ইউরোপ

তেলের দাম কমাতে মস্কোর আপত্তি

মস্কো, ০১ আগস্ট – ওপেক প্লাস গ্রুপের সদস্য তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো আগামী বুধবার একটি বৈঠকে বসতে যাচ্ছে। উদ্দেশ্য বাজার ব্যবস্থাপনার পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে একটি একক সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া। এতে বিশেষ করে দাম কমাতে আরও তেল উত্তোলন এবং ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি মোকাবিলায় সহায়তার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। তবে ওপেক প্লাসের এমন প্রস্তাবে রাশিয়ার সায় নেই বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ব্লুমবার্গ। জোটের সদস্য দেশগুলো দৈনিক প্রায় ২.৭ মিলিয়ন ব্যারেল উত্তোলন করেছে, যা গত মে মাসের পরিকল্পনার চেয়েও কম।

গত ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেন অভিযানের পর রুশ সরবরাহ থেকে দূরে সরে যেতে শুরু করে ইউরোপীয় ক্রেতারা। তবে ভারতে জ্বালানি রপ্তানির পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়ায় পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার নেতিবাচক প্রভাবের শতভাগ মস্কোর ওপর পড়েনি। অবশ্য ইউরোপীয় বাজারে রাশিয়ার যে ক্ষতি হয়েছে, সেটি পুরোপুরি সামাল দেওয়া দিল্লির পক্ষে সম্ভব হয়নি। রাশিয়া অবশ্য চীনেও বিপুল পরিমাণে তেল রপ্তানি করছে। এ নিয়ে চীনের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমারা।

এদিকে জ্বালানি উৎপাদন বাড়াতে ওপেক প্লাস জোটের ওপর চাপ বাড়ছে। এ মাসের গোড়ার দিকে সৌদি আরব সফরে গিয়ে ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি কমানোর জন্য উত্তোলন আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। আগামী বুধবারের বৈঠক হবে জোটের সদস্য দেশগুলোর জন্য এ নিয়ে আলোচনার একটি সুযোগ। ব্লুমবার্গ বলছে, শুধু সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতেরই উল্লেখযোগ্য অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতা রয়েছে। তারপরও তারা কতটা করতে পারে তা নিয়ে এখনো প্রশ্ন রয়েছে। এখন পর্যন্ত ওপেক প্লাসভুক্ত দেশগুলোর পক্ষ থেকে তেলের উৎপাদন বাড়ানো প্রসঙ্গে পৃথক কোনো বিবৃতি আসেনি।

তেল উৎপাদক অন্য দেশগুলো এখন তাদের উৎপাদন আগের মতোই রেখেছে। ওয়াশিংটনের চাপ থাকা সত্ত্বেও তেলের উৎপাদন না বাড়ানোয় বিশেষ করে ইউরোপের বাজারে প্রতিদিন তেলের দাম বাড়ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইউরোপের নেতারা জ্বালানির বিকল্প উৎস সন্ধান করছে। এক্ষেত্রে তাদের পছন্দের তালিকার শীর্ষে আছে আফ্রিকা। মধ্যপ্রাচ্যের তেলের তুলনায় আফ্রিকান তেল নিম্নমানের হওয়ায়, একে পরিশোধিত করে ইউরোপের বাজারে চালাতে গেলে অনেক বাড়তি অর্থ গুনতে হবে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে।

সূত্র: দেশ রূপান্তর
এম ইউ/০১ আগস্ট ২০২২

Back to top button