দক্ষিণ এশিয়া

নীতীশ কুমারের ডিগবাজি, বিহারে বিপদে বিজেপি!

পাটনা, ১০ আগস্ট – সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত বিহারে বিপদে পড়েছে বিজেপি। জেডিইউ-এর সঙ্গে তাদের জোট ভেঙেই গেলো। বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন নীতীশ কুমার। বিজেপি বিরোধীদের সঙ্গে নতুন সরকার গঠনের পথে রয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (০৯ আগস্ট) রাজভবনে রাজ্যপালের কাছে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি।

জনতা দল-ইউনাইটেড (জেডিইউ) ভাঙানোর অপচেষ্টা করছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এমন অভিযোগে ক্ষুব্ধ জেডিইউ প্রধান নীতীশ কুমার বিজেপির সঙ্গ ছেড়ে পদত্যাগ করেন বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

বিহারে পুরনো ফর্মুলায় জেডিইউ ফের একবার জোট বাধতে দলীয় বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক করেছেন কংগ্রেস ও রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (আরজেডি) সঙ্গে।

যেমনটা নীতীশ ২০১৭ সালে করেছিলেন আরজেডি কংগ্রেসের সঙ্গে। সেবার হঠাৎ বিহারের তৎকালীন শাসক বিজেপি বিরোধী জোট ছেড়ে নীতীশ ধরেছিলেন বিজেপির হাত। এবারও সেই মাঝপথে ডিগবাজি দেশটির এক সময়ের রেলমন্ত্রীর।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর, মঙ্গলবার বিকেলে একাই রাজ্য ভবনে যান নীতীশ কুমার। সেখান থেকে যান লালু প্রসাদ যাদবের বাড়িতে। সেখানেই আরজেডি, কংগ্রেসের সমর্থন নিয়ে হয় সরকার গড়ার বৈঠক।

মুখ্যমন্ত্রী থেকে ইস্তফা প্রসঙ্গে নীতীশ কুমার বলেন, দলের সংসদ সদস্য-বিধায়কদের সম্মতি নিয়েই আমার ইস্তফা এবং এনডিএ ছাড়ার সিদ্ধান্ত। বিজেপির সঙ্গে তাদের কাজ করতে অসুবিধা হচ্ছিল বলেও জানান তিনি।

তবে, বিজেপির পাল্টা অভিযোগ, বিজেপির মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন নীতীশ কুমার।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বিহারে ২০২০ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিজেপির সমর্থনে নীতীশ নেতৃত্বধীন জোটে নাকি মস্ত চাপে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি নাকি নামেই মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন আসলে প্রশাসনসহ মন্ত্রিসভার চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছিল বড় শরীক বিজেপি। ইদানিং কেন্দ্রের কোনও অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছিলেন না নীতীশ। যাননি রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানে। তিনি যেমন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির থেকে দূরত্ব বাড়াচ্ছিলেন তেমনই সখ্যতা বাড়ছিল লালু প্রসাদের আরজেডির সঙ্গে। তলে তলে নাকি যোগাযোগ চলেছে কংগ্রেসের সঙ্গেও।

শোনা যাচ্ছে, বিহারের পাঁচবারের মুখ্যমন্ত্রী সোনিয়া এবং লালুপুত্র তেজস্বীর সঙ্গেও যোগাযোগ করেন এবং নতুন জোটের বার্তা দেন। অন্যদিকে লালুপ্রসাদ যাদব এই মুহূর্তে দিল্লির হাসপাতালে ভর্তি। তিনি সেখান থেকেই পুত্র তেজস্বীকে নীতীশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে বলেছিলেন। সম্প্রতি ঈদের এক অনুষ্ঠানে তেজস্বীর নিমন্ত্রণে নীতীশ উপস্থিত হয়েছিলেন।

খবরে বলা হয়, নীতীশ বিজেপি জোট নিয়ে বিরক্ত তো ছিলেনই পাশাপাশি সম্প্রতি মহারাষ্ট্রে উদ্ধবের মন্ত্রিসভার পতন ও শিবসেনার ভাঙনে নাকি অসন্তুষ্ট ছিলেন। তখনই নাকি তিনি চূড়ান্তভাবে স্থির করেন যে বিজেপির হাত ছাড়বেন। কিন্তু বিজেপি বিরোধীদের নিয়ে যদি নীতীশের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভায় গঠিত হয়, সেখানে কারা থাকবেন?

হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়, আরজেডির ৭৯, জেডিইউএর ৪৫ এবং কংগ্রেসের ১৯ জনকে নিয়েই মন্ত্রিসভা গঠন করতে যাচ্ছে। এছাড়া সমর্থন জানাবে বামেরা তাদের ১৬টি আসন আছে। তাহলে একদিকে বিজেপি ৭৭, অন্যদিকে ১৬০-এর বেশি বিধায়ক নিয়ে ফের বিহারে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে নীতীশের জেডিইউ।

নীতীশের রাজনৈতিক পালাবদল:

ঘটনার সূত্রপাত ২০১২ সাল থেকে। সেই বছর এনডিএ জোটে থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নীতীশের জেডিইউয়ের ভোট গিয়েছিল ইউপিএ প্রার্থী প্রণব মুখার্জির দিকে।

নীতীশ কুমারের জেডিইউ এরপর ১৭ বছর ধরে বিজেপির সঙ্গ থাকা গাঁটছড়া ছিন্ন করে বেরিয়ে আসে এনডিএ জোট থেকে। বিহারে সরকার গঠন হয় আরজেডির সঙ্গে। এরপর ২০১৪ সালের মে মাসে লোকসভা ভোটে ৪০ আসনের মধ্যে মাত্র ২টি আসন জেতায় দলের বিপর্যয়ের দায় নিয়ে দায়িত্ব থেকে সরে আসেন নীতীশ। এরপর ২০১৫ আরজেডি ও কংগ্রেসের সঙ্গে জেডিইউয়ের সমঝোতা। গড়ে ওঠে জোট।

এরপর ২০১৭ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ইউপিএর মীরা কুমারের বিরুদ্ধে ভোট দেয় জেডিইউ। আর তখনই এনডিএর প্রার্থীর সমর্থনে এগিয়ে আসে নীতীশ ব্রিগেড। একই বছরের জুলাই মাসে ইউপিএ ছেড়ে বেরিয়ে এনডিএর সঙ্গে হাত মেলায় নীতীশ।

এরপর ২০২২ সাল। এপ্রিলে আরজেডির রাবড়ি দেবীর বাড়িতে ইফতার পার্টিতে যান নীতীশ কুমার। তখন থেকেই গুঞ্জন ছিল যে সম্ভবত চাল ঘুরে যেতে পারে জেডিইউএর। বিজেপির সঙ্গে শরীক থাকা অবস্থাতেও নীতীশের এই গতিবিধি অনেককেই অবাক করেছিল।

এন এ/ ১০ আগস্ট

Back to top button