উত্তর আমেরিকা

নিউ ইয়র্কে পোলিও শনাক্ত, বিশেষ সতর্কতা জারি

শামীম আল আমিন

ওয়াশিংটন, ২০ আগস্ট – যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের আপস্টেটের দুটি কাউন্টিতে পোলিও শনাক্ত হয়েছে। এতে করে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে দেশটির সেন্ট্রাল ফর ডিজিস কন্ট্রোল (সিডিসি)।

চলতি মাসের শুরুর দিকে প্রথমে রকল্যান্ড কাউন্টিতে পোলিও রোগীর সন্ধান পাওয়ার কথা প্রকাশিত হয়। এরপর পাশের অরেঞ্জ কাউন্টিতেও রোগটির জীবাণু ছড়িয়েছে বলে জানা যায়।

পরিস্থিতি এমন যে, পানি ও সুয়ারেজ লাইনেও পোলিও’র জীবাণু পাওয়ার কথা জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
পরিসংখ্যান বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৪০-এর দশকে বছরে গড়ে ৩৫ হাজার মানুষ পোলিওতে আক্রান্ত হতো। ১৯৫৫ সালে শিশুদের মধ্যে চার ডোজের টিকা দেয়ার জোরদার কর্মসূচি শুরু হয় সে দেশে।

ফলে ১৯৭৯ সালের দিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে রোগটি পুরোপুরি নির্মূল হয়ে যায়। তবে আবারো রোগটির ফিরে আসার পেছনে কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনো দেশটির কিছু কিছু জায়গায় মানুষ টিকা নিতে চায় না। ধর্মীয় কারণের সঙ্গে সাম্প্রতিক কিছু রাজনৈতিক বিষয় যুক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে।

প্রায় দেড় দশক ধরে নিউইয়র্কে স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে যাচ্ছেন ডা. প্রতাপ দাস। এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বলেন, করোনাভাইরাসের প্রচণ্ড প্রকোপের মধ্যেও একটা শ্রেণির মানুষকে টিকা নিতে দেখা যায়নি সে দেশে। পোলিও ছড়ানোর পেছনেও টিকা না নেয়াই কারণ।

এ নিয়ে শঙ্কার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, পোলিও’র টিকা পরীক্ষিত এবং ৯৯ শতাংশ পর্যন্ত কার্যকর। ফলে কেবল টিকা দেয়া নিশ্চিত করা গেলেই এই সঙ্কট থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

বিভিন্ন পরিসংখ্যান বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে জাতীয়ভাবে টিকা নেয়ার হার যেখানে ৯৩ শতাংশ। সেখানে রকল্যান্ড ও অরেঞ্জ কাউন্টির প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ টিকা নিয়েছে। এমন চিত্র রয়েছে দেশটির অনেক জায়গাতেই। যার কারণে ভবিষ্যতে আরো সঙ্কটের শঙ্কা রয়েই গেছে।

পোলিও’র কারণে কেবল নিউইয়র্ক নয়, যুক্তরাষ্ট্রজুড়েই বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে সিডিসি। নেয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। এই মুুহূর্তে সঙ্কট মোকাবেলায় নানা উপায় খুঁজছে সিডিসি। আক্রান্ত এলাকায় খোলা হয়েছে বিশেষ টিকা কেন্দ্র। শিশুদের অতিরিক্ত একটি ডোজ দেয়া হচ্ছে।

ডা. প্রতাপ দাস বলছেন, পোলিওতে আক্রান্ত চারজনের মধ্যে তিনজনেরই কোনো ধরনের উপসর্গ থাকে না। এরপরও তারা রোগটি ছড়িয়ে দিতে পারে।

আর এখানেই ভয় দেখছেন তিনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, পোলিও’র লক্ষণ গলাব্যথা ও মাথাব্যথা অন্য রোগের উপসর্গের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলার ঝুঁকি থাকে। আক্রান্ত প্রতি ২০০ জনের মধ্যে কেবল একজন পঙ্গুত্ব বরণের ঝুঁকিতে থাকে। অবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ শ্বাস নিতে না পেরে মারা যায়।

নিউইয়র্কের একটি হাই স্কুলের শিক্ষক শেখ আল মামুন বলেন, পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো আমেরিকাতেও কোভিড-১৯ এর ধকল এখনো কাটেনি। তার ওপর মাংকি পক্স ভীতি ছড়াচ্ছে। মিশিগান আর ওহাইওতে মিলেছে ই-কোলাই ভাইরাসের দেখা। এমন পরিস্থিতিতে ছুটি কাটিয়ে সেপ্টেম্বরে শিক্ষার্থীরা ফিরবে স্কুলে। এরই মধ্যে কিছু স্টেটে স্কুল খুলেও গেছে। ফলে কর্তৃপক্ষকে দ্রুত সঙ্কট সমাধানের উপায় খুঁবে বের করতে হবে।

সূত্র: কালের কন্ঠ
আইএ/ ২০ আগস্ট ২০২২

Back to top button