ইউরোপ

ইউক্রেনের শস্যবাহী প্রথম জাহাজ সোমবার বন্দর ছাড়বে

আঙ্কারা, ৩১ জুলাই – রুশ আগ্রাসনের বাস্তবতায় ইউক্রেনের কৃষ্ণসাগরীয় বন্দর থেকে শস্যবাহী জাহাজ পরিবহনে তৈরি হওয়া অচলাবস্থা কাটতে যাচ্ছে। সম্প্রতি এ নিয়ে জাতিসংঘ ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় একটি চুক্তিতে উপনীত হয় কিয়েভ ও মস্কো। এর মধ্যেই রবিবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ানের মুখপাত্র ইব্রাহিম কালিন বলেছেন, সোমবার ইউক্রেনের প্রথম শস্যবাহী জাহাজটি ছেড়ে যাবে। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।

ইব্রাহিম কালিন বলেন, আগামীকালের মধ্যে যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হলে প্রথম জাহাজটি হয়তো কালই ইউক্রেনের বন্দর ছেড়ে যেতে পারে।

এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, রুশ আগ্রাসনের ফলে এ বছর তার দেশের ফসল উৎপাদন স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অর্ধেকে নেমে আসতে পারে। রবিবার টুইটারে দেওয়া এক পোস্টে এমন আশঙ্কার কথা জানান তিনি।

ইউক্রেন বিশ্বের চতুর্থ খাদ্যশস্য রফতানিকারক দেশ। বিশ্বের ৪২ ভাগ সূর্যমুখী তেল উৎপাদন হয় এই দেশটিতে। এছাড়া মোট ভুট্টার ১৬ শতাংশ এবং গমের ৯ শতাংশ উৎপাদন করে দেশটি। এই যুদ্ধের জেরে বিশ্বে গমের সবচেয়ে বড় রফতানিকারক রাশিয়া থেকেও রফতানি কমে গেছে।

রাশিয়ার কৃষির ওপর কোনও নিষেধাজ্ঞা পশ্চিমারা দেয়নি। তবে পেমেন্ট সিস্টেমে প্রভাব পড়ার পাশাপাশি ইন্স্যুরেন্স ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে মস্কোর রফতানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন।

রাশিয়ার কৃষিপণ্যবাহী জাহাজগুলোকেও ইউরোপের বন্দরগুলোতে এখনও কোনও বাধা দেওয়া হচ্ছে না। আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক জানিয়েছে, আফ্রিকার প্রয়োজনীয় গমের ৪০ ভাগই সরবরাহ করে রাশিয়া ও ইউক্রেন। কিন্তু যুদ্ধের কারণে প্রায় তিন কোটি টন খাদ্যের ঘাটতি তৈরি হয়েছে আফ্রিকায়। যার ফলে পুরো মহাদেশজুড়ে খাবারের দাম বেড়েছে ৪০ শতাংশ। নাইজেরিয়ায় পাস্তা ও ব্রেডের দাম বেড়েছে অন্তত ৫০ শতাংশ। সিরিয়া ইউক্রেনের গমের আরেক বড় ক্রেতা দেশ। সেখানে ব্রেডের দাম দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এমন বাস্তবতায় গত কয়েক মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো কৃষ্ণসাগরীয় বন্দর থেকে ইউক্রেনের শস্যবাহী জাহাজ ছেড়ে যাওয়ার খবরকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন
এম ইউ/৩১ জুলাই ২০২২

Back to top button