রাস্তায় চলাচলকারী যানবাহনের সংখ্যাই বেশি। দীর্ঘদিন রাস্তা সংস্কার না করায় দুভোর্গের শেষ নেই ওই এলাকা দিয়ে চলাচলকারীদের।

যাদের ব্যক্তিগত গাড়ি নেই, যারা যাত্রাবাড়ী-সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে বাসে করে বিভিন্ন জেলায় যান- তারা ফ্লাইওভারের পরিবর্তে নিচের রাস্তা ব্যবহার করেন। এছাড়াও যাত্রাবাড়ী কেন্দ্রিক যাদের কর্মস্থল ও ওই এলাকায় যারা বসবাস করেন তারা যাতায়াতে নিচের রাস্তা ব্যবহার করেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার বেহাল দশার কারণে ওই এলাকায় চলাচলকারী ও বসবাসকারীদের দুর্ভোগের শেষ নেই। বছরের পর বছর ধরে রাস্তা সংস্কারে যেন অনীহা কর্তৃপক্ষের। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ফ্লাইওভারে এখনো টোল আদায় হচ্ছে। যদি নিচের রাস্তা ভালো থাকে তাহলে টোল দিয়ে অনেকেই ফ্লাইওভারে উঠবে না। এজন্য রাস্তা সংস্কারে উদ্যোগ নেই। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে শিগগির সংস্কার কাজ শুরুর কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বুধবার (২৪ আগস্ট) যাত্রাবাড়ী-চিটাগাং রোডে গিয়ে দেখা যায়, যাত্রাবাড়ী চার রাস্তার মোড় থেকে কোনোদিকেরই রাস্তার অবস্থা ভালো নেই। ডেমরার দিকে কাজ চলছে, পোস্তগোলার দিকের রাস্তায় খানাখন্দ। চিটাগাং রোডের আরও বেহাল দশা। চৌরাস্তা থেকে শুরু করে ফ্লাইওভার নেমে যাওয়া পর্যন্ত পুরো রাস্তা ছোট-বড় খানাখন্দে ভরা। দূরপাল্লার বড় বড় বাস, লরি, ট্রাক চালাতেই বেগ পেতে হচ্ছে চালকদের। ব্যক্তিগত ছোট গাড়ি ও পিকআপ খানাখন্দে পড়ে আটকে থাকছে। কখনো আবার রিকশা-ভ্যান উল্টে মালামাল পড়ে যাচ্ছে বলে জানান এলাকাবাসী। তবে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়তে হয় বৃষ্টি নামলে। তখন কাদায় হেঁটে যাওয়ারও উপায় থাকে না। এ নিয়ে এলাকাবাসীর ক্ষোভ ও অভিযোগের শেষ নেই।

যাত্রাবাড়ী-চিটাগাং রোডে যাতায়াত করেন এমন বেশ কয়েকজন লেগুনা চালকের সঙ্গে কথা হয় । তারা বলেন, এই রাস্তায় গাড়ি চললে গাড়ির অনেক ক্ষতি হয়। সময় বেশি লাগে, তেল খরচও হয় বেশি, আবার গাড়ির চাকার অনেক ক্ষতি হয়। পাঁচ-ছয় বছর বছর ধরে এই রাস্তা এমন ভাঙা অবস্থায় রয়েছে। মাঝে একটু সংস্কার কাজ করা হলেও তা দুই বছরও টেকেনি। লেগুনা চালকদের দাবি, রাস্তায় কোনোরকম বালু ফেলে খানাখন্দ ভরাট করা হয়েছে। কিন্তু বেশিদিন টিকবে এমন উদ্দেশ্য নিয়ে রাস্তা ভালো করা হয়নি বলে দাবি তাদের।
যাত্রাবাড়ী মাছের আড়তের এক পিকআপ চালক বলেন, ৬ থেকে ৭ বছর ধরে রাস্তার বেহাল দশা। ভালো করার কোনো উদ্যোগই দেখি না। মাঝে মধ্যেই ঢাকা-চিটাগাং রোডের ফ্লাইওভারের নিচের রাস্তায় দুর্ঘটনায় কেউ না কেউ মারা যাচ্ছেন। ওই এলাকায় শত শত পিকআপ শুধু মাছের আড়ত কেন্দ্রিক চলাচল করে। তাদের দুর্ভোগের শেষ নেই। এর আগে শ্রমিক নেতারা বারবার রাস্তা মেরামতের দাবি জানালেও কোনো কাজ হয়নি বলে জানান তিনি।

