ইসলাম

সন্দেহ সব শেষ করে দেয়

জাওয়াদ তাহের

পরিবার, সংসার ও প্রতিষ্ঠান—সব তছনছ হয়ে যায় সন্দেহে। ইসলামে কুধারণা পাপ। মুমিনদের আদেশ দেওয়া হয়েছে কারো ব্যাপারে মন্দ ধারণা না করার জন্য। আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনরা, অধিক পরিমাণ অনুমান থেকে বেঁচে থেকো।

কোনো কোনো অনুমান গুনাহ। ’ (সুরা : আল-হুজুরাত, আয়াত : ১২)
অন্যদিকে নিজের ব্যাপারে কুধারণা তৈরি হয়—এমন কাজ করতে মুমিনদের নিষেধ করা হয়েছে।

সাফিয়্যাহ বিনতে হুয়াই (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) ইতিকাফ অবস্থায় ছিলেন। আমি রাতে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে এলাম। অতঃপর তাঁর সঙ্গে কিছু কথা বললাম। অতঃপর আমি ফিরে আসার জন্য দাঁড়ালাম। তখন আল্লাহর রাসুল (সা.)-ও আমাকে পৌঁছে দেওয়ার জন্য আমার সঙ্গে ওঠে দাঁড়ালেন। তাঁর বাসস্থান ছিল ওসামা ইবনে জায়েদের বাড়িতে। এ সময় দুজন আনসারি সে স্থান দিয়ে অতিক্রম করল। তারা যখন নবী (সা.)-কে দেখল তখন তারা দ্রুততার সঙ্গে চলে যেতে লাগল। তখন নবী (সা.) বলেন, তোমরা একটু থামো। এ হচ্ছে সাফিয়্যা বিনতে হুয়াই (রা.)। তারা বলল, সুবহানাল্লাহ! হে আল্লাহর রাসুল। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, মানুষের রক্তধারায় শয়তান প্রবহমান থাকে। আমি শঙ্কাবোধ করছিলাম, সে তোমাদের মনে কোনো খারাপ ধারণা অথবা বললেন অন্য কিছু সৃষ্টি করে কি না। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩২৮১)

প্রিয় নবী (সা.)-এর ব্যাপারে সাহাবায়ে কেরাম কখনো মন্দ ধারণা করতে পারেন না। তবু রাসুল (সা.) তাদের সতর্ক করে দিলেন যে এমন কোনো বিষয় সম্মুখীন হলে সন্দেহকে দূর করে দেওয়া। কারণ শয়তান প্রতিনিয়ত আমাদের রক্ত কণিকায় চলাচল করে। এ জন্য কোনো বিষয়ে সন্দেহ হলে, তা ছেড়ে দিয়ে সন্দেহমুক্ত পথ গ্রহণ করার কথা বলা হয়েছে।

প্রিয় নবী (সা.) সাহাবাদের সতর্ক করেছেন কারো ব্যাপারে এমন কোনো কথা না বলার জন্য, যাতে তার ব্যাপারে মন্দ ধারণা তৈরি হয়। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আমার সাহাবিদের কেউ যেন তাদের অপরজনের কোনো খারাপ কথা আমার কাছে না পৌঁছায়। কারণ আমি তাদের সঙ্গে পরিষ্কার ও উদার মন নিয়েই দেখা করতে ভালোবাসি। (জামে তিরমিজি, হাদিস : ৩৮৯৬)

কারো ব্যাপারে কারো যেন কোনো খারাপ ধারণা মনের মধ্যে উদয়ের সুযোগ না হয় সে জন্য সাহাবায়ে কেরাম কেমন সতর্কতা অবলম্বন করেছেন, তার নমুনা এই হাদিস দেখলেই বুঝে আসে। আবদুল্লাহ ইবনে দিনার (রহ.) বলেন, আমি ও আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) খালিদ ইবনে ওকবা (রা.)-এর সেই ঘরের কাছে ছিলাম, যা বাজারে অবস্থিত ছিল। ইত্যবসরে এক ব্যক্তি এসে তাঁর সঙ্গে কানে কানে কিছু কথা বলতে ইচ্ছা করল। ইবনে ওমর (রা.)-এর সঙ্গে আমি ও সেই ব্যক্তি ছাড়া—যে তাঁর সঙ্গে কানে কানে কথা বলতে চেয়েছিল, আর কেউ ছিল না। অতঃপর আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) অন্য এক ব্যক্তিকে ডেকে নিলেন। এখন আমরা চারজন হলাম এবং তিনি আমাকে ও সেই ব্যক্তিকে একটু সরে যেতে বললেন, যাকে ডেকে নিয়েছিলেন এবং বললেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে শুনেছি। তিনি বলেছেন, দুজন একজনকে একা ছেড়ে কানে কানে কথা বলবে না। (এতে তৃতীয় ব্যক্তি দুঃখিত হয় এবং এতে তার অন্তরে বিভিন্ন মন্দ ধারণা উদয় হয়। (মুয়াত্তা ইমাম মালিক, হাদিস : ১৭৯৭)

আইএ

Back to top button