শিক্ষা

টাকা নিয়েও আইডি কার্ড দেননি অধ্যক্ষ, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

ঢাকা, ১৩ আগস্ট – পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) না থাকায় গণপরিবহনে ভাড়া দিতে গিয়ে রীতিমতো হয়রানির শিকার হচ্ছেন রাজধানীর উত্তরা হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী।

অভিযোগ উঠেছে, বছরের শুরুতেই আইডি কার্ড ও ডায়েরি দেওয়ার নামে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৩০০ করে টাকা নেন উত্তরা হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. হাফিজুর রহমান মোল্যা। কিন্ত এখন পর্যন্ত স্কুল থেকে শিক্ষার্থীদের কোনো আইডি কার্ড দেওয়া হয়নি।

এ কারণে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা গণপরিবহনে যাতায়াত করার সময় প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে জানান ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা।

জানা গেছে, রাজধানীর উত্তরা হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৯ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী রয়েছে। এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মো. হাফিজুর রহমান মোল্যার নির্দেশনায় বছরের শুরুতেই প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র ও ডায়েরি দেওয়ার নামে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ ৩০০ করে নেওয়া হয়। এতে সব মিলিয়ে আদায় হয়েছে প্রায় ২৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। কিন্তু এখনো আইডি কার্ড পায়নি কোনো শিক্ষার্থী।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন শিক্ষক জানান, অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান মোল্যার অসৎ উদ্দেশ্য ও গাফিলাতির কারণে শিক্ষার্থীদের প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র দেওয়া হচ্ছে না। তারা বলেন, এখন পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্র দেওয়ার বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেননি অধ্যক্ষ।

এদিকে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের কয়েকজন অভিভাবক জানান, উত্তরা স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিবেশ ও শিক্ষার মান দিনদিন খারাপ হচ্ছে। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানের ৪০ জন শিক্ষককে একসঙ্গে চাকুরিচ্যুত করা হয়। বর্তমান তারা মানবেতর জীবন যাবন করছেন।

এ ব্যপারে অধ্যক্ষ মো. হাফিজুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে তিনি জানান, শিক্ষর্থীদের পরিচয়পত্র দেওয়া হয়নি। তবে শিগগিরই তাদেরকে পরিচয়পত্র দেওয়া হবে। এ নিয়ে কাজ চলছে।

এদিকে একসঙ্গে ৪০ শিক্ষককে চাকুরিচ্যুত করার বিষয়ে অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান বলেন, স্কুলে নিয়োগের ক্ষেত্রে তাদের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের কোনোপ্রকার চুক্তিনামা ছিলনা। এ কারণে এসব শিক্ষকদের চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে।

সূত্র: সমকাল
আইএ/ ১৩ আগস্ট ২০২২

Back to top button