দক্ষিণ এশিয়া

কয়লার বিকল্প ভেনেজুয়েলার পেটকোক কিনছে ভারত, রয়েছে মূল্যছাড়ও

নয়াদিল্লী, ১৭ আগস্ট – কয়লার বিকল্প হিসেবে ভেনেজুয়েলা থেকে বিপুল পরিমাণ পেট্রোলিয়াম কোক কিনছে ভারত। এক্ষেত্রে বড় মূল্যছাড়ও পাচ্ছে তারা। ভেনেজুয়েলার তেল খাতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও পেটকোকের মতো তেল উপজাত পদার্থ রপ্তানিতে কোনো বিধিনিষেধ নেই। সে কারণে এ ধরনের পণ্য রপ্তানি বাড়াতে সচেষ্ট দক্ষিণ আমেরিকার দেশটি। খবর রয়টার্সের।

পেট্রোলিয়াম কোক, সংক্ষেপে কোক বা পেটকোক একটি চূড়ান্ত কার্বন-সমৃদ্ধ কঠিন পদার্থ, যা তেল পরিশোধনের পর পাওয়া যায়। এটিও একপ্রকার জ্বালানি। পেটকোক সাধারণত কয়লার বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

বিশ্বব্যাপী কয়লার মূল্যবৃদ্ধি এবং বিদ্যুৎ শিল্পের জন্য সস্তা জ্বালানি জোগাড়ের তাড়নায় ভেনেজুয়েলান পেটকোকের প্রতি ভারতের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। এতে উপকৃত হচ্ছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশটিও। তাদের মহামূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় বাড়ছে। এ কারণে ভেনেজুয়েলার সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো পেট্রোকেমিক্যাল ও তেল উপজাত পদার্থ রপ্তানি বাড়িয়েছে।

সবচেয়ে বড় কথা, ভেনেজুয়েলার তুলনামূলক সস্তা পেটকোক যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি আরবের মতো ঐতিহ্যবাহী সরবরাহকারীদের জায়গা দখল করতে পারে।
রেফিনিটিভ শিপট্র্যাকিং ডেটা, ভেনেজুয়েলান শিপিং শিডিউল এবং সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্রমতে, গত এপ্রিল থেকে জুলাই মাসে অন্তত চারটি কার্গোতে ১ লাখ ৬০ হাজার টন ভেনেজুয়েলান পেটকোক আমদানি করেছে ভারতীয় সিমেন্ট কোম্পানিগুলো। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে আরও ৫০ হাজার টন ভারতের ম্যাঙ্গালোর বন্দরে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। আর আগস্টের শেষের দিকে পৌঁছাবে আরও ৩০ হাজার টন পেটকোক।

দুটি সূত্র ও নথিপত্র বলছে, ভারত সাধারণত যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব থেকে পেটকোক আমদানি করে। দেশটিতে প্রথমবারের মতো ভেনেজুয়েলান পেটকোক পৌঁছায় চলতি বছরের শুরুর দিকে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিশ্বব্যাপী কয়লার দাম রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর ফলে জেএসডব্লিউ সিমেন্ট, রামকো সিমেন্টস লিমিটেড, ওরিয়েন্ট সিমেন্ট লিমিটেডের মতো ভারতীয় সিমেন্ট কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলান পেটকোক আমদানিতে আগ্রহী হয়ে ওঠে।

রামকো সিমেন্টসের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা এস. বৈথিয়ানাথন বলেন, পেটকোকের গুণমান খুবই ভালো এবং এতে সালফারের পরিমাণ খুব কম। তবে নেতিবাচক দিকটি হলো, কার্গোগুলো ভারতে পৌঁছাতে প্রায় ৫০ দিন সময় নেয়৷

তিনি জানান, রামকো সিমেন্টস ৫০ হাজার টন ভেনেজুয়েলান পেটকোকের দুটি কার্গো বুক করেছিল, যা গত জুন ও জুলাই মাসে সরবরাহ করা হয়েছে। এতে বাজারমূল্যের চেয়ে প্রতি টনে ১৫ থেকে ২০ মার্কিন ডলার মূল্যছাড় পাওয়া গেছে।

ভারতীয় কাস্টমসের নথি অনুসারে, গত জুন ও জুলাই মাসের কার্গোগুলোর জন্য প্রতি টন পেটকোকে যথাক্রমে ২১৪ দশমিক ৪০ ডলার ও ২২১ ডলার পরিশোধ করেছে রামকো। আর গত এপ্রিল মাসে ২২০ ডলার দরে ২৮ হাজার ৩০০ টন পেটকোক আমদানি করেছে ওরিয়েন্ট সিমেন্ট।
এছাড়া, গত জুন মাসে ৩০ হাজার টন ভেনেজুয়েলান পেটকোক আমদানি করেছে জেএসডব্লিউ সিমেন্ট।

ভেনেজুয়েলার মূল্যছাড়
গত এপ্রিল থেকে জুলাইয়ের পেটকোক কার্গোগুলো পরিবহন করেছে জার্মানিভিত্তিক সংস্থা শিমসুপা জিএমবিএইচ। তাদের সঙ্গে ভারত, চীন, পাকিস্তান ও তুরস্কে ভেনেজুয়েলান পেটকোক পৌঁছে দেওয়ার জন্য সুইজারল্যান্ডভিত্তিক মারোইল ট্রেডিংয়ের একটি চুক্তি রয়েছে।

সূত্র ও নথি অনুসারে, ভেনেজুয়েলার প্রধান তেল টার্মিনাল জোসে থেকে কার্গোগুলো পাঠানো হয়েছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে পেটকোক কার্যক্রম ঢেলে সাজিয়েছে মারোইল। সংস্থাটির মালিক ভেনেজুয়েলায় জন্ম নেওয়া শিপিং ম্যাগনেট উইলমার রুপার্টি। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

২০১৯ সাল থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার শিকার ভেনেজুয়েলার তেল খাত। ভেনেজুয়েলান প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার চেষ্টায় দেশটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ব্যবসার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।

হিউস্টনের পেটকোক ব্যবসায়ীদের মতে, এ বছর ভেনেজুয়েলার বাড়তি সরবরাহ বৈশ্বিক দামের ওপর প্রভাব ফেলেছে। এক ব্যবসায়ী বলেন, তারা অফার বাড়াচ্ছেন এবং ভেনেজুয়েলান কার্গোগুলোর গন্তব্যে বৈচিত্র্য আনছেন।

ভারতীয় ব্যবসায়ী ও সিমেন্ট কোম্পানিগুলোর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ভেনেজুয়েলার পেটকোকে পাঁচ থেকে ১০ শতাংশ মূল্যছাড় পাওয়া যাচ্ছে।

বর্তমান বাজারে প্রতি টন পেটকোকের দাম সমপরিমাণ কয়লার চেয়ে বেশি। তবে এটি পোড়ালে অনেক বেশি শক্তি পাওয়া যায়। বিষাক্ত গ্যাস নির্গমনের কারণে পেটকোক সাধারণত জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয় না। তবে সিমেন্ট শিল্পে এর ব্যবহার ব্যাপক। কারণ এর লাইমস্টোন বিষাক্ত সালফার ডাই অক্সাইড শুষে নেয়।

সূত্র: জাগোনিউজ
আইএ/ ১৭ আগস্ট ২০২২

Back to top button