দক্ষিণ এশিয়া

পাকিস্তান সরকারে কোন্দল

ইসলামাবাদ, ১৮ আগস্ট – স্মরণকালের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এশিয়ার দেশ পাকিস্তান। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে যেমন ডলারের বিপরীতে রুপির ব্যাপক অবনমন হয়েছে, অন্যদিকে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিও হয়েছে রকেটের গতিতে। এছাড়া রিজার্ভও রয়েছে ক্রমেই পড়তির দিকে। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন জোটের অন্যতম প্রধান দল পাকিস্তান মুসলিম লিগ (নওয়াজ)-এর নেতাদের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছেন দলটিরই শীর্ষ নেতা নওয়াজ শরিফ। মূলত জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে এই দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। এমনকি দ্বন্দ্বের কারণে দলীয় বৈঠক থেকে বেরিয়েও যান ক্ষুব্ধ নওয়াজ।

গতকাল বুধবার দ্য নিউজ ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান মুসলিম লিগ (নওয়াজ)’র অভ্যন্তরীণ এই দ্বন্দ্বকে লন্ডন পিএমএলএন এবং ইসলামাবাদ পিএমএলএন-এর মধ্যে কোন্দল হিসেবে দেখা হচ্ছে। নওয়াজ শরিফ এখন লন্ডনে অবস্থান করছেন এবং সেখান থেকেই নিজের দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। গত মঙ্গলবার রাতে পাকিস্তানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ সরকারের অর্থনৈতিক পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা কর্মকাণ্ড নিয়ে লন্ডন পিএমএলএন এবং ইসলামাবাদ পিএমএলএন-এর মধ্যে একটি অস্বাভাবিক কোন্দল দেখা যায়।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধান নওয়াজ শরিফ লন্ডন থেকে একটি ভিডিও লিংকের মাধ্যমে ওই বৈঠকে অংশ নেন। তবে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সৃষ্ট দ্বন্দ্বের কারণে দলীয় ওই বৈঠক থেকে বেরিয়ে যান তিনি। পিএমএলএন সূত্র বলছে, মঙ্গলবার রাতের ওই বৈঠকে পাকিস্তানে পেট্রলের দাম বাড়ানোর বিরুদ্ধে অবস্থান নেন মিয়া নওয়াজ শরিফ। আর দলীয় প্রধানের এই মতামতে সমর্থন দেন আরেক পিএমএলএন নেতা ইসহাক দার। অন্যদিকে পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী মিফতাহ ইসমাইল এবং শাহিদ আব্বাসি মনে করেন, দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ভঙ্গুর এবং এ কারণে সতর্কতা অবলম্বন করা দরকার। পিএমএলএন ইসলামাবাদের একজন নেতা বলেছেন, পাকিস্তান সরকারের অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত সম্পর্কে লন্ডন থেকে চাপ দেওয়া উচিত নয়। এতে করে পাকিস্তান ও আইএমএফ’র মধ্যকার চুক্তি নষ্ট হতে পারে।

লন্ডন পিএমএলএন’র অভিযোগ ছিল পাকিস্তানের বর্তমান সরকার আইএমএফের সঙ্গে আরও ভালো চুক্তি করতে পারত। তবে এই অভিযোগের পর তাকে (নওয়াজ শরিফ) পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল যে, হয় তাকে পাকিস্তানে ফিরে গিয়ে দায়িত্ব নিতে হবে বা না হলে ইসলামাবাদকে তার সিদ্ধান্ত নিতে দিতে হবে। মঙ্গলবার রাতের ওই বৈঠকে উল্লেখ করা হয়, পাকিস্তানে পেট্রলের দাম পর্যালোচনার জন্য একটি স্পষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে এবং এ বিষয়ে সরকারের কিছুই করার নেই। আরও বলা হয়, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে হস্তক্ষেপ করা মানে আরও গুরুতর সমস্যাকে ডেকে আনা।

বৈঠকে এই যুক্তি ও পাল্টা-যুক্তির পর নওয়াজ শরিফ বৈঠক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তিনি সরকারের এই জাতীয় কোনো সিদ্ধান্তের অংশ হতে পারবেন না। এমন যুক্তি আগে খুব কমই দেখা গেছে। লন্ডন পিএমএলএন-এর পাল্টা যুক্তি দিতে গিয়ে দলের ইসলামাবাদের নেতারা যেসব শব্দচয়ন বেছে নেন তা খুব ভালো ছিল না এবং এতে করে নওয়াজ শরিফ মর্মাহত হন।

তবে মজার বিষয় হলো, নওয়াজ শরিফ যে পেট্রলের দাম বাড়ানোর সরকারি সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছেন সেটি মঙ্গলবার রাতেই একটি টুইট বার্তায় প্রকাশ করে দেন মরিয়ম নওয়াজ। তবে সূত্রগুলো বলছে, গত রাতে দেশের অর্থনৈতিক পরিচালনার বিষয়ে দলের মধ্যে তীব্র বিভক্তি দেখেছে পিএমএলএন।

সূত্র: দেশ রূপান্তর
এম ইউ/১৮ আগস্ট ২০২২

Back to top button