জাতীয়

ফের বাসে নারীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ

গাজীপুর, ০৭ আগস্ট – গাজীপুরের শ্রীপুরে স্বামীকে বাস থেকে জোরপূর্বক নামিয়ে স্ত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় এক সহযোগীসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে গাজীপুর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

গতকাল শুক্রবার (৬ আগস্ট) রাত ২টায় তাকওয়া পরিবহনে নারী দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়। এ ঘটনায় ওই নারী বাদী হয়ে শনিবার (৬ আগস্ট) শ্রীপুর থানায় মামলা দায়ের করে। শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আজিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শ্রীপুর থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই নারী তার স্বামীকে নিয়ে শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টায় গাজীপুরের ভোগড়া-বাইপাস থেকে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার স্কয়ার মাষ্টারবাড়ী যাওয়ার উদ্দেশ্যে তাকওয়া পরিবহনে উঠে। ওই পরিবহনটি গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তায় আসলে সকল যাত্রীকে নামিয়ে দেয়। পরে ওই নারী ও তার স্বামীকে নিয়ে শ্রীপুরের মাওনার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। রাত ২টার দিকে বাসটি মাওনা চৌরাস্তা পৌঁছার আগে নারীর স্বামীকে জোর করে নামিয়ে দেয়। এদিকে ওই নারীর স্বামী ঘটনাটি শ্রীপুর থানা পুলিশকে জানালে তারা খোঁজ নিতে থাকে। পরে বাসটি মাওনা উড়াল সেতুর নিচ দিয়ে ইউটার্ন নিয়ে আবার গাজীপুরের দিকে রওনা দেয়। এসময় গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুর আসা পর্যন্ত বাসে থাকা ৫ জন লোক তাকে জোরপূূর্বক ধর্ষণ করে। পরে তাকে রাজেন্দ্রপুরের কোনো এক জায়গায় নামিয়ে দিয়ে বাসটি গাজীপুরের দিকে চলে যায়। পরে ধর্ষিত নারী হাঁটতে হাঁটতে জয়দেবপুর থানায় গিয়ে ঘটনা জানালে শ্রীপুর, জয়দেবপুর ও গাজীপুর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তারে তৎপরতা চালায়। পরে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এক সহযোগীসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করে গাজীপুর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

উল্লেখ্য, গত ২ আগস্ট রাতে কুষ্টিয়া থেকে ঈগল এক্সপ্রেসের একটি বাস অন্তত ২৪ জন যাত্রী নিয়ে নারায়ণগঞ্জের দিকে রওনা হয়। পরে রাত ১১টার দিকে সিরাজগঞ্জের একটি হোটেলে খাবারের জন্য বিরতি দেওয়া হয়। সেখান থেকে যাওয়ার পর ৩ দফায় ১০ জন যাত্রী সেজে বাসে উঠেন ডাকালের সদস্যরা। বাসটি বঙ্গবন্ধু সেতু পার হওয়ার পর আনুমানিক রাত দেড়টার দিকে যাত্রীরা ঘুমানোর এক পর্যায়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের টাঙ্গাইলের নাটিয়াপাড়া এলাকা পৌঁছালে ডাকাত দলের সদস্যরা অস্ত্র নিয়ে পুরো বাসের নিয়ন্ত্রণ নেন। প্রথমে পুরুষ যাত্রীদেরকে তাদের পোশাক খুলে হাত মুখ বাধা হয়।

অপরদিকে নারী যাত্রীদেরকে বাসের পর্দা ও সিটের কভারখুলে মুখ এবং হাত বেঁধে ফেলা হয়। পরে অস্ত্রের মুখে বাসের চালক ও হেলপারকে জিম্মি করা হয়। টাঙ্গাইলের গোড়াই এলাকা থেকে বাসটিকে ইউর্টান করে এলেঙ্গা হয়ে ময়মনসিংহ রোড ধরে যেতে থাকে। এরই মধ্যে যাত্রীদের কাছে থাকা মোবাইল, টাকা, কানের দুল, হাতের বালা, গলার চেইন লুট করে নেয়া হয়। পরে ৫ থেকে ৬ জন ডাকাত দলবদ্ধভাবে গাড়িতে থাকা এক নারীকে ধর্ষণ করে। রাত সাড়ে

৩টার দিকে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার রক্তিপাড়া জামে মসজিদের পাশে বালুর ঢিবির কাছে বাসের গতি থামিয়ে পালিয়ে যায়।

সূত্র: আরটিভি
এম ইউ/০৭ আগস্ট ২০২২

Back to top button