জাতীয়

ঢাকা উত্তরের চেয়ে দক্ষিণের বরাদ্দ অর্ধেকেরও কম

রাশেদুল হাসান

ঢাকা, ০৫ আগস্ট – ২০২০ সালে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচিত হওয়ার পরে ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করেন মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস। সেখানে তিনি সরকার ও বৈদেশিক অর্থ সহায়তা প্রত্যাশা করেন ৪ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা। এর বিপরীতে তিনি পান মাত্র ৬৪১ কোটি ২৯ লাখ টাকা। পরের অর্থবছরে (২০২১-২২) সিটি করপোরেশনটি সরকার ও বৈদেশিক অর্থ সহায়তার প্রত্যাশা ছিল ৪ হাজার ৮২৯ কোটি টাকা, আর পেয়েছে মাত্র ৫৯৩ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।

দক্ষিণ সিটির গত দুই অর্থ বছরের বাজেট বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সিটি করপোরেশনটি গত দুই অর্থবছরেই সবচেয়ে কম সরকারি বরাদ্দ ও বৈদেশিক অর্থ সহায়তা পেয়েছে। অথচ একই শহরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ২০২০-২১ ও ২০২১-২২ অর্থবছরে সরকার ও বৈদেশিক অর্থ সহায়তা পেয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ২৪০ কোটি টাকা ও ১ হাজার ৪২৪ কোটি টাকা; যা দক্ষিণ সিটির তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।

যেখানে সরকারি ও বৈদেশিক উৎস হতে খোদ এই সিটি করপোরেশনই ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১ হাজার ১৮১ কোটি ৫০ লাখ টাকা, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১ হাজার ১৭৭ কোটি ২২ লাখ টাকা, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১ হাজার ৮৭১ কোটি ২০ লাখ টাকা পেয়েছিল।

করোনা মহামারিতেও গত দুই অর্থবছরে রেকর্ড ৬৮৩ কোটি ও ৮৮৩ কোটি টাকা আদায় করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। অন্যদিকে এই দুই অর্থবছরেই ঘোষিত বাজেটের ২৯ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে সংস্থাটির। সিটি করপোরেশনটিতে গত ২০২১-২২ অর্থবছরে ৬ হাজার ৫৯৩ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র ১ হাজার ৯২৩ কোটি টাকার বাজেট। এর আগের অর্থবছরেও ৬ হাজার ৪৯ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়। কিন্তু বাস্তবায়ন হয় মাত্র ১ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকা।

আর আর্থিক কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নেও পিছিয়ে পড়েছে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। শাহবাগে অবস্থিত শিশুপার্ক গত ২০১৮ সাল থেকে বন্ধ। এই পার্কটি নতুন করে ‘হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী শিশুপার্ক’ নামে করার একটি প্রকল্প জমা দেওয়া হলেও পাস হয়নি। খাল পুনরূদ্ধার, সংস্কার ও নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টি নামে আরেকটি প্রকল্পও অনুমোদন হয়নি।

২০২১-২২ অর্থবছরে ডিএসসিসি তাই নিজস্ব বাজেট থেকে উন্নয়ন খাতে ব্যয় করেছে ৩০৯ কোটি টাকা। ডিএসসিসি ২০২১-২২ অর্থবছরে পেয়েছে ১ হাজার ২৪০ কোটি টাকা। ২০২০-২১ অর্থবছরে পেয়েছিল ১ হাজার ৪২৪ কোটি টাকা।

বর্তমানে দক্ষিণ সিটির কয়েকটি প্রকল্প যেমন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন আঞ্চলিক অফিস নির্মাণ, ওয়ার্ডভিত্তিক সামাজিক অনুষ্ঠান কেন্দ্র নির্মাণ, করপোরেশনের আওতাধীন ট্রাফিক সিগনালসহ চৌরাস্তাগুলোর উন্নয়ন, নবগঠিত অঞ্চল ও কতিপয় পুরাতন অঞ্চলে এলইডি লাইট স্থাপন ও উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায়।

এর সঙ্গে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র নির্মাণ (৫০ তলা) এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় কেন্দ্রীয় বাণিজ্যিক অঞ্চল নির্মাণ প্রকল্প।

বৃহস্পতিবার (৪ আগস্ট) সিটি করপোরেশনের বাজেট নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, ‘মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর দুই বছর অতিবাহিত হয়েছে। এ সময়ে কোনও প্রকল্প অনুমোদন পাইনি। নিজস্ব আয় দিয়ে সংস্থার পরিচালন ব্যয়, সেবা নিশ্চিতকরণ ও উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘চারটি খাল নিয়ে গঠিত একটি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে ওই খালগুলোর টেকসই উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।’

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন
এম ইউ/০৫ আগস্ট ২০২২

Back to top button