ইসলাম

অপব্যয় রিজিকের বরকত তুলে নেয়

মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা

মহান আল্লাহ আমাদের অসংখ্য নিয়ামত দিয়ে রেখেছেন। আমাদের উচিত, এ নিয়ামতগুলোর যথাযথ শুকরিয়া আদায় করা এবং এর ব্যবহারে সংযত হওয়া। কারণ যেসব কারণ মানুষের ওপর নিয়ামত সংকুচিত করা হয় বা মানুষকে বিপদে পড়তে হয়, তন্মধ্যে একটি হলো অপচয়।

তাই মহান আল্লাহপ্রদত্ত নিয়ামতে বরকত পেতে চাইলে অবশ্য সেগুলো ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমাদের মিতব্যয়ী হতে হবে।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘তুমি একেবারে ব্যয়কুণ্ঠ হইয়ো না আর একেবারে মুক্তহস্তও হইয়ো না, তাহলে তুমি তিরস্কৃত, নিঃস্ব হয়ে বসে থাকবে। ’ (সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ২৯)
এই আয়াত দ্বারা বোঝা যায়, মহান আল্লাহর নিয়ামতগুলো তাঁর নির্দেশিত পদ্ধতি মেনে ভোগ করতে হয়। যদি তা না করা হয়, তাহলে মানুষকে বিপদ, অভাব-অনটনের সম্মুখীন হতে হয়। রিজিকের বরকত উঠে যায়। তাই মানুষের দায়িত্ব হলো, মহান আল্লাহপ্রদত্ত নিয়ামতগুলো ব্যবহারের ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা অবলম্বন করা। অপব্যয় ও কৃপণতা থেকে বিরত থাকা।

যারা মহান আল্লাহর নিয়ামত থেকে খরচ করার ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা অবলম্বন করে, মহান আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন। পবিত্র কোরআনে প্রিয় বান্দাদের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, ‘আর তারা যখন ব্যয় করে তখন অপব্যয় করে না এবং কার্পণ্যও করে না। বরং মাঝামাঝি অবস্থানে থাকে। ’ (সুরা : ফুরকান, আয়াত : ৬৭)

হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ তোমাদের তিন বস্তু পছন্দ করেন আর তিন বস্তু অপছন্দ করেন। আল্লাহর পছন্দনীয় বস্তুগুলো হলো, তাঁর ইবাদত করা, তাঁর সঙ্গে কাউকে অংশীদার না করা এবং সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ থাকা, বিচ্ছিন্ন না হওয়া। আর আল্লাহর অপছন্দনীয় বস্তু তিনটি হলো, অহেতুক কথা বলা, অহেতুক প্রশ্ন করা ও অনর্থক সম্পদ বিনষ্ট করা। ’ (মুসলিম, হাদিস : ১৭১৫)

বিশেষ করে বর্তমান সংকটময় সময়ে আমাদের আরো সচেতন হতে হবে। চলমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমাদের মহান আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে সংযত জীবন যাপন করতে হবে। আল্লাহর কাছে কৃত পাপগুলো থেকে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি নিজেদের লাইফ স্টাইলে পরিবর্তন আনতে হবে। তবে এর মানে এই নয় যে একদম খাওয়াদাওয়া কিংবা জরুরি বিষয়গুলো ছেড়ে দেবে। আব্দুল্লাহ বিন আমর ইবনুল আস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘পানাহার করো, সদকা করো আর পোশাক পরিধান করো, যতক্ষণ তা অপচয় ও অহংকার মিশ্রিত না হয়। ’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩৬০৫)

মানুষ অপচয় বা অপব্যয় করে শয়তান কর্তৃক প্ররোচিত হয়ে, শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে। শয়তানের ধোঁকায় পড়ে সে আল্লাহর আদেশ ভুলে অপচয়ে মত্ব হয়ে থাকে। মনের খাহেশের পূজারি হয়ে ওঠে। এ জন্য পবিত্র কোরআনে অপচয়কারীকে শয়তানের ভাই আখ্যায়িত করা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই। ’ (সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ২৭)

মহান আল্লাহ সবাইকে মধ্যপন্থা অবলম্বনের তাওফিক দান করুন।

আইএ

Back to top button