হবিগঞ্জ

প্রধানমন্ত্রী নিজে বললে কাজে যোগ দেবেন চা শ্রমিকরা

হবিগঞ্জ, ২৪ আগস্ট – টানা ১৬ দিনের মতো আজ বুধবারও আন্দোলন করেছেন হবিগঞ্জের ২৪টি বাগানের চা শ্রমিকরা। মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে তারা এ আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। শ্রমিকরা নিজ নিজ বাগানে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ করেন।

এদিকে কাজে ফেরাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিদিনই দফায় দফায় চেষ্টা করা হচ্ছে।

বুধবার হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলা মিলনায়তনে চা শ্রমিকদের সঙ্গে দিনভর আলোচনা করেও তাদেরকে কাজে ফেরাতে ব্যর্থ হয়েছে প্রশাসন। হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান শ্রমিকদেরকে কাজে যোগদানের জন্য অনুরোধ করেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার এস এম মুরাদ আলি, চুনারুঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল কাদির লস্কর ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিদ্ধার্থ ভৌমিক।
প্রায় ৫ ঘণ্টা আলোচনার পর শ্রমিকরা ঘোষণা দেন ৩০০ টাকা মজুরি নির্ধারিত না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি ও আন্দোলন চলতেই থাকবে। প্রশাসন থেকে দেওয়া কোনো আশ্বাসেই বিশ্বাস করেন না তারা।

শ্রমিকদের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর নাম বলে মধ্যস্থতাকারীরা তাদের সঙ্গে প্রতারণা করছে। প্রধানমন্ত্রী ভিডিও প্রকাশ করে নিজে বললেই তারা কাজে যোগ দেবেন।

চুনারুঘাট উপজেলার দাড়াগাঁও বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি প্রেমলাল আহির বলেন, আমাদেরকে মঙ্গলবার শ্রীমঙ্গলে লেবার হাউজে ডাকা হয়েছিল। আমরা সেখানে জানিয়ে দিয়েছি যে আমাদের দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলমান থাকবে। তবে আমরা রাস্তা অবরোধ না করে নিজ নিজ বাগানে আন্দোলন করব।

তিনি বলেন, এখন আন্দোলন আর নেতাদের হাতে নেই। এটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন সাধারণ শ্রমিকরা। আমরা মনে করছি প্রধানমন্ত্রী যেহেতু কোনো ভিডিও প্রকাশ করে বলেননি তাই তার নাম বিক্রি করে হয়তো কেউ প্রতারণা করছেন। প্রধানমন্ত্রী যদি নিজে আমাদের বলেন তাহলে ১২০ টাকা মজুরিতেই আমরা কাজে যোগ দেব।

চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নীপেন পাল বলেন, চা শ্রমিকদের দাবি পূরণের আশ্বাস পেয়ে আমরা কর্মবিরতি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়ার পর কিছু কিছু বাগানে কাজ শুরু হলেও শ্রমিকদেরকে ভুল বুঝিয়ে আন্দোলন চালানো হচ্ছে।

হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে শ্রমিকদেরকে আশ্বাস দেয়ার পরও তারা কাজে যোগদান করছেন না। বিষয়টি দুঃখজনক।

জানা গেছে, দৈনিক মজরি ৩০০ টাকার দাবিতে গত ৯ আগস্ট থেকে ৪ দিন ২ ঘণ্টা করে কর্মবিরতি করেন চা শ্রমিকরা। এর পর তারা ১৩ আগস্ট থেকে পূর্নদিবস কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ করেন। এর মধ্যে কয়েক দফা বৈঠক হলেও তা সমাধান হয়নি। ইতিমধ্যে তারা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেন। শেষ পর্যন্ত ২০ আগস্ট বৈঠকে তাদের মজুরি ১৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হলে তারা আন্দোলন প্রত্যাহার করেন। পরবর্তীতে শ্রমিকরা এ মজুরি মানেন না জানিয়ে ফের আন্দোলনে নামেন। পরে সোমবার কয়েক দফা বৈঠকের করে শ্রমিকদের একাংশ কাজে যোগদান করেন। কিন্তু মঙ্গলবার (২৩ আগস্ট) থেকে ফের তারা আন্দোলন শুরু করেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের এ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন শ্রমিকরা।

সূত্র: কালের কণ্ঠ
এম ইউ/২৪ আগস্ট ২০২২

Back to top button