জাতীয়

যেসব শর্তে মুক্ত হবেন গ্রেফতার দুই বোন

ঢাকা, ২৫ আগস্ট – ঋণ খেলাপির দায়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের (পিএলএফএসএল) সাবেক পরিচালক খবির উদ্দিনের গ্রেফতার দুই মেয়ে মুক্তি পাবেন বলে আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। তবে এর জন্য কয়েকটি শর্ত দিয়েছেন বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ।

 

বুধবার (২৪ আগস্ট) খবির উদ্দিনের দুই মেয়েকে হাইকোর্টে হাজির করে র‌্যাব। আদালতে দুই মেয়ের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আবু তালেব। পিপলস লিজিংয়ের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মেজবাহুর রহমান।
পরে মেজবাহুর রহমান জানান, গ্রেফতার দুজনের পাসপোর্ট আদালতে দাখিল করা হয়েছে। তাদের পারিবারের বাকি ৯ সদস্যের মধ্যে যাদের পাসপোর্ট আছে তারা তাদের পাসপোর্ট র‌্যাবের কাছে জমা রাখবেন। পাসপোর্ট জমা দিলে র‌্যাব গ্রেফতার এ দুজনকে ছেড়ে দেবে। আর যাদের পাসপোর্ট নাই তারা তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র, ঠিকানা হলফনামা করে আদালতে জমা দিতে বলা হয়েছে আইনজীবীর মাধ্যমে। আর তাদের কাছে যে টাকাটা (১৯৬ কোটি ৯ লাখ ৫৮ হাজার ৩৬২ টাকা) পিপলস লিজিং পায় তার ৫ শতাংশ ৩০ দিনের মধ্যে পরিশোধ করতে বলা হয়েছে।

গ্রেফতার দুই মেয়ে শারমিন আহমেদ ও তানিয়া আহমেদ ছাড়া পরিবারে বাকি ৯ সদস্য হলেন— খায়রুল হাসান, কোহিনূর মাতবর, মাসুদ মাতবর, মো. আব্দুস সোবহান, আতাউর রহমান, শিরিণ আহমেদ, সোনিয়া আহমেদ, শহিদুজ্জামান ও আশরাফ খান।

২০১৯ সালের ১৪ জুলাই পিপলস লিজিং অবসায়নের জন্য আদালতে মামলা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই দিনই মামলার শুনানি শেষে অবসায়নের পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেন আদালত। এছাড়া অবসায়ন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক পদমর্যাদার একজনকে অবসায়ক নিয়োগ দিতে বলা হয়। পরে সাময়িক অবসায়ক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক আসাদুজ্জামান খানকে নিয়োগ দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

পরে ২০১ জন আমানতকারী একটি আবেদন করেছিলেন। আবেদনে তারা বলেছেন, পিপলস লিজিংকে রিভাইভ বা রিকনস্ট্রাক্ট করা। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বক্তব্য শোনার পর আদালত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পিপলস লিজিং রিভাইভ করা হবে।

গত বছরের ২৮ জুন আদালত পিপলস লিজিং পুনরুজ্জীবিত করার আদেশ দেন পরবর্তীতে একটি বোর্ড গঠন করে দেন।

এরপর ঋণ খেলাপিদের আদালতে হাজির হতে বলেন। অনেকে হাজির হন। কিন্তু যারা হাজির হননি তাদের আটক করে হাজিরের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। সেই আদেশ অনুসারে দুই বোনকে হাজির করা হয়।

এই দুই বোন প্রায় ২০ বছর ধরে কানাডায় অবস্থান করছেন। পারিবারিক একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গত ২৮ জুলাই তারা দেশে আসেন। বুধবার দেশত্যাগের পরিকল্পনা ছিল তাদের। এর মধ্যেই গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ভোরে রাজধানীর ধানমন্ডি ও শ্যামলী এলাকা থেকে দুই বোন শারমিন ও তানিয়াকে আটক করে র‌্যাব।

সম্প্রতি দেশের আর্থিক খাতে আলোচিত নাম প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদার ওরফে পিকে হালদার। তিনি দেশের আর্থিক খাতের শীর্ষ দখলদার ও খেলাপিদের মধ্যে অন্যতম একজন। গত ১৪ মে কয়েক হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে পলাতক পি কে হালদার ভারতে গ্রেফতার হন।

খবির উদ্দিনের পরিবারের বিরুদ্ধে প্রায় ২০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

সূত্র: বাংলানিউজ
আইএ/ ২৫ আগস্ট ২০২২

Back to top button