সচেতনতা

যেসব খাবার হতে পারে পুরুষের বন্ধ্যাত্বের কারণ

সন্তান না হলে সেই দায় বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই নারীর ওপরই চাপানো হয়। বন্ধ্যাত্ব যে কেবল একজন নারীরই হতে পারে তা কিন্তু নয়, বন্ধ্যাত্ব পুরুষদেরও হয়ে থাকে। একজন পুরুষের বাবা হওয়ার ক্ষেত্রে বাঁধা হতে পারে কিছু বিষয়। তার মধ্যে রয়েছে খাদ্যাভাসও। এমন কিছু খাবার আছে যা পুরুষের বন্ধ্যাত্বের জন্য দায়ী।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে বেশির ভাগেরই জীবনযাত্রা সঠিক উপায়ে চলছে না। মানুষরা এত বেশি ব্যস্ত যে পুষ্টিকর খাবারের দিকে মনোযোগ দেওয়ার সময় পাচ্ছেন না। প্রয়োজনীয় পুষ্টি তো শরীর পাচ্ছেই না, সেইসঙ্গে যোগ হচ্ছে অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার বদ অভ্যাস। দুশ্চিন্তা, মানসিক চাপ, নিদ্রাহীনতা এসব যেন লেগেই থাকে। এসব কারণেও তৈরি হতে পারে বন্ধ্যাত্বের মতো সমস্যা।

চলুন এবার জেনে নেওয়া যাক- কোন কোন খাবারগুলো পাতে থাকলে বাড়তে পারে পুরুষদের বন্ধ্যাত্বের আশঙ্কা-

প্রক্রিয়াজাত মাংস

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রক্রিয়াজাত মাংস শুক্রাণুর পরিমাণ হ্রাসের অন্যতম প্রধান কারণ যেমন বেকন, সালামি থেকে হটডগ, বার্গার। বিশেষত রেড মিট এই ঘটনার জন্য দায়ী। মুরগির মাংসে অবশ্য এ রকম কোনো ফল দেখা যায়নি। তবে ঠিক কী কারণে এমন ঘটনা ঘটে, তা নিয়ে নিশ্চিত নন গবেষকরা।

অতিরিক্ত স্নেহজাতীয় পদার্থযুক্ত দুগ্ধজাত পদার্থ

বর্তমানে উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য গবাদি পশুদের স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ দেওয়া হয়ে থাকে। এর প্রভাব পরে দুধেও। এই ধরনের গবাদি পশুর দুধে স্নেহজাতীয় পদার্থ থাকে অনেক বেশি। সম্প্রতি ১৮ থেকে ২২ বছর বয়সি যুবকদের ওপর করা একটি সমীক্ষা বলছে, এই ধরনের দুধ ও দুগ্ধজাত খাদ্য খেলে শুক্রাণুর চলাচল, গতি ও আকৃতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

ক্ষতিকারক ফ্যাটি অ্যাসিড

ট্রান্স ফ্যাটি অ্যাসিড বা ক্ষতিকর ফ্যাটি অ্যাসিডকে এমনিতেই হৃদযন্ত্রের সমস্যার মূল কারণ হিসেবে দেখা হয়। বর্তমান গবেষণা বলছে, এই ধরনের পদার্থ শুক্রাণুর সমস্যার জন্যেও দায়ী।

অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার

প্রতিদিন অল্পস্বল্প মিষ্টি তো খাওয়া যেতেই পারেন কিন্তু তা যদি হয় অতিরিক্ত, তখনই দেখা দেবে সমস্যা। তাই মিষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে আনতে হবে নিয়ন্ত্রণ। এই জাতীয় খাবার খাওয়া থেকে যতটা সম্ভব নিজেকে বিরত রাখতে হবে। কারণ মিষ্টি খেতে থাকলে বাড়বে ওজন। অতিরিক্ত মিষ্টি খাওয়ার ফলে দেখা দিতে পারে ডায়াবেটিসের ভয়ও। যেসব পুরুষ বাবা হতে চাইছেন, তাদের মিষ্টি খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে অবশ্যই নিয়ন্ত্রণ আনতে হবে।

ফাস্টফুড জাতীয় খাবার

বর্তমানে সব জায়গাই ছেয়ে আছে ফাস্টফুড জাতীয় খাবারে। হাত বাড়ালেই পাওয়া যাচ্ছে এসব মুখরোচক খাবার। এদিকে ফাস্টফুড জাতীয় খাবারে সোডিয়ামের পরিমাণ থাকে অনেক বেশি। এই সোডিয়াম বা লবণ শরীরে পানি ধরে রাখে। এ ছাড়া এ জাতীয় খাবারে তেলের পরিমাণও থাকে অনেক বেশি। সেই তেলের কারণেও দেখা দিতে পারে সমস্যা। তাই ফাস্টফুড জাতীয় খাবার খাওয়া থেকে নিজেকে বিরত রাখতে হবে।

ধূমপান

ধূমপান একটি ক্ষতিকর অভ্যাস। এটি যে ক্ষতিকর তা লেখা থাকে সিগারেটের প্যাকেটের গায়েও। কিন্তু অনেকেই জেনেশুনে নিজের ক্ষতি করেন। বিশেষ করে পুরুষের ভেতরে এই প্রবণতা অনেক বেশি। বাবা হতে চাইলে ছাড়তে হবে ধুমপানের অভ্যাস। কারণ পুরুষের বন্ধ্যাত্বের কারণ হতে পারে ধূমপান, এমনটাই দেখা গেছে বিভিন্ন গবেষণায়। তাই ধূমপানের অভ্যাস থাকলে সেটি দ্রুত ত্যাগ করতে হবে। নয়তো সমস্যা বাড়বেই।

মদ্যপান

মদ্যপানও একটি ক্ষতিকর অভ্যাস। নিয়মিত মদ্যপান করলে তা আপনার হার্ট, লিভার ইত্যাদির জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। শুধু তাই নয়, এটি পুরুষের স্পার্মের মানও খারাপ করে দেয়। তাই মদ্যপান থেকে বিরত থাকুন। সুস্থ জীবনযাপন করুন। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে একটি স্বাস্থ্যকর খাবারের তালিকা তৈরি করুন। সেভাবেই খাবার খান। সেইসঙ্গে নিয়মিত ঘুম ও শরীরচর্চার অভ্যাসও ধরে রাখুন।

এম ইউ

Back to top button