চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামে বাড়ছে ডায়রিয়ার প্রকোপ

চট্টগ্রাম, ২১ আগস্ট – চট্টগ্রাম নগরীতে হঠাৎ করে দেখা দিয়েছে ডায়রিয়ার প্রকোপ। গত সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার (১৮ আগস্ট) পর্যন্ত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) হাসপাতালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ১৭২ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬৩ জন।

আক্রান্তদের অধিকাংশই নগরীর দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের ইপিজেড, হালিশহর, সল্টগোলা এলাকার বাসিন্দা। তবে এখনও পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১১৭ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালসহ কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালেও ডায়ারিয়ায় আক্রান্ত হয়ে রোগী ভর্তি হচ্ছেন।

জানা গেছে, এরআগে গত ২৪ ঘণ্টায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে বিআইটিআইডি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৫ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম মেডিকেলের ১৩, ১৪, ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে প্রতিদিন গড়ে ১০ জন রোগী ভর্তি হচ্ছেন।

চট্টগ্রাম মেডিকেলে প্রতিদিন গড়ে ভর্তি হচ্ছে আট থেকে ১০ জন রোগী। এরমধ্যে বিআইটিআইডির রোগীদের নমুনা পরীক্ষা করে ১৭ জনের শরীরে কলোরার জীবাণু পাওয়া গেছে।

নগরীর দক্ষিণ অংশে ওইসব এলাকাগুলোতে খাবার পানি থেকে এ রোগ ছড়াতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। প্রথমে হালকা জ্বর ও বমির সঙ্গে শুরু হচ্ছে ডায়রিয়া। স্থানীয় ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনে খেয়েও ভালো হচ্ছেন না অনেকে। পরে তাদের হাসপাতালে ছুটতে হচ্ছে। মূলত ওয়াসার পানি ফুটিয়ে পান না করার ফলে এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে বিআইটিআইডি হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. মামুনুর রশিদ বলেন, ‘স্বাভাবিক সময়ে এই হাসপাতালে ২০ থেকে ২২ ডায়রিয়া রোগী চিকিৎসাধীন। বর্তমানে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি রোগী ভর্তি আছেন। এদের মধ্যে শুধু ডায়রিয়ায় আক্রান্ত নন, অনেকে কলেরার জীবাণু বহন করছেন।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রামে ঠিক কি কারণে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী বাড়ছে, তা সুনির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। তবে হাত না ধুয়ে কোনো কিছু খেলে বা বাসি-পচা খাবার খেলেও ডায়রিয়া হতে পারে। পানির মাধ্যমে ডায়রিয়ার জীবাণু বেশি ছড়ায়। তাই পানি ফুটিয়ে পান করা সবচেয়ে বেশি নিরাপদ।

এদিকে, চট্টগ্রাম ওয়াসার পানি থেকে এ রোগ ছড়াচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে শুক্রবার (১৯ আগস্ট) চট্টগ্রামে এসেছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) একটি দল। সাত সদস্যের এ দল শনিবার (২০ আগস্ট) সকাল থেকে ওয়াসাসহ বিভিন্ন খাবার পানির নমুনা সংগ্রহ করেন।

সাত সদস্যের টিমে আছেন ডা. মো. ওমর ফারুক, ডা. সোনাম বড়ুয়া, ডা. ইমামুল মুনতাসির, ডা. সাদিয়া আফরীন, ডা. মো. আনোয়ার হোসেন, মো. আজিজুর রহমান ও মো. আমিরুল ইসলাম।

টিমের সদস্য ডা. সোনাম বড়ুয়া বলেন, ‘শনিবার থেকে পানির নমুনা সংগ্রহ করছি। এরপর আইইডিসিআর’র ল্যাবে পরীক্ষা করার পর ডায়রিয়ার কারণ জানা যাবে। নমুনা সংগ্রহ করতে কতদিন সময় লাগে তা এখন বলা যাচ্ছে না। নমুনা সংগ্রহ শেষ হওয়ার পর আমার ঢাকায় ফিরে যাবো। পরে ফল জানাবো।’

সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল
আইএ/ ২১ আগস্ট ২০২২

Back to top button