জানা-অজানা

চিরস্থায়ী বিষের বিরুদ্ধে জয়!

রেইনকোট, হিমায়িত বা প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের মোড়ক, ননস্টিক ফ্রাইপ্যান বা আগুন নেভানোর ফোমের মতো আধুনিক জীবনযাপনের নিত্য অনুষঙ্গ। তবে এগুলোর মাধ্যমে মানুষ প্রতিনিয়ত রাসায়নিক বিষগ্রহণ করে চলেছে। কারণ এগুলো তৈরি হয় পারফ্লোরিনেটেড অ্যালকায়লেটেড সাবস্ট্যান্স (পিএফএএস) নামক রাসায়নিক দিয়ে, যা প্রকৃতিতে সহজে ভাঙে না। ধীরে ধীরে এগুলো মানুষের শরীরে জমা হয়ে লিভার ক্যানসারের মতো নানা জটিল রোগের সৃষ্টি করে। এ কারণেই বিশেষজ্ঞরা এসব উপাদানকে চিরস্থায়ী রাসায়নিক বা চিরস্থায়ী বিষ হিসেবে আখ্যা দেন। তবে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের একদল গবেষক পিএফএএস ভাঙার নতুন এক কৌশল খুঁজে পেয়েছেন, যা এসব চিরস্থায়ী বিষের হাত থেকে প্রকৃতি ও মানুষকে রক্ষা করতে পারে।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানাচ্ছে, গত বৃহস্পতিবার গবেষকদের এ আবিষ্কারসংক্রান্ত নিবন্ধটি বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী ‘সায়েন্সে’ প্রকাশিত হয়েছে। তারা বলেছেন, গত কয়েক দশক ধরে এ রাসায়নিকগুলো মানুষের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি করে চলেছে। কিন্তু প্রকৃতি থেকে এগুলো বিনাশের কোনো উপায় পাওয়া যাচ্ছিল না। তবে সাধারণ সাবান ও একধরনের দ্রাবক দিয়ে বেশ কয়েক ধরনের পিএফএএস ভাঙার উপায় পাওয়া গেছে। এ ক্ষেত্রে নিম্ন তাপমাত্রাও একটা নিয়ামক হিসেবে কাজ করে।

গবেষণা নিবন্ধের জ্যেষ্ঠ লেখক ও যুক্তরাষ্ট্রের নর্থওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক উইলিয়াম ডিচেল বলেন, ‘আমি আসলে এ কারণে বিজ্ঞানের চর্চা করি। বিজ্ঞান মানুষের জন্য কল্যাণের পথ দেখায়। চিরস্থায়ী বিষের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নতুন আবিষ্কার পৃথিবীর জন্য অবশ্যই ইতিবাচক প্রভাব রাখবে।’

১৯৩৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি প্রথম ডুপন্ট নামের একধরনের পিটিএফই উদ্ভাবন করে। অতি উচ্চ তাপেও রাসায়নিকটি ধাতুর ক্ষয় ঠেকাতে সক্ষম ছিল, এজন্য বিশ্বের প্রথম পারমাণবিক বোমা তৈরিতে এটি ব্যবহার করা হয়। পরে ননস্টিক প্যান, আগুন নেভানো ফোমে নিয়মিত ব্যবহার হতে থাকে রাসায়নিকটি। এরপর থেকে মানুষ প্রায় সাড়ে চার হাজার রাসায়নিক তৈরি করেছে। এখন মাটি, খাবার পানি, খাদ্য, পশুপাখি এবং এমনকি মানবদেহেও মিলছে এ গোত্রের রাসায়নিকের উপস্থিতি। যা মানুষের কিডনি ও লিভার ক্ষতিগ্রস্ত করাসহ, পুরুষের উর্বরতা হ্রাস ও ত্বকের নানা ধরনের রোগের সৃষ্টি করছে। এজন্য জাতিসংঘও এগুলোকে ‘মানুষের আবিষ্কার করা সবচেয়ে বিপজ্জনক রাসায়নিক’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

এম ইউ


Back to top button
🌐 Read in Your Language