উত্তর আমেরিকা

আমেরিকার এক শহরে পরপর চার মুসলিমকে হত্যার নেপথ্যে কী

ওয়াশিংটন, ০৯ আগস্ট – যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যে গত নয় মাসের মধ্যে চার মুসলিম ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। মার্কিন পুলিশের দাবি, এগুলো ঘৃণাসূচক অপরাধ হতে পারে। রাজ্যটির বৃহত্তম শহর আলবুকার্কিতে গত দুই সপ্তাহে হত্যা করা হয়েছে তিন মুসলিমকে। এর সঙ্গে গত বছর ঘটে যাওয়া আরেকটি হত্যাকাণ্ডের সম্পর্ক রয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। খবর বিবিসির।

সাড়ে পাঁচ লাখের বেশি জনসংখ্যার শহর আলবুকার্কিতে প্রায় পাঁচ হাজার মুসলিম বসবাস করেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন গত রোববার (৭ আগস্ট) টুইটারে এসব ঘটনার নিন্দা জানিয়ে লিখেছেন, আলবুকার্কিতে চার মুসলিম ব্যক্তির ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডে আমি ক্রুদ্ধ ও ব্যথিত। আমরা পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য অপেক্ষা করছি। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর জন্য আমাদের যেমন সমবেদনা রয়েছে, তেমনি আমার প্রশাসন মুসলিম জনগোষ্ঠীর পাশে রয়েছে। আমেরিকায় এ ধরনের ঘৃণাসূচক আক্রমণের কোনো জায়গা নেই।

পুলিশের উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সবশেষ ঘটনাটি ঘটেছে গত শুক্রবার রাতে, শরণার্থীদের সহায়তা দেয় এমন একটি প্রতিষ্ঠানের অফিসের পাশে।

পুলিশ নিহত ব্যক্তির বয়স ২৫-এর কাছাকাছি, তিনি দক্ষিণ এশীয় মুসলিম। তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। গত দু’সপ্তাহের মধ্যে নিহত আরও দুজন মুসলিমের মৃত্যুপরবর্তী ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ফেরার কিছু পরেই নিহত হন তিনি। সিএনএনের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নিহত ব্যক্তির নাম নাইম হুসাইন। তিনি সদ্যই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পেয়েছিলেন।

আলবুকার্কিতে এর আগের দুটি হত্যাকাণ্ড ঘটে গত জুলাই ও আগস্ট মাসে। পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত মোহম্মদ আফজাল হোসেন তার নিজ ফ্ল্যাটবাড়ির সামনে অজ্ঞাত বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত হন ১ আগস্ট এবং ২৬ জুলাই শহরের আরেক প্রান্তে পাওয়া যায় ৪১ বছর বয়সী আফগান বংশোদ্ভূত আফতাব হুসেইনের মরদেহ।

এর আগে, গত বছরের ৭ নভেম্বর একটি সুপারমার্কেটের বাইরে কারপার্কিংয়ে গুলি করে হত্যা করা হয় ৬২ বছর বয়সী আফগান নাগরিক মোহাম্মদ আহমাদিকে। পুলিশ সন্দেহ করছে, সাম্প্রতিক তিনটি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে গত বছরের ওই হত্যাকাণ্ডেরও সম্পর্ক রয়েছে।

রাজ্যের গভর্নর মিশেল লুজান গ্রিশাম এগুলোকে ‘মুসলিম বাসিন্দাদের টার্গেট করে হত্যার ঘটনা’ বলে বর্ণনা করেছেন।

গত নয় মাসের মধ্যে ঘটা এই চারটি হত্যাকাণ্ডে আলবুকার্কির মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানকার মসজিদগুলোতে নামাজের সময় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের ব্যবস্থা করছে কর্তৃপক্ষ।

সূত্র: জাগো নিউজ
এম ইউ/০৯ আগস্ট ২০২২

Back to top button