জাতীয়

ডলার কারসাজি: চাকরি হারাচ্ছেন ৬ ব্যাংকের ট্রেজারি প্রধান

ঢাকা, ০৯ আগস্ট – প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ডলার সংরক্ষণ করে দর বৃদ্ধির প্রমাণ মিলেছে ছয় ব্যাংকের বিরুদ্ধে। এ কারণে এই ব্যাংকগুলোর ট্রেজারি প্রধানকে অপসারণের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম সোমবার (৮ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সম্প্রতি ডলারের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো পরিদর্শন করে এবং ডলার কেনাবেচার তথ্য পর্যালোচনা করে। এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রমাণ পেয়েছে, ছয়টি ব্যাংকের কোনো কোনোটি ডলার কেনাবেচা করে গত মে মাসে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪০০ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা করেছে। এর মাধ্যমে ডলার বাজারকে আরও অস্থিতিশীল করে তোলা হয় বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিকট অতীতে একসঙ্গে শীর্ষ পর্যায়ের ছয় ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ ছয় কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম। এর আগে ২০০২ সালে ওম প্রকাশ আগরওয়াল নামের এক ব্যবসায়ী জালিয়াতির মাধ্যমে ৫টি ব্যাংক থেকে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। ওই ঘটনায় একসঙ্গে পাঁচ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) অপসারণ করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এবার ডলার কারসাজি সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠি পাওয়া ব্যাংকের তালিকায় বেসরকারি খাতের ব্র্যাক ব্যাংক ও বিদেশি খা‌তের স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক রয়েছে।

এদিকে, খোলা বাজারে আজ ১১৫ টাকায় পৌঁছেছে ডলারের দাম, যা বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারিত আন্তঃব্যাংক দরের চেয়ে অনেক বেশি। আন্তঃব্যাংক ডলার দর আজ ছিল ৯৫ টাকা।

খোলা মার্কেটে ডলারের দাম বৃদ্ধি নিয়ে সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র বলেছেন, যারা খোলা বাজারে ডলারের অবৈধ ব্যবসা করছে আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি। এ পর্যন্ত পাঁচটি মানি চেঞ্জারের লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপা‌শি ৪২টি‌কে কারণ দর্শাতে বলা হ‌য়ে‌ছে। শোকজের যথাযথ উত্তর দিতে পারলে এসব মানি এক্সচেঞ্জের লাইসেন্সের বিষয়ে বিবেচনা করা হবে। অভিযানে আরও ৯টি প্রতিষ্ঠানকে সিলগালা করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স না নিয়ে এতদিন ব্যবসা করে আসছিল।

কোভিড-পরবর্তী সময়ে আমদানি বৃদ্ধি ও রেমিট্যান্স কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে আর্থিক খাত। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ। বিদেশ থেকে পণ্য আমদানিতে বেড়েছে খরচ। ফলে তীব্র সংকট সৃষ্টি হয়েছে ডলারের বাজারে। কমতে শুরু করেছে রিজার্ভ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নানা পদক্ষেপের পরও নিয়ন্ত্রণে আসছে না ডলারের বাজার।

সূত্র : ঢাকাটাইমস
এন এ/ ০৯ আগস্ট

Back to top button