গবেষণা

মস্তিষ্কে করোনার ক্ষতিকর প্রভাব থাকে বছরের পর বছর

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া ব্যক্তিদের নানা ধরনের শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়। অনেক ক্ষেত্রে সুস্থ হয়ে ওঠার পরেও কিছু সমস্যা থেকেই যায়। সম্প্রতি নতুন এক গবেষণা বলছে, কোভিড থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা অন্তত দুই বছরের জন্য মানসিক ব্যাধি, স্মৃতিশক্তি লোপ বা একই ধরনের অবস্থার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছেন। মহামারির কারণে দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা যে ক্রমবর্ধমান শারীরিক ও মানসিক ঝুঁকি তৈরি করেছে তা বৃহ্ত্তর ওই গবেষণায় তুলে ধরা হয়েছে।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের মতে, অন্যান্য শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের তুলনায় কোভিডের পর উদ্বেগ এবং বিষণ্নতা বেশি দেখা যায়। তবে এক্ষেত্রে ঝুঁকি সাধারণত দুই মাসের মধ্যেই কমে যায়।

অপরদিকে ল্যানসেট জার্নালে বুধবার প্রকাশিত একটি সমীক্ষা অনুসারে, করোনা থেকে সেরে ওঠার পরেও প্রায় ২৪ মাস বা দুই বছর পর্যন্ত ব্রেন ফগ বা মস্তিষ্কে কুয়াশা (করোনা থেকে সেরে ওঠার পর সাময়িক স্মৃতিশক্তি হ্রাস), মৃগীরোগ, খিঁচুনি এবং অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদী মানসিক ও মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে। অর্থাৎ কিছু রোগীর মধ্যে এ ধরনের সমস্যা বছরের পর বছর থেকে যেতে পারে।

সাড়ে ১২ লাখের বেশি রোগীর রেকর্ডের ওপর ভিত্তি করে নতুন গবেষণা চালানো হয়েছে। মনোরোগ বিষয়ক অধ্যাপক এবং গবেষণার প্রধান লেখক পল হ্যারিসন বলেন, এই ফলাফল রোগীর ক্ষেত্রে এবং স্বাস্থ্য পরিষেবাগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।

এই গবেষণা থেকে জানা যাচ্ছে যে, কোভিড-১৯ সংক্রমণের কারণে তৈরি হওয়া বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা এই সংক্রমণ থেকে সেরে ওঠার পরেও থেকে যেতে পারে। এমনটা কেন ঘটে তা বোঝার জন্য আরও গবেষণার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন তিনি। এতে করে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা সহজ হবে।

সহ-লেখক ম্যাক্স ট্যাকুয়েট বলেন, এটি ভালো খবর যে কোভিডের পর বিষণ্নতা এবং উদ্বেগ নির্ণয়ের উচ্চ ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে স্বল্পস্থায়ী এবং শিশুদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের ঝুঁকির বৃদ্ধির সম্ভাবনা কম। তবে উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, স্মৃতিভ্রংশ বা খিঁচুনির মতো কিছু অন্যান্য অবস্থা কোভিডের পরেও প্রায়ই ঘটতে পারে এমনকি দুই বছর পর্যন্ত তা স্থায়ী হতে পারে। তবে গবেষকরা বলছেন, টিকা স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনতে সক্ষম।

এদিকে করোনাভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে মৃত্যু ও সংক্রমণ দুটোই বেড়েছে। ওয়ার্ল্ডোমিটারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এসময়ে ২ হাজার ৩৩ জনের মৃত্যুর পাশাপাশি সংক্রমিত হয়েছেন ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৫৬০ জন। এ নিয়ে বিশ্বে মোট মৃত্যু বেড়ে ৬৪ লাখ ৬২ হাজার ১১৬ জন এবং শনাক্ত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৯ কোটি ৭৬ লাখ ৭২ হাজার ৬৬০ জনে।

একদিনে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ দক্ষিণ কোরিয়ায় আর দৈনিক প্রাণহানির তালিকায় শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দৈনিক মৃত্যুর তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের পরেই রয়েছে জাপান, ব্রাজিল, ইতালি ও হাঙ্গেরির মতো দেশগুলো। অপরদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সেরে উঠেছেন ৮ লাখ ৮৪ হাজার ৮২৮ জন। এ নিয়ে মোট সুস্থ হলেন ৫৭ কোটি ১৬ লাখ ৯৯ হাজার ৪৯৯ জন।

এম ইউ

Back to top button