জাতীয়

আওয়ামী লীগের জীবিকা উপার্জনের একমাত্র পন্থা মিথ্যা: রিজভী

ঢাকা, ১০ আগস্ট – চুরিতন্ত্রই আওয়ামী লীগের রাষ্ট্রদর্শন। মিথ্যা বলা তাদের জীবিকা উপার্জনের একমাত্র পন্থা বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

বুধবার (১০ আগস্ট) দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, সরকার আর তার দোসরদের অর্থ ও ক্ষমতা লিপ্সার কারণে দেশ আজ এক গভীর সংকটের দিকে ধাবিত হচ্ছে। যে দেশে অলিগার্কদের স্বার্থে রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারিত কিংবা আইন প্রণীত হয়, সেখানে এটাই অনিবার্য পরিণতি। ঘরে ঘরে এখন স্লোগান শোনা যাচ্ছে- ‘চারদিকে উন্নতি, সন্ধ্যা হলেই মোমবাতি।’

তিনি বলেন, এই নিশিরাতের সরকার দেশকে দেউলিয়াত্বের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের ভান্ডার এখন শূন্য প্রায়। সরকার রিজার্ভের ভুল তথ্য দিয়ে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। সরকার নিজেদের গদি টিকিয়ে রাখার জন্য সবকিছু নিয়ে লুকোচুরি খেলছে। কিন্তু প্রকৃত সত্য হচ্ছে ভিন্ন।

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, প্রধানমন্ত্রী মিথ্যার ওপর বসে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে একেক সময় একেক কথা বলছেন। তিনি ২৭ জুলাই বলেছিলেন, আমাদের এখন যে রিজার্ভ আছে তা দিয়ে ছয় থেকে নয় মাসের জন্য খাবার আমদানি করতে পারবো। তার একদিন পরে ২৮ জুলাই বললেন, তিন মাসের রিজার্ভই যথেষ্ট।

‘এদিকে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, আমাদের তহবিল খালি হয়ে যাচ্ছে। পরিকল্পনামন্ত্রী গতকাল বললেন, আমরা এখন একটু অসুবিধায় পড়ে গেছি। টাকার ঘাটতি পড়ে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর বলেছেন, অবশ্যই দেশের অর্থনীতি চাপে আছে। গুরুত্বপূর্ণ দুই মন্ত্রী ও গভর্নরের এই স্বীকারোক্তি প্রমাণ করে পরিস্থিতি অতি ভয়াবহ।’

‘অর্থনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের ৩ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর রিজার্ভও এখন অবশিষ্ট নেই। সরকারের কাছে দেশ চালানোর মতো টাকাও নেই।’

রিজভী বলেন, বাংলাদেশের মানুষ এখন ভয়াবহভাবে বিপদের সম্মুখীন। প্রতিদিন তাদের সামনে হাজির হচ্ছে নিত্য-নতুন সঙ্কট। এমনিতে দ্রব্যমূল্য, গ্যাস-বিদ্যুৎ পরিবহন, লোডশেডিং সমস্যায় জর্জরিত। এর মধ্যে ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দেখা দিয়েছে জ্বালানি তেলের স্মরণকালের সর্বোচ্চ সীমাহীন মূল্যবৃদ্ধি। এর প্রভাব পড়েছে সর্বক্ষেত্রে।

‘জনজীবনে মারাত্মক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে। গরিব ও সীমিত আয়ের মানুষেরা দুর্বিষহ অবস্থার মধ্যে পড়েছেন। মধ্যবিত্ত মানুষের পক্ষেও টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে। বাংলাদেশের সার্বিক অবস্থা এতটা সঙ্গীন হয়ে পড়েছে যে, পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য কোনো একক উপায় খুঁজে পাচ্ছে না সরকার। সাধারণ মানুষ ক্ষোভে ফুঁসছে। ফলে তারা হুমকি-ধামকি থেকে শুরু করে প্রতিবাদী মানুষকে হত্যা করা শুরু করেছে।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, গত সোমবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের হুমকি দিয়ে বলেছেন, আসুন রাজপথে মোকাবিলা হবে, ফয়সালা হবে। আগুন নিয়ে খেলতে আসলে পরিণাম হবে ভয়াবহ। যতই বাধা আসুক সংবিধান অনুযায়ী আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আমরা রাজপথের পুরোনো খেলোয়াড়। বিএনপি তো এই পথে নতুন।