ওই রাস্তা দিয়ে লেগুনায় যাচ্ছিলেন এক ব্যক্তি। চিটাগাং রোডের বাসিন্দা ওই ব্যক্তি বলেন, রাস্তার মাঝখানে ভাঙা। যেটুকু ভালো আছে সেখানেও মাছের আড়ত বসে আটকে রাখে। যাতায়াত করতে সাধারণ মানুষের যত ভোগান্তি।

এ সময় অভিযোগের সুরে ওই লেগুনার চালক বলেন, কর্তৃপক্ষ তো দেখে ঠিকই। কাজ কেন করে না?

ঢাকা-কুমিল্লা রুটের এক বাসের চালক বলেন, যদি রাস্তা ভালো থাকে তাহলে মানুষ টোল দিয়ে ফ্লাইওভারে উঠবে না। এ জন্যই রাস্তা সংস্কার করে না।
কথা হয় স্থানীয় একাধিক রিকশাচালক ও ভ্যানচালকের সঙ্গে। তারা বলেন, মাঝে মধ্যেই মালামালসহ রিকশা-ভ্যান উল্টে যায়। আমরা তো গায়ের জোরে গাড়ি চালাই। রাস্তা যদি ভাঙা থাকে, তবে আমাদের কষ্ট অনেক বেড়ে যায়। কিন্তু পেটের দায়ে বাধ্য হয়ে চালাতে হয়।

যাত্রাবাড়ী-চিটাগাং রোডের বেহাল দশা নিয়ে জাগো নিউজের ফেসবুক পেজে একটি লাইভ সম্প্রচার হয়। সেই লাইভে পাঠক-দর্শকদের মন্তব্যও একই ধরনের। তারা বলেন, ফ্লাইওভারে বছরের পর বছর ধরে টোল নেওয়া হচ্ছে। এজন্যে ইচ্ছে করেই রাস্তা ভালো করার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয় না। কারণ, রাস্তা ভালো থাকলে টাকা খরচ করে কেউ ফ্লাইওভার দিয়ে যাতায়াত করতে চাইবে না।

বিষয়টি নিয়ে কথা হয় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অঞ্চল-৫ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা উপ-সচিব মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন সরকারের সঙ্গে। তিনি বলেন, যাত্রাবাড়ী-চিটাগাং রোডের ওই স্থানে মাছের আড়ত আছে। প্রতিদিন ট্রাক থেকে মাছ ওঠানামা করানো হয়। আড়তের পানি এসে রাস্তায় জমে। এজন্য ওই রাস্তার ক্ষতি বেশি হয় এবং তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যায়।

রাস্তা সংস্কারে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ডিএসসিসি মেয়র নিজেও আজকে ওই রাস্তার কথা বলেছেন। ফাইল প্রস্তুতের প্রক্রিয়া চলছে। সমন্বয় সভায় অনুমোদন হলেই ফাইল দিয়ে দেবে। তারপর কাজ ধরা হবে।

ফ্লাইওভারের টোল আদায় করতেই রাস্তার কাজ ধরা হয় না- এমন অভিযোগের বিষয়ে মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন সরকার বলেন, এ অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।

সূত্র: জাগোনিউজ
আইএ/ ২৫ আগস্ট ২০২২

Back to top button