ব্যবসা

মূল্যস্ফীতি ১০% ছাড়াতে পারে

ঢাকা, ২২ আগস্ট – জিনিসপত্রের দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে আগামী মাসে এই হার ১০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর। তবে এর পাল্টা জবাবে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম বলেছেন, ‘আমাদের দেশের অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা প্রকাশে খুবই দক্ষ। সব কিছুতেই তাঁরা আশঙ্কাবাদী। দেশের অর্থনীতির ভালো দিকগুলো তাঁদের চোখে পড়ে না।

তাঁরা অর্থনীতির বিভিন্ন দিক নিয়ে আশঙ্কা জানিয়ে যেসব ভবিষ্যদ্বাণী করেন এর একটিও বাস্তবে দেখা যায় না। এ জন্য আমরা অর্থনীতিবিদের আশঙ্কার কথাগুলো আমলে নিই না। ’
গতকাল রবিবার অর্থনৈতিক সাংবাদিকদের সংগঠন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন চ্যালেঞ্জ’ বিষয়ক এক আলোচনা অনুষ্ঠানে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রা বাজারের অস্থিরতা সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ মো. হাবিবুর রহমান, বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি মো. হাতেম, মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এমসিসিআই) সাবেক সভাপতি ব্যারিস্টার নিহাদ কবির ও ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আবুল কাশেম খান।

আহসান মনসুর অভিযোগ করেন, মূল্যস্ফীতি এখন অর্থনীতির প্রধান সমস্যা। জিনিসপত্রের দাম যেভাবে বাড়ছে, এর ফলে আগামী মাসে এই হার ১০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে। সরকার মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যত কিছুই করেনি। বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণেও ব্যর্থ হয়েছে। লেনদেনের ভারসাম্যে ঘাটতি সহসাই কমবে না। যদিও আগামীতে রপ্তানি ও রেমিট্যান্স আয় বাড়বে। ’

বাংলাদেশ ব্যাংকের সমালোচনা করে তিনি বলেন, মনিটারি পলিসি বা মুদ্রানীতি বলতে কিছু নেই। এটি স্রেফ বিবৃতিমূলক রচনায় পরিণত হয়েছে।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি মূল্যস্ফীতিকে ইন্ধন দিচ্ছে উল্লেখ করে শামসুল আলম বলেন, এ কারণে মানুষের কষ্ট হচ্ছে, কথাটি সত্য। দাম না বাড়িয়ে বিকল্প ছিল না। তবে এ বিষয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করা হচ্ছে অক্টোবরের মধ্যে মূল্যস্ফীতি কমে আসবে। তবে চাপ থাকবে।

তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে মজুরিতে বড় ধরনের ধাক্কা আসবে। এতে শ্রমিকদের মধ্যে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে, যা দেখা গেছে চা শ্রমিকদের ক্ষেত্রে।

মোহাম্মদ হাতেম বলেন, রপ্তানি আদেশে কমছে। বড় বড় কারখানা উৎপাদন কমাতে বাধ্য হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে উৎপাদন খরচও বেড়ে গেছে। ক্রেতাদের কাছ থেকে বাড়তি খরচের সমন্বিত মূল্য পাওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে সরকার প্রণোদনার ঋণ পরিশোধে যে কম সময় দিয়েছে তাতে ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া বন্ড লাইসেন্স, এইচএসকোডসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এনবিআরের পলিসি ব্যবসায়ী পরিপন্থী।

অভ্যন্তরীণ ও বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতামূলক থাকা এখন প্রথম চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে ব্যারিস্টার নিহাদ কবির বলেন, দেশের অর্থনীতি ও আর্থিক খাতের ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা রয়েছে। এসব দুর্বলতা কাটিয়ে না উঠলে ভবিষ্যৎ খারাপ হবে। এ ছাড়া নীতিনির্ধারণী পদ্ধতির কারণে ব্যবসায় নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। ব্যবসার খরচ বেড়ে যাচ্ছে। এটাও বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, চাল, মাছ, মুরগির দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষের সমস্যা হচ্ছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমে আসছে, সেটা সমন্বয় করতে হবে।

আবুল কাশেম খান বলেন, দেশে যে কয়লা ও গ্যাসের ব্যবহার করতে হবে, সে জন্য মাস্টারপ্ল্যান করা উচিত। যাতে আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরে মধ্যে জ্বালানিতে স্বনির্ভর হয় দেশ।

রাজধানীর ইআরএফ কার্যালয়ে শারমিন রিনভীর সভাপতিত্বে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এস এম রাশিদুল ইসলাম সঞ্চালনা করেন।

সূত্র: কালের কণ্ঠ
এম ইউ/২২ আগস্ট ২০২২

Back to top button