ইসলাম

মদিনায় প্রেরিত ইসলামের প্রথম ধর্মীয় শিক্ষক

মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা

নবীজি (সা.)-এর নির্দেশে মদিনায় ইসলামী শিক্ষার আলো ছড়ানো প্রথম প্রতিনিধি মুসআব ইবনে উমাইর (রা.)। তিনি ছিলেন মদিনাবাসীর ধর্মীয় শিক্ষক ও ইমাম। উহুদ যুদ্ধে শাহাদাতবরণকারী। তাঁর উপনাম আবু আব্দুল্লাহ।

মক্কার বিখ্যাত ‘কুরাইশ’ গোত্রের ‘বনু আব্দুদদার’ শাখার সন্তান। গোত্রমূলের দিকে সম্বন্ধ করে তাঁকে কুরাইশি এবং শাখা গোত্রের দিকে সম্বন্ধ করে ‘আবদারি’ বলা হয়।
ইসলাম গ্রহণের আগে মুসআব (রা.) ছিলেন মা-বাবার অতি আদরের সন্তান। তৎকালীন কুরাইশ বংশের অন্যতম সুদর্শন যুবক। তাঁর অভিজাত পোশাক খুব সহজেই যে কারো দৃষ্টি আকর্ষণ করত। তিনি উন্নতমানের প্রসাধনী ও সুগন্ধি ব্যবহার করতেন, তাই তিনি কারো পাশ দিয়ে হেঁটে গেলেই তারা অনুভব করতে পারত যে মুসআব (রা.) যাচ্ছেন। এভাবে তিনি মা-বাবা, পরিবারে বিলাসিতা ও আনন্দের দোলনায় বেড়ে ওঠেন। বিভিন্ন কিতাবে পাওয়া যায়, সে যুগে মক্কার যুবসমাজে মুসআব (রা.)-এর চেয়ে সুদর্শন ও আকর্ষণীয় পোশাকধারী আরেকজন যুবক ছিল না। (আল-ইসতিআব : ৪/১৪৭৪, রিজালুন হাওলার রাসুল : ১/২৪)

বাহ্যিক সৌন্দর্যের প্রতি আকর্ষণের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ ও আদর্শিক সৌন্দর্যের প্রতিও ছিল তাঁর প্রবল আগ্রহ। রাসুল (সা.) সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ দ্বিন নিয়ে আবির্ভূত হয়েছেন, খবরটি তাঁর কাছে পৌঁছলেই তিনি সত্য নিয়ে ভাবতে লাগলেন। একসময় মুহাম্মদ (সা.)-এর আনীত দ্বিনের সত্যতা উপলব্ধি করলেন। এবং এর কঠিন পরিণতি উপলব্ধি করেও ইসলাম ধর্ম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলেন। তিনি জানতেন, ইসলাম গ্রহণের পর মক্কার প্রশস্ত ভূমি তাঁর জন্য সংকীর্ণ হয়ে যাবে। মা-বাবার মায়ার পরশ পরিণত হবে পাশবিকতার জাঁতাকলে।

অবশেষে তিনি জানতে পারেন, রাসুল (সা.) দারুল আরকামে ইসলাম প্রচারের কাজ করছেন। সাহাবায়ে কিরামকে কোরআন, জরুরি মাসআলা ইত্যাদি তালিম দিচ্ছেন। সত্যের সন্ধানে তিনিও সেখানে গিয়ে হাজির হন এবং কলেমা পড়ে মুসলমান হয়ে যান। (আল-ইসতিআব : ৪/১৪৭৪)

বিষয়টি গোপন রেখে নবীজি (সা.)-এর সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ, দারুল আরকামে আসা-যাওয়া শুরু করেন। কিন্তু তিনি বেশিদিন তাঁর ইসলাম গ্রহণের বিষয়টি গোপন রাখতে পারলেন না। একদিন তাঁকে নামাজ পড়া অবস্থায় দেখে ফেলে উসমান ইবনে ত্বলহা। খবরটি শুনে তাঁর মমতাময়ী মা হয়ে ওঠেন কঠোর। মা ও গোত্রের লোকজন তাঁকে আটক করে একটি ঘরে বন্দি করে রাখে। (আল-ইসতিআব : ৪/১৪৭৪)

বন্দি অবস্থায় তিনি একদিন খবর পেলেন তাঁর মতো নির্যাতিত মুসলমানের একটি দল হাবশায় হিজরত করছেন। সুকৌশলে তিনি সেই দলটির সঙ্গে চলে গেলেন হাবশায়। কয়েক বছর হাবশায় থেকে আবার মক্কায় ফিরে আসেন।

নবুয়তের দ্বাদশ বছর মদিনার ১২ জন আনসার মিনার আকাবা নামক স্থানে রাসুল (সা.)-এর হাতে বাইআত (শপথ) করেন। সেটা ছিল আকাবার প্রথম বাইআত। তাদের বিদায়কালে রাসুল (সা.) তাদের সঙ্গে মুসআব (রা.)-কে মদিনাবাসীর ধর্মীয় শিক্ষক ও দাঈ হিসেবে প্রেরণ করেন। তিনিই ছিলেন ইসলামের সর্বপ্রথম দূত। ইতিপূর্বে রাসূল (সা.)-এর পক্ষ থেকে কোনো দূত কোথাও প্রেরিত হননি। তখন মক্কায় মুসআব (রা.)-এর চেয়ে বয়সে ও মর্যাদায় বড় অনেক সাহাবি ছিলেন বটে। তবু প্রিয় নবী (সা.) তাঁকেই নির্বাচন করলেন। (আল-ইসতিআব : ৪/১৪৭৪, উসদুল গাবাহ : ৪/৪০৫)

আইএ

Back to top button