সিলেট

দুই মামলায়ই প্রধান আসামি আ. লীগ নেতার ভাতিজা

সিলেট, ৩ আগস্ট – সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক নারী ইন্টার্ন চিকিৎসককে উত্ত্যক্ত ও দুই শিক্ষার্থীর ওপর হামলার ঘটনায় মঙ্গলবার (২ আগস্ট) দুটি পৃথক মামলা হয়েছে। হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও কলেজ অধ্যক্ষের পিএ বাদী হয়ে পৃথক মামলা দুটি করেন। মামলায় ৮ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ৮ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।

দুটো মামলাতেই প্রধান আসামি করা হয়েছে মো. আব্দুল্লাহ (এ এইচ আব্দুল্লাহ) নামের এক যুবককে। তিনি সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সিলেট সিটি করপোরেশনের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল খালিকের ভাতিজা। ওসমানী হাসপাতাল সংলগ্ন নগরের কাজলশাহ এলাকায় তাদের বাসা।

আব্দুল্লাহ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে। তবে দলে তার কোনো পদ নেই। মহানগর ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে তার ছবি ফেসবুকে ঘুরতে দেখা গেছে।নারী ইন্টার্ন চিকিৎসককে লাঞ্ছিতের ঘটনায় মঙ্গলবার কতোয়ালি থানায় মামলা করেন হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ হানিফ। মামলায় মো. আব্দুল্লাহর নাম উল্লেখ করে আরও ৩/৪ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, আব্দুল্লাহর নেতৃত্বেই অভিযুক্তরা ৩০ জুলাই রাত ৯টায় হাসপাতালের চতুর্থ তলায় তিন নম্বর ওয়ার্ডে দায়িত্বরত ইন্টার্ন চিকিৎসকের সঙ্গে অশালীন কথা বলার এক পর্যায়ে অসৎ উদ্দেশ্যে ওই নারী চিকিৎসকের শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে উত্ত্যক্ত করেন। এ সময় ওই ইন্টার্ন চিকিৎসক চিৎকার করলে আসামিরা পালিয়ে যান।

এছাড়া শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলার বাদী হয়েছেন ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের পিএ ও সচিব মো. মাহমুদুর রশিদ। এই মামলায়ও প্রধান আসামি মো. আব্দুল্লাহ।অপর আসামিরা হলেন- ৩ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোহিদ হাসান রাব্বি, এহসান আহম্মদ, মামুন, সাজন, সুজন ও সামি।

এ মামলার এজাহারে বলা হয়, সোমবার (১ আগস্ট) রাত ৯টায় ওসমানী মেডিকেল কলেজের ১ নম্বর গেটের ভেতরে পরমাণু চিকিৎসা কেন্দ্র সংলগ্ন রাস্তায় ১ নম্বর আসামি আব্দুল্লাহর নেতৃত্বে অপর আসামিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ওসমানী মেডিকেল কলেজের অভ্যন্তরে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে। এক পর্যায়ে আসামিরা কলেজের ৫৬ ব্যাচের ছাত্র নাইমুর রহমান ইমন ও ৫৮ ব্যাচের ছাত্র রুদ্র নাথকে হত্যার উদ্দেশ্যে তাদের ওপর হামলা করে লাঠি ও রড দিয়ে উপর্যুপুরি আঘাত করে গুরুতর জখম করে।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, মো. আব্দুল্লাহর চাচা আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল খালিকের প্রভাবের কারণে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করছে নাতবে এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল খালিকের মুঠোফোনে কল দিলেও তিনি সাড়া দেননি।

এ বিষয়ে সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলী মাহমুদ মিঞা বলেন, ঘটনার পর সোমবার রাতেই আটক মোহিদ হাসান রাব্বি ও এহসান আহম্মদকে কলেজ প্রশাসনের দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে।

এছাড়া হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়ের করা ইন্টার্ন চিকিৎসককে উত্ত্যক্ত করার মামলার আসামি মো. আব্দুল্লাহসহ অন্যদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান ওসি।

এদিকে এ দুই ঘটনার প্রতিবাদে কর্মবিরতি পালন করছেন ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। একই ঘটনায় ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করেছেন ওসমানী মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা। ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতির কারণে হাসপাতালে আসা রোগী সাধারণরা চরম বিপাকে পড়েছেন।সোমবার রাতে কলেজের দুই শিক্ষার্থীর উপর হামলা হয়। আর দায়িত্বরত অবস্থায় এক নারী ইন্টার্ন চিকিৎসক লাঞ্ছিত হন গত শনিবার রাতে। হামলার প্রতিবাদে সোমবার রাত থেকে হাসপাতালের সামনের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরে ধর্মঘটের ডাক দিয়ে তাদের সঙ্গে যোগ দেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।

ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ডা. মতিউর রহমান বলেন, হামলাকারী সব আসামি গ্রেফতার এবং শিক্ষার্থী ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের নিরাপত্তায় দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়ার আগ পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব। সেবা দিতে এসে আমরা হামলা ও হয়রানির শিকার হতে রাজি না।

এদিকে মঙ্গলবার বিকেলে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ময়নুল হক, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুর রহমান ভূইয়া, সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন খান, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেনসহ কলেজ, হাসপাতাল ও পুলিশ প্রশাসন এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।

বৈঠক শেষে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুর রহমান ভূইয়া বলেন, আমরা ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের সব দাবির সঙ্গে একমত। তাদের দাবি পূরণে আমরা ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছি। তবে সব দাবি পূরণে কিছুটা সময় লাগবে। আমরা তাদের কাছে এই সময়টুকু চেয়েছি। এখনও আন্দোলনকারীদের বোঝানোর চেষ্টা চলছে। এছাড়া ইন্টার্ন চিকিৎসকরা ধর্মঘটের ডাক দিলেও হাসপাতালের সেবা অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র: জাগোনিউজ
আইএ/ ৩ আগস্ট ২০২২

Back to top button