‘তবে ওবায়দুল কাদের আর একটি কথা বলেননি, রাজপথে থেকে কথা দিয়ে কিভাবে জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করতে হয় সেটি বলেননি, সেই দৃষ্টান্তও তাদের আছে। বারবার তাদের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে বাংলাদেশের নিজস্ব ভূমিতে তারা গণতন্ত্রের শেকড় গজাতে দেয়নি। বাকশাল, নিশিরাতের নির্বাচন, বিনা ভোটের নির্বাচন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধ সেটিরই উদাহরণ। ওবায়দুল কাদেরের কথাবার্তায় মনে হয় দেশটা তাদের পৈতৃক তালুক আর জনগণ তাদের আর্দালী। এদের একমাত্র সাধনা-ক্ষমতা অর্জন ও ক্ষমতা লাভের আগে বা পরে কোনো সময়েই তারা ন্যায়নীতির নির্দেশ গ্রাহ্য করেনি।’

ওবায়দুল কাদেরের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, কাদের সাহেব, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিজেদের চেতনায় রাঙিয়ে তাদের দিয়ে নুরে আলম ও আব্দুর রহিমসহ বিএনপি নেতাকর্মীদের পাখির মতো গুলি করে মারছেন, তার ওপর আবার ‘আঙ্গুল চোষার’ কথা বলে বড়াই করছেন। স্বাধীনতার পর থেকে আপনাদের কারণেই স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি। যখনই ক্ষমতায় এসেছেন তখনই গণতন্ত্রকে গলাটিপে হত্যা করে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছেন। সেই কারণেই আপনাদের পতনের পর কেউই হা-হুতাশ করে না।

রিজভী বলেন, ১৩ বছর ধরে সরকার দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিয়ে রূপকথা সাজিয়ে ভারি গর্ব করে আসছে। তারা বলে আসছিল দেশ নাকি সিঙ্গাপুর-কানাডা- অস্ট্রেলিয়াকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। অথচ মেগা লুটপাটের জন্য অবিশ্বাস্য ব্যয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে, স্ফীত করে জিডিপির আকার, প্রবৃদ্ধি আর মাথাপিছু আয় দেখানোর প্রতিযোগিতা চলছিল সরকারি উন্নয়নের গল্পে।

‘এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি-বর্তমান বাংলাদেশে ভয়াবহ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শূন্য, দেশের বিকাশমান তৈরি পোশাক শিল্পের বিপর্যয়, দেশের বাইরের ক্রেতারা রপ্তানি আদেশ বাতিল কিংবা স্থগিত করছেন, রেমিট্যান্সে বিশাল ঘাটতি, চলতি হিসাবে ভারসাম্যহীনতা, রাজস্ব আয় ধ্বসে যাওয়া, ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্য কমতে কমতে সামষ্টিক অর্থনীতিতে বিরাজ করছে এখন সর্বকালের নজীরবিহীন নৈরাজ্য।

তিনি বলেন, এই নিশিরাতের সরকার দেশের অর্থনীতি শেষ করেছেন। এটি গুম খুনের দেশ, ব্যাংক লুটের দেশ, ভোট চোরের দেশ। চৌর্যবৃত্তির কারণেই বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে তারা মারাত্মকভাবে বিনষ্ট করছেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী অ্যানি উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: জাগোনিউজ
আইএ/ ১০ আগস্ট ২০২২

Back to top button