অপরাধ

‘মাস্টার কি’ দিয়ে ৪০-৫০ সেকেন্ডেই মোটরসাইকেল চুরি

ঢাকা, ১০ আগস্ট – শরীয়তপুর ও মুন্সিগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে সংঘবদ্ধ মোটরসাইকেল চোর চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে ১০টি চুরিকৃত মোটরসাইকেল এবং বিপুল পরিমাণ নকল চাবি জব্দ করা হয়।

বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. জাফর হোসেন।

তিনি বলেন, ঢাকাসহ সারাদেশে গাড়ি চুরি বা মোটরসাইকেল চুরি অপরাধের মধ্যে অন্যতম একটা অপরাধ। প্রায়শই দেখা যায়, কোনো মসজিদ, মার্কেট বা অফিসের সামনে মোটরসাইকেল রেখে চালকরা ভিতরে ঢুকেন। কিন্তু বের হয়ে দেখতে পান যে মোটরসাইকেল নেই। তেমনি এক ঘটনায় গত ২৪ জুলাই লালবাগ কেল্লা সংলগ্ন স্বপ্ন সুপার শপের সামনে থেকে এনএসআইয়ের ডিডি মো. রেজাউল করিমের মোটরসাইকেল চুরি হয়। পরে তিনি লালবাগ থানায় মামলা করেন।

ডিসি বলেন, মামলাটি তদন্ত শুরু করে এসি লালবাগ জোনকে এম রায় নিয়তি এর নেতৃত্বে একটি চৌকস টিম। তদন্তকালে সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত বিষয় বিশ্লেষণ করে দেখা যায় দুইজন ব্যক্তি মোটরসাইকেলটি চুরি করেছে।

এরপর প্রথমে তাদের অবস্থান শনাক্ত করে সোহেল, সুনীল এবং আওয়ালকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেয়া তথ্যে চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং ১০টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে সোহেল, সুনীল এবং আওয়ালই মূলত চুরির কাজটি করেন। তাদের কাছে থাকে ‘মাস্টার কি’। হৃদয়, হুমায়ুন, স্বাধীন ও রনি অভ্যাসগতভাবে চোরাই মোটরসাইকেল ক্রয়-বিক্রয় করতেন। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

চক্রের অপরাধের ধরণ সম্পর্কে তিনি বলেন, চক্রের সদস্যরা প্রথমে ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে রেকি করে এবং চালকদের উপর নজর রাখে। যেসব মোটরসাইকেলে অতিরিক্ত লক বা তালা থাকে না বা লক একটু দুর্বল থাকে সেগুলো টার্গেট করে এবং ‘মাস্টার কি’ দিয়ে লক খোলে ওরা নিজেরাই মোটরসাইকেল চালিয়ে নিয়ে চলে যায়। তারা চোরাই মোটরসাইকেল মাওয়া ঘাট পার হয়ে হৃদয়, হুমায়ুন, স্বাধীন সরদার ও রনিদের কাছে ২০-২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করতো। তারা আবার সেই মোটরসাইকেলগুলো ৩০/৩৫ হাজার টাকায় বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে।

ডিসি জাফর হোসেন বলেন, চোর চক্রের অন্যতম হোতা সোহেল গত ৫ থেকে ৬ বছর ধরে মোটরসাইকেল চুরি করে আসছিল। চোর চক্রের সদস্যরা নকল চাবি ব্যবহার করে মুহূর্তেই মোটরসাইকেল চুরি করে পালিয়ে যেত।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ চোর চক্রের সদস্য। তারা ঢাকার জুরাইন এলাকা থেকে মাস্টার কি সংগ্রহ করে। তারা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হলেও জামিনে বের হয়ে আবার একই কাজে জড়িত হয়। এ চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- সোহেল ঢালী, সুনীল দাস, আওয়াল, হৃদয়, হুমায়ুন, স্বাধীন সরদার ও রনি ওরফে কুত্তা রনি।

সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল
এম ইউ/১০ আগস্ট ২০২২

Back to top button