কুমিল্লা

আঠারো মাসের কাজ শেষ হয়নি পাচঁ বছরেও

কুমিল্লা, ৯ আগস্ট – নির্ধারিত সময়ের ৫ বছর পার হলেও এখনো শেষ হয়নি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের ডরমিটরি এবং বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাব কাম গেস্ট হাউজ নির্মাণের কাজ।

১৮ মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো শেষ হয়নি এই প্রকল্পের কাজ। যদিও প্রশাসন বলছে অফিসিয়ালি কাজ শেষ এখন আনঅফিসিয়ালি কাজ চলছে। এর আগে গত ৩০ জুন পর্যন্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে এই কাজের মেয়াদ বেঁধে দেয় প্রশাসন তবুও বাকি রয়ে গেছে এই প্রকল্প।

এদিকে আবাসন ব্যবস্থার সংকটের কারণে স্বল্প পরিসরের দু’টি ডরমেটরিতে কর্মকর্তাদের সাথে ভাগাভাগি করে থাকতে হচ্ছে শিক্ষকদের। যেখানে শিক্ষকদের সংখ্যার তুলনায় রুমের অনুপাতে ১১ শতাংশ।

তবে কেন এই প্রকল্পের মেয়াদ বারবার বাড়ানো হচ্ছে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডরমিটরির এক শিক্ষক বলেন, প্রশাসনের সুষ্ঠু তদারকি, অদক্ষ জনবল ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবং বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনিয়ার দপ্তর ব্যর্থতায় এমন হচ্ছে।

পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের সূত্রমতে, ২০১৭ সালের ১৭ই মে ৫ কোটি ২৩ লাখ ৪৯ হাজার ৯৬৪ টাকা ৫১ পয়সা বাজেটে প্রকল্প দুইটি কাজ শুরু হয়। যা পরবর্তীতে বেড়ে দাঁড়ায় ৫ কোটি ৭৬ লাখ ৫৮ হাজার টাকায়। একই বছর ২ কোটি ৮ লাখ ৮৯ হাজার ৮০ পয়সা বাজেটে শুরু হয় ক্লাব কাম গেস্ট হাউজের কাজ। যা পরবর্তীতে বেড়ে ২ কোটি ৪০ লাখ ২১ হাজার টাকা দাড়ালেও এখনো ১৮ লক্ষ টাকার কাজ বাকি রয়েছে বলে জানা যায়।

মূল প্রকল্পের ঠিকাদার জাকির এন্টারপ্রাইজ নিলেও তৃতীয় ব্যক্তি জাহাঙ্গীর আলমের তদারকিতে চলছে প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ। বিলম্বিত প্রকল্পের সার্বিক বিষয়ে জানতে জাহাঙ্গীর আলমকে একাধিকবার কল দেয়া হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।নির্মাণাধীন ভবন দুটি ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ কাজ শেষ হলেও এখনও বিদ্যুতের কাজ, টাইলস , দরজার কাজ, রঙ, থাই গ্লাস, গ্রিল,স্যানেটারি ফিটিংস, দেয়ালের প্লাস্টার এবং ওয়াশরুমের ফুটিং এর কাজ বাকি রয়েছে।

ডরমিটরির তত্ত্বাবধায়ক এবং সহকারী প্রকৌশলী মো. বিল্লাল হোসাইন বলেন, আমরা যে কাজগুলো বাকি আছে সেগুলো ডকুমেন্ট আকারে সংযুক্ত করে প্রকল্প পরিচালককে দিয়েছি। গেস্ট হাউজের ১৮ লাখ টাকার কাজ বাকি আছে এখনো। অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত না করলে হ্যান্ডওভার টেকওভার নেয়া হবে না। বাকিটা পরিচালক পরবর্তী পদক্ষেপ নিবে।

গেস্ট হাউজের তত্ত্বাবধায়ক এবং নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবদুল লতিফ বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ঠিকভাবে কাজ করছে না তাই কাজ শেষ হচ্ছে না। যতটুকু কাজ বাকি আছে এটা হ্যান্ডওভার কমিটির কাছে দেয়া আছে। বাকি কাজ শর্তসাপেক্ষে ওরা করে দিবে বলছে। বিলের জন্য তারা আবেদন করছে কিন্তু যে কাজ গুলো বাকি ছিলো ওইগুলো শেষ করলে বিল পাবে। আশা করি এই মাসে কাজ শেষ হবে আশা করি। বাকিটা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের উপর নির্ভর করে।

প্রকল্প পরিচালক ড. মো. শাহাবুদ্দিন বলেন, এ প্রকল্পের কাজ অফিসিয়ালি শেষ হয়ে গেছে। এখন তারা আনঅফিসিয়ালি কাজ করতেছে। কাজ যেহেতু বাকি ওরা যতটুকু কাজ করছে ততটুকুর বিল পাবে। কাজ শেষ না করলে বিল পাবে না। প্রকল্প পরিচালক হিসেবে যতটুকু তদারকি করা দরকার আমরা করেছি বাকিটা ইঞ্জিনিয়ার দপ্তর জানে।

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈন বলেন, এই প্রকল্পের কাজ কেন শেষ হচ্ছে না সেটা আপনাদের সাবেক উপাচার্যকে জিজ্ঞেস করেন। এটাতো ওই সময়ের প্রকল্প। আমিতো আসছি ছয় মাস হলো। সবকিছু আমাকে জিজ্ঞেস করলে কিভাবে হবে। আমাদের যখন জিজ্ঞেস করেন আমরা বিব্রতবোধ করি। প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য পরিকল্পনা দপ্তর জানে। তবুও আমি এটা বলতে পারি কাজ শেষ না করলে কোন বিল দেয়া হবে না।

সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল
আইএ/ ৯ আগস্ট ২০২২

Back to top button