সিলেট

সিলেটে পেট্রল পাম্প বন্ধ, তেল না পেয়ে সড়ক অবরোধ

সিলেট, ৬ আগস্ট – জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির খবরে সিলেটের পেট্রলপাম্পগুলো শুক্রবার রাত ৯টা থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের জন্য তেল ক্রয় করতে আসা ভোক্তারা পড়েছেন চরম বিপাকে। এ নিয়ে পাম্পগুলোতে ঘটছে হুলুস্থুল কাণ্ড। নগরীর প্রতিটি পাম্পে বিভিন্ন যানবাহন ও মোটরসাইকেল চালকদের ব্যাপক ভিড় দেখা গেছে।

এর প্রতিবাদ সিলেট নগরের পাঠানটুলা এলাকায় ‘নর্থইস্ট ওয়েল পেট্রলপাম্প ও নর্থইস্ট সিএনজি রি-ফুয়েলিং স্টেশন’ এ তেল না পেয়ে সড়ক অবরোধ করে রাখেছেন কয়েক শতাধিক যানবাহন ও মোটরসাইকেল চালক। একই অবস্থা নগরের বন্দরবাজার, সোবহানীঘাট ও আম্বরখানা এলাকায় পেট্রলপাম্পগুলোতে। এর ফলে নগরের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ হওয়ায় শত শত যানবাহন সড়কগুলোতে আটকেপড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকে।

জ্বালানি তেল নেই- এই অজুহাতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে দিয়ে এর মালিকরা নিজেদের মুঠোফোন বন্ধ করে দিয়েছেন। আর তেল ক্রয় করতে আসা যানবাহনের চালক ও মালিকরা বলছেন অধিক মুনাফার লোভে ভোক্তাদের জিম্মি করেছেন জ্বালানি ব্যবসায়ীরা। পাম্পগুলো বন্ধ থাকায় গ্যাসচালিত যানবাহনগুলো গ্যাস পাচ্ছে না। এ নিয়ে এক ধরনের অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নগরের পাঠানটুলাস্থ ‘নর্থইস্ট ওয়েল পেট্রলপাম্প ও নর্থইস্ট সিএনজি রি-ফুয়েলিং স্টেশন’ বন্ধ করেন মালিকপক্ষ। এরপরই সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের পাঠানটুলা পেট্রলপাম্পের সামনে রাস্তায় টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে লোকজন সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এসময় বিক্ষোভকারীরা ‘দে দে তেল দে’, ‘পেট্রলপাম্প বন্ধ কেন’, ‘হঠাৎ করে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লো কেন জবাব দে, নইলে গদি ছেড়ে দে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

রাত সাড়ে ১২টায় ঘটনাস্থলে থাকা সিলেট নগরের দক্ষিণ বাগবাড়ি এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী সাজন রায় সাজু জাগো নিউজকে জানান, তিনি মোটরসাইকেল নিয়ে রাত পৌনে ১০টায় নগরের পাঠানটুলাস্থ ‘নর্থইস্ট ওয়েল পেট্রলপাম্প ও নর্থইস্ট সিএনজি রি-ফুয়েলিং স্টেশন’ এ মোটরসাইকেলে পেট্রল নিতে এসেছি। কিন্তু পাম্পটি বন্ধ পেয়েছি। পাম্প কর্তৃপক্ষ এটি বন্ধ করে চলে গেছেন। কিন্তু মূল কথা হচ্ছে তেলের দাম বাড়ার খবরে অধিক মুনাফার লোভেই পাম্পটি বন্ধ করা হয়েছে। তেল না থাকলে তো তারা মেশিন অন করে দেখাতে পারতেন জ্বালানি তেল শেষ। এই পাম্পে সিএনজিও বিক্রি করা হয়। কিন্তু পাম্প বন্ধ থাকায় গ্যাস নিতে আসা যানবাহনগুলোর চালকরাও বিপাকে পড়েছেন।

একটি বহুমুখী প্রাইভেট কোম্পানির সেলস রিপ্রেজেনটেটিভ হিসেবে কাজ করা মো. আরিফুজ্জামান রবিন জাগো নিউজকে বলেন, সরকার হঠাৎ করে পেট্রলের দাম ৩৫ থেকে ৪০ টাকা প্রতি লিটারে বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে, যা অস্বাভাবিক। এরপর থেকে পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেলও পাওয়া যাচ্ছে না। পেট্রল ফুরিয়ে যাওয়ায় বাইক নিয়ে বিপাকে পড়েছি । অবরোধের কারণে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের পাঠানটুলা এলাকায় যানজটে আটকেপড়া ট্রাকচালক সোহেল রানা জাগো নিউজকে বলেন, রাত সোয়া ১০টা থেকে অবরোধের কারণে এখানে আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা ধরে বসে আছি। ঢাকা থেকে বোতলজাত পানি নিয়ে সিলেটের কাজিরবাজার যাচ্ছি। কিন্তু অবরোধের কারণে পাঠানটুলা থেকে বের হতে পারছি না।

এ বিষয়ে ঘটনাস্থলে থাকা সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলী মাহমুদ মিঞা জাগো নিউজকে রাত সোয়া ১২টায় বলেন, পেট্রলপাম্প বন্ধ থাকায় অনেক লোক সড়ক অবরোধ করে রেখেছেন। ‘নর্থইস্ট ওয়েল পেট্রলপাম্প ও নর্থইস্ট সিএনজি রি-ফুয়েলিং স্টেশন’ বন্ধ করে মালিকপক্ষ মুঠোফোন বন্ধ করে রেখেছেন। এ অবস্থায় পাম্পের মালিক জুবায়ের আহমদ চৌধুরীকে পাচ্ছি না। আবার কিছু পাম্পের মালিকরা বলছেন কোম্পানি থেকে তেল কম পাওয়ায় তাদের তেল শেষ হয়ে গেছে। এ অবস্থা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সরকার বিষয়টি দেখছে। আমরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছি। আশা করি আগামীকাল এই সমস্যার সমাধান হবে।

এ বিষয়ে জানতে ‘নর্থইস্ট ওয়েল পেট্রলপাম্প ও নর্থ ইস্ট সিএনজি রি-ফুয়েলিং স্টেশন’র মালিক জুবায়ের আহমদ চৌধুরীর মুঠোফোনে রাত ১২ থেকে একাধিকবার কল করা হলও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

সূত্র: জাগোনিউজ
আইএ/ ৬ আগস্ট ২০২২

Back to top button