উত্তর আমেরিকা

এফবিআই’র তদন্তের কোনো প্রতিবাদ করবেন না ট্রাম্প

ওয়াশিংটন, ১২ আগস্ট – চলতি সপ্তাহের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফ্লোরিডার বাসভবন ‘মার-এ-লাগো’তে তল্লাশি চালায় এফবিআই সদস্যরা। সেই তল্লাশির পরোয়ানা জনসম্মুখে উন্মুক্ত করার জন্য ফ্লোরিডার আদালতের কাছে আবেদন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। এ ব্যাপারে তিনি কোনো প্রতিবাদ করবেন না বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।

শুক্রবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। এফবিআই’র তদন্ত সম্পর্কিত একটি বিবৃতিতে ট্রাম্প জানান, সোমবার (৮ আগস্ট) এফবিআই এজেন্টরা মার-এ-লাগোয় পরোয়ানা মোতাবেক যে তল্লাশি চালিয়েছে, সেটির বিরোধিতা করা হবে না। এ সময় নিজের দাবির পুনরাবৃত্তি করে ট্রাম্প বলেন, অনুসন্ধানটি সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় ও রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এ অনুসন্ধান থেকে ‘অবিলম্বে মুক্তি’র কথাও জানিয়েছেন তিনি।

মার্কিন বিচার বিভাগ ফ্লোরিডার একটি আদালতের কাছে ওয়ারেন্টটি ছেড়ে দেয়ার জন্য ‘একটি বিরল’ অনুরোধ করেছে। আদালত অনুরোধটি গ্রহণ করলে, এর অর্থ হবে ট্রাম্পের বাড়ি থেকে পাওয়া নথিগুলো জনসমক্ষে প্রকাশ পাওয়া।

স্থানীয় সময় বিকেল ৩টায় পর্যন্ত ট্রাম্পের কাছে তদন্ত সম্পর্কে অনাপত্তি প্রকাশের সময় ছিলো, কিন্তু সেটি তিনি গ্রহণ করেননি। এ সময় পর্যন্ত পাওয়া নথিগুলো কখন প্রকাশ হবে এবং এ ব্যাপারে ট্রাম্পের বক্তব্য কী হতে পারে, তাও স্পষ্ট নয়।

ট্রাম্প বলেন, আমি কেবলমাত্র আমার বাড়িতে অ-আমেরিকান, অযৌক্তিক, ও অপ্রয়োজনীয় অভিযান এবং ভাঙনের সঙ্গে সম্পর্কিত নথি প্রকাশের বিরোধিতা করবো না। নথিগুলো প্রকাশ করা হলে আমি আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবো।

সাবেক প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, এটি উগ্র বাম ডেমোক্র্যাট ও সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের কারণে হচ্ছে। তারা আমাকে আক্রমণের জন্য শক্তিশালী স্বার্থ নিয়ে এগিয়ে আসছে। গত ছয় বছর ধরে তারা এ চেষ্টা করে যাচ্ছে।

বেনামী একটি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে মার্কিন গণমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, এফবিআই এজেন্টরা মার-এ-লাগোতে যে নথি খুঁজছিলেন, তাতে পারমাণবিক অস্ত্র সম্পর্কিত তথ্য ছিলো। তথ্যগুলো মার্কিন অস্ত্রের সঙ্গে জড়িত নাকি অন্য কোনো দেশের সে ব্যাপারে সূত্রটি কিছু জানায়নি।

এর আগে নিজের পারিবারিক ব্যবসা নিয়ে নিউইয়র্কে যে তদন্ত চলছে, সেখানে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের প্রশ্নের জবাব দিতে অস্বীকার করেন ট্রাম্প। তার বিরুদ্ধে কর্মকর্তাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।

অন্যদিকে ট্রাম্পের দাবি, তার কোনো অন্যায় নেই। তাকে হেয় করতেই তদন্তগুলো করা হচ্ছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রতিটি নাগরিকের যে অধিকার দেয়া আছে, তার আওতায় আমি প্রশ্নের জবাব দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছি।

সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল
এম ইউ/১২ আগস্ট ২০২২

Back to top button