জাতীয়

দাতাদের কাছ থেকে ঋণ পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী অর্থমন্ত্রী

ঢাকা, ০৯ আগস্ট – দাতাদের কাছ থেকে ঋণ পাওয়ার বিষয়ে আশা প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল। এফটিডটকমকে (ফিন্যান্সিয়াল টাইমস) দেয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন তিনি।

মুস্তফা কামাল বলেন, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় নেয়া প্রকল্পে অর্থায়ন এবং বাজেট ঘাটতি পূরণে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে মোট সাড়ে ৪ বিলিয়ন বা ৪৫০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণসহায়তা চায়। যা দেশীয় মুদ্রায় ৪২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার মতো (প্রতি ডলার ৯৫ টাকা ধরে)। এই প্যাকেজের আওতায় বাংলাদেশ প্রথম কিস্তিতে সংস্থাটির কাছে ১৫০ কোটি ডলার চেয়েছে। এই অর্থ বাংলাদেশের প্রায় ১৪ হাজার ২৫০ কোটি টাকার সমান।

এছাড়া বাংলাদেশ এখন বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি) ও জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সিসহ অন্যান্য বহুজাতিক ও দ্বিপক্ষীয় ঋণদাতাদের কাছ থেকেও ৪০০ কোটি ডলার চাইছে। দাতাদের কাছ থেকে এসব ঋণ পাওয়ার বিষয়ে তিনি আশাবাদী।

এদিকে আইএমএফ বলেছে, বাংলাদেশকে মোট কী পরিমাণ ঋণ দেয়া হতে পারে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ ব্যাপারে আলোচনা চলছে।

বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী বলেন, সবাই ভোগান্তিতে পড়েছে, আমরাও চাপের মধ্যে আছি। তবে শ্রীলঙ্কার মতো বাংলাদেশ খেলাপি হওয়ার ঝুঁকিতে নেই। এমন পরিস্থিতির কথা ভাবারও জো নেই।

এদিকে চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) মাধ্যমে ঋণ নেয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী সতর্ক মনোভাব দেখিয়েছেন। তিনি উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, চীনের বিআরআই ঋণ নেয়ার আগে অন্তত দুবার ভাবা উচিত। কারণ, বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ও প্রবৃদ্ধির মন্থর গতি ঋণগ্রস্ত উদীয়মান দেশগুলোর ওপর চাপ বাড়ায়।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল আরও বলেন, ঋণ গ্রহণের দুর্বল সিদ্ধান্ত ঋণগ্রস্ত দেশগুলোকে সংকটের দিকে ঠেলে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে। সে জন্য চীনকে তাদের দেওয়া ঋণ মূল্যায়নে মনোযোগী হতে হবে। তিনি শ্রীলঙ্কার দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, চীনা সহায়তা নেওয়া অবকাঠামো প্রকল্পগুলো কাঙ্ক্ষিত ফল দিতে ব্যর্থ হয়েছে এবং তা শ্রীলঙ্কায় অর্থনৈতিক সংকট বাড়িয়েছে।

আইএমএফের তথ্য অনুসারে, ২০২১ সালে বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক ঋণ ছিল ৬২ বিলিয়ন বা ৬ হাজার ২০০ কোটি ডলার, যার বেশির ভাগই বিশ্বব্যাংকের মতো বহুপক্ষীয় ঋণদাতাদের পাওনা। দ্বিপক্ষীয় ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ৯০০ কোটি ডলার বা ১৫ শতাংশ ঋণ নেওয়া হয়েছে জাপানের রাষ্ট্রীয় ঋণদাতা সংস্থার কাছ থেকে।

বাংলাদেশের অর্থনীতি সাম্প্রতিক দশকগুলোতে দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। এ দেশের জনগণের মাথাপিছু আয় এখন প্রায় ২ হাজার ৬০০ ডলার, যা প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে বেশি।

সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল
এম ইউ/০৯ আগস্ট ২০২২

Back to top